কোরআন এবং বীর্যের অবস্থান

ভূমিকা

কোরআনের সূরা আত-তারিক এর আয়াত ৬-৭ অনুযায়ী, পুরুষের বীর্য নির্গত হয় তার মেরুদন্ড এবং বুকের পাঁজরের মধ্য থেকে। তবে, বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে।

মানুষের বীর্য চারটি গ্রন্থির উৎপাদিত বস্তু দ্বারা গঠিত : অন্ডকোষ শুক্রাণু বা পুংজননকোষ উৎপাদন করে, সেই শুক্রাণু যে তরলে বাহিত হয় তা আসে সেমিনাল ভেসিকল (মূত্রথলির পেছনে), প্রোস্টেট গ্রন্থি (মূত্রথলির নিচে) এবং বালবোইউরেথাল গ্রন্থি (মূত্রথলির নিচে) থেকে। এই চারটি গ্রন্থির একটারও অবস্থান মেরুদন্ড এবং বুকের পাঁজরের মধ্যে নয়। অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে কোরআন বীর্যের অবস্থান সম্পর্কে ভুল তথ্য দেয়।

বীর্য কিভাবে কোথা থেকে আসে এবং শরীরের কোন অবস্থান দিয়ে নির্গত হয় বা সেই অবস্থান আসলেই মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে পড়ে কিনা তা আসুন নিচে উল্লেখিত ভিডিও থেকে দেখে নেই :

অনেকেই চেষ্টা করেছেন কোরআনের আয়াত ৮৬:৬-৭ এর সালব এবং তারাইব এর মধ্য থেকে বীর্য নির্গত হওয়ার কোরানিক তথ্যকে সঠিক প্রমাণ করার। যার ফলে একাধিক স্বতন্ত্র শ্রেণীর ব্যাখ্যা তৈরি হয়েছে যা তারা প্রদান করেছেন। তবে তাদের জন্য দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, তাদের সকল দাবিই দূর্বল।

কোরআন ৮৬:৬-৭

86:6

خُلِقَ مِن مَّآءٍ دَافِقٍ

তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে দ্রুতবেগে নির্গত পানি থেকে।

Pickthal: He is created from a gushing fluid

Qur’an 86:6

86:7

يَخْرُجُ مِنۢ بَيْنِ الصُّلْبِ وَالتَّرَآئِبِ

যা বের হয় মেরুদন্ড ও বুকের হাঁড়ের মধ্য থেকে

Yusuf Ali: proceeding from between the backbone and the ribs.

Pickthal: that issued from between the loins and ribs.

Arberry: issuing between the loins and the breast-bones.

Shakir: coming from between the back and the ribs.

Sarwar: which comes out of the loins and ribs.

Khalifa: from between the spine and the viscera.

Hilali/Khan: proceeding from between the back-bone and the ribs.

Malik: that is produced from between the loins and the ribs.

QXP: that issued from between tough rocks and mingled dust.

Maulana Ali: coming from between the back and the ribs.

Free Minds: it comes out from between the spine and the testicles.

Qur’an Text/Transliteration 86:7

ইংরেজি শব্দ ‘Loins’

ইসলামিক ওয়েবসাইট সমূহ নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজি অনুবাদে ‘Loins’ শব্দটি আপনাকে দেখাবে এবং তা আধুনিক ইউফেমেস্টিক অর্থে পুরুষের যৌনাঙ্গ প্রকাশ করে বলে আপনাকে বোঝাতে চাইবে। তবে এই অর্থ মূল অর্থের নিকট গৌণ, যা হচ্ছে পিঠের মেরুদন্ড অঞ্চল, যেভাবে Oxford Dictionary তে সংজ্ঞায়িত :

Loin, n

1.
a. জীবিত শরীরে প্রধানত মানুষ অথবা চতুষ্পদী প্রাণীর সেই অংশ বা অংশ সমূহ যা মেরুদন্ডীয় স্তম্ভের দুইপাশে অবস্থিত, অপ্রকৃত পাঁজর এবং পাছার হাড়ের মাঝের অংশ।

শব্দটির ইউফেমেস্টিক অর্থ Oxford Dictionary তে সংজ্ঞায়িত হয়েছে এভাবে :

2.
a. শরীরের সেই অংশ যা কাপড় দিয়ে ঢাকা উচিত এবং যার নিকট কাপড় বাধ্যতামূলক।

Lane’s Lexicon এ আরবি শব্দ ‘সালব’ সংজ্ঞায়িত হয়েছে এভাবে :

মেরুদন্ড ধারণকারী পিঠের যেকোনো অংশ [1]

অন্যান্য আয়াত এবং হাদিসের প্রমাণ

কোরআনে আরবি শব্দ ‘সালব’ দ্বারা যে পিঠ বা মেরুদন্ড বুঝানো হয়েছে তার সমর্থন পাওয়া যায় আরেকটি আয়াতে যা পিঠ বা মেরুদন্ডের জন্য অন্য একটি শব্দ ব্যবহার করে। কোরআনের আয়াত ৭:১৭২ বলে, আদম সন্তানদের সন্তানরা তাদের পিঠ থেকে এসেছেন। ‘সালব’ এর পরিবর্তে এখানে ‘থাহর’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যার মানে হচ্ছে পিঠ। [2]

7:172

وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنۢ بَنِىٓ ءَادَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلٰىٓ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا بَلٰى ۛ شَهِدْنَآ ۛ أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيٰمَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هٰذَا غٰفِلِينَ

আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব বনী-আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের বংশধরকে বের করলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজদের উপর সাক্ষী করলেন যে, ‘আমি কি তোমাদের রব নই’? তারা বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিলাম।’ যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে, নিশ্চয় আমরা এ বিষয়ে অনবহিত ছিলাম।

আরও নিখুঁতভাবে সহিহ বুখারির একটি হাদিস (যা সহিহ মুসলিম ৩৯:৬৭৩৩ এও আছে) ‘সালব’ শব্দটি ব্যবহার করে বলে, মায়ের গর্ভে আসারও আগে আদমের বংশধরদের উৎস ছিলো তার পিঠ।

জান্নাত ও জাহান্নাম-এর বিবরণ।

বিভিন্ন ব্যাখ্যার বিশ্লেষণ

মরিস বুকাইলি

“কোরআনের আয়াত দুটি যৌনমিলন নিয়ে কথা বলে। আমি দীর্ঘ সময় ধরে আয়াত সমূহের অনুবাদ নিয়ে ভেবেছি এবং আমি কৃতজ্ঞ ড. গিরদ (সাবেক প্রফেসর, মেডিসিন অনুষদ, বৈরুত) এর প্রতি নিচে লিখিত ব্যাখ্যার জন্য :

‘মানুষ নির্মিত হয় ছুটে চলা তরল থেকে। তা নির্গত হয় পুরুষ এবং নারীর যৌনাঙ্গের মিলন থেকে।’

আরবি ‘সালব’ শব্দটি দ্বারা পুরুষের যৌনাঙ্গ নির্দেশিত হয়েছে এবং আরবি ‘তারাইব’ শব্দটি দ্বারা নারীর যৌনাঙ্গ আখ্যাত হয়েছে।”

যদিও প্রমাণ আছে যে ‘সালব’ শব্দটি ‘শক্ত’ বুঝাতে পারে, এবং এইভাবে ‘শিশ্ন’ বুঝাতে পারে, তবে ‘তারাইব’ শব্দটি ‘যোনী’ বুঝাতে পারে এমন কোনো প্রমাণ নেই। দেখা যাচ্ছে, মরিস এবং গিরদ কোনোরূপ সমর্থনকারী প্রমাণ ছাড়াই ধারনা করেছিলেন যে, ‘তারাইব’ শব্দটি নারীর যোনি বুঝাতে পারে। যদি ‘তারাইব’ শব্দটি দ্বারা তাই বুঝানো হয়ে থাকে যা মরিস এবং গিরদ বুঝাতে চেয়েছিলেন, তাহলেও ‘নারীর যৌনাঙ্গ’ শব্দটি অর্থপূর্ণ হওয়ার জন্য খুবি অনিশ্চিত। শব্দটির মানে ‘নারী যোনি’ ধারনা করা নিছক একটি ধারনা, যা Logical fallacy of Equivocation গঠন করে।

জাকির নায়েক

“মানুষকে গড়া হয়েছে মেরুন্ড এবং বুকের পাঁজরের মধ্যে থেকে একটি ফোটা থেকে।

‘অতএব মানুষের চিন্তা করে দেখা উচিৎ, তাকে কী থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে ? তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে দ্রুতবেগে নির্গত পানি থেকে। যা বের হয় মেরুদন্ড ও বুকের হাঁড়ের মধ্য থেকে।’ (কোরআন ৮৬:৫-৭)

ভ্রূণ পর্যায়ে, পুরুষ এবং নারীর প্রজনন অঙ্গ সমূহ, অর্থাৎ, অন্ডকোষ এবং ডিম্বাশয় কিডনির কাছে মেরুদন্ড ও একাদশ-দ্বাদশ পাঁজরের হাড়ের মাঝে তাদের ক্রমবিকাশ শুরু করে। তারপর তারা নেমে আসে, নারী ডিম্বাশয় শ্রোণীচক্রে থামে আর পুরুষ অন্ডকোষ জন্মের আগে অন্ডথলিতে পৌঁছাতে তাদের অবতরণ চালিয়ে যেতে থাকে। এমনকি প্রজনন অঙ্গ সমূহের অবতরণের পর প্রাপ্তবয়সেও এসব অঙ্গ তাদের স্নায়ু এবং রক্ত সরবরাহ পেটের ধমনী থেকে পায়, যা মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মধ্যে অবস্থিত। এমনকি লসিকাসংক্রান্ত নিষ্কাশন এবং শিরাস্থ পুনরাগমন একি এলাকা দিয়ে যায়।”

জাকির নায়েকের ভ্রূণবিদ্যা যথাযথ নয়। স্পার্মাটোগোনিয়ায় বিকশিত হওয়ার কোষ সমূহের অবস্থান কিডনি বরাবর উদরিক অংশের মধ্যস্থলে নয়, বরং কুসুমথলির মধ্যে :

Testes and ovaries are derived from the mesodermal epithelium (mesothelium) lining the posterior abdominal wall, the underlying mesenchyme and the primordial germ cells.

The primordial germ cells form in the wall of the yolk sac during week 4. They later migrate into the developing gonads at week 6 and differentiate into the definitive germ cells (oogonia / spermatogonia). [3]

যদি আমরা জাকির নায়েকের দাবি অনুযায়ী মেনেও নিই যে, আয়াতটি ভ্রূণ পর্যায়ের অন্ডকোষ নির্দেশ করে, তাও ব্যাপারটি নিশ্চিত নয় যে, গোনাড (অন্ডকোষ/ডিম্বাশয়) সেইখানে অবস্থান করে কিনা যেইখানে অবস্থান করে বলে তিনি দাবি করেছেন, অর্থাৎ যা মেরুদন্ড এবং বুকের পাঁজরের মধ্যে। নিচে উল্লেখিত মানব ভ্রূণের ডায়াগ্রামটি নাড়িতে বা নাড়ির কাছাকাছি অবস্থানে গোনাড (অন্ডকোষ/ডিম্বাশয়) এর অবস্থান তুলে ধরে :

বীর্য অন্ডকোষ ডিম্বাশয়

তাই এটি যথাযথভাবে সত্য নয় যে, ভ্রূণ অন্ডকোষ মেরুদন্ড এবং একাদশ-দ্বাদশ তম পাঁজরের হাড়ের মধ্যে অবস্থিত, যেহেতু Gonadal অথবা Genital ridge সাধারণত Mesonephros এর মধ্য থেকে নিচের দিকে থাকে এবং পরিণত কিডনি প্রকৃতপক্ষে Metanephros থেকে বিকশিত হয়।

পরিণত কিডনির অবস্থান থেকে ভ্রূণ গোনাডের অবস্থান নির্ণয় করা ভুল, যেহেতু ভ্রূণ পর্যায়ের গোনাড এবং কিডনির অবস্থান তাদের পরিণত পর্যায়ের অবস্থানের মতো এক নয়। গোনাড অবতরণ করে, যখন কিডনি বিস্তৃত হয় এবং উপরে উঠে। এটি উল্লেখ্য করা প্রয়োজন যে, উন্নয়নশীল গোনাড Mesonephros (ভ্রূণ পর্যায়ের কিডনি) বরাবর উদরিক অংশের মধ্যস্থলে অবস্থান করে এবং metanephros (যা বিকশিত হয়ে পরিণত কিডনিতে রূপ নিবে) বরাবর নয়। অতএব বলা যায়, জাকির নায়েক হয়তো মূত্রসংক্রান্ত ও জননাঙ্গসংক্রান্ত ব্যবস্থার ভ্রূণতত্ত্ব সম্পর্কে জানেন না এবং Mesonephros ও Metanephros কে আলাদা করতে পারেন না।

যদি আমরা জাকির নায়েকের নির্দেশিত ভ্রূণ এবং পরিণত পর্যায়ের শরীরবৃত্তীয় অবস্থান সমূহ মেনে নিই, তাও তিনি ভুল। কারণ Cryptorchidism এর ক্ষেত্রে যেখানে অন্ডকোষ নামেনি, সেই না নামা অন্ডকোষ সর্বোচ্চ কিডনির নিচে অবস্থান করে। [4]

উল্লেখ্য করা প্রয়োজন, কিডনির নিম্নতর মেরু L3 (তৃতীয় কটিদেশীয় কশেরূকা) এর কাছাকাছি অবস্থান করে। অতএব, ভ্রূণ অন্ডকোষের অবস্থান অবশ্যই L3 এর নিচে হবে। ১২ তম পাঁজর আবার L2 এর নিচে পৌঁছায় না। যেহেতু অন্ডকোষ কিডনির নিচে, সেহেতু ভ্রূণ এবং পরিণত উভয় পর্যায়েই অন্ডকোষের মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মাঝে অবস্থান করার কোনো উপায় নেই।

“মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মাঝখান থেকে দ্রুতবেগে নির্গত পানি” মানে ভ্রূণের বিকাশ নির্দেশ করে বলে ব্যাখ্যা করাটা বোধহয় গোপন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেননা “একটি ফোটা নির্গত হওয়া” পুরোপুরিভাবে বিকশিত এবং কার্মিক অন্ডকোষের ধারনা দেয়। ভ্রূণ অন্ডকোষ কোনো পদার্থ নির্গত কিংবা প্রবাহ করে না।

জাকির নায়েকের মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মধ্যে অবস্থিত পেটের মহাধমনী থেকে স্নায়ু এবং রক্ত সরবরাহ হওয়া এবং সেই এলাকা দিয়ে লসিকাসংক্রান্ত নিষ্কাশন ও শিরাস্থ পুনরাগমনের ব্যাখ্যা একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক, যা Logical fallacy of the Red Herring গঠন করে। কারণ আলোচ্য আয়াত ৮৬:৬ নির্গত পানির ব্যাপারে বলে, যা প্রচলিতভাবে বীর্য বুঝায় এবং কেবল বীর্যই বুঝাতে পারে। বীর্য দ্রুতবেগে পুরুষ দেহ থেকে নির্গত হয় এবং সরাসরি মানব প্রজননের জন্য দায়ী। আলোচ্য আয়াত অনুযায়ী, সেই দ্রুতবেগে নির্গত হওয়া পানিও সরাসরি মানব প্রজননের জন্য দায়ী। তাই, সরাসরি মানব প্রজননের দায়ী সেই নির্গত পানি অবশ্যই বীর্য নির্দেশ করে, এবং অবশ্যই স্নায়ু সংকেত, রক্ত অথবা লসিকা নির্দেশ করেনা।

তাছাড়া, মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মধ্যে অবস্থিত পেটের মহাধমনী থেকে স্নায়ু সংকেত এবং রক্ত সরবরাহ হওয়ার মানে এই নয় যে, বীর্য মেরুদন্ড এবং পাঁজরের মধ্যে অবস্থিত পেটের মহাধমনী থেকে আসে।

ধরা যাক, আপনি একটি চায়ের পাত্রে চা বানাচ্ছেন এবং সেইজন্য চিনির বয়াম থেকে চিনি এবং দুধের বয়াম থেকে দুধ নিয়ে পাত্রে ঢাললেন। তৈরিকৃত চা চায়ের কাপে ঢালাকে আমরা কি বলবো? আমরা কি বলবো, চা চায়ের পাত্র থেকে পড়ছে নাকি আমরা বলবো, চা চিনির বা দুধের বয়াম থেকে পড়ছে? উত্তরটা আপনার কাছে অবোধ্য নয়।

মুহাম্মদ আসাদ

“(৫) অতএব মানুষ চিন্তা করে দেখুক সে কি দিয়ে সৃষ্টি হয়েছে
(৬) সে সৃষ্টি হয়েছে বীর্য তরল দিয়ে
(৭) যা পুরুষের কটিদেশ এবং নারীর শ্রোণী ঘোরের মধ্যে থেকে নির্গত হয়।

বহুবচন তারাইব, আমি ‘শ্রোণী ঘোর’ হিসেবে অনুবাদ করেছি, যার আরেকটি অর্থ হচ্ছে ‘পাঁজর’ বা ‘হাড়ের ঘোর’। (তাজ আল-আরুস)”

আসাদের নিজস্ব আবিষ্কৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী আরবি শব্দ ‘তারাইব’ এর অর্থ ‘শ্রোণী ঘোর’, যা কোনোভাবেই সত্য নয়। ‘তারাইব’ শব্দের অর্থ ‘শ্রোণী ঘোর’, তার নিজস্ব কল্পনা ব্যতীত কিছুই না এবং তিনি এমন কোনো প্রমাণও দেখাতে পারেন নি যে ‘তারাইব’ শব্দের মানে ‘শ্রোণী ঘোর’ হতে পারে। ‘তারাইব’ শব্দের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে উচ্চতর পাঁজর। [5]

আরও নানারকম দাবি

“যেসব সেমিনাল ভেসিকল থেকে বীর্য নির্গত হয়, সেসব পাঁজর এবং কক্সিক্সের মাঝে অবস্থান করে (পিঠের নিচের অংশ, কটিদেশ, মেরুদন্ড)।”

একজন দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দেহতত্ত্ব অনুযায়ী, পাঁজর সেমিনাল ভেসিকল সমূহের উপরে অবস্থান করে যা কক্সিক্সের অগ্রভাগের উপর অবস্থান করে। যেহেতু সেমিনাল ভেসিকল সমূহের কেবল উপরিভাগ কক্সিক্স এবং পাঁজরের মধ্যে পড়ে সেহেতু প্রকৃতপক্ষে ভেসিকল কটিদেশ ও পাঁজরের মধ্যে পড়েনা [6]। তাছাড়াও এই দাবি প্রোস্টেট গ্রন্থি (বীর্যের ২৫-৩০% এর উৎস), টেস্টিস (২-৫%) এবং বালবোইউরেথাল গ্রন্থি (১% নাগাদ) সম্পর্কে এড়িয়ে যায়।

“আয়াতটি মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে থেকে বহির্গামী বাচ্চাকে নির্দেশ করেছে যা মায়ের মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করে। সুতরাং এখানে বাচ্চা সম্পর্কে বলা হয়েছে, বীর্য সম্পর্কে নয়।”

যদি জোর করে ধরেও নেই, আলোচ্য আয়াতে বীর্য নয়, বাচ্চাকে নির্দেশ করা হয়েছে তবুও আয়াতটি ভুল বলে বিবেচিত হবে। কেননা গর্ভকালে কোনোভাবেই তার মায়ের মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে অবস্থান করে না। সুতরাং ‘বাচ্চা তার মায়ের মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্যে থেকে আসে’ কথা টা গ্রহণযোগ্য নয়। এভাবে মায়ের গর্ভ থেকে একটি বাচ্চার নির্গমন সম্পর্কে বলতে হলে :মেরুদন্ড ও উদরের মধ্য থেকে আসে’ কথাটি উল্লেখ্য করতে হবে। তাছাড়া সকল মূখ্য অনুবাদেই আয়াত ৭ (এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে) অসম্পূর্ণ যা শুরু হয়েছে আয়াত ৬ (সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে) থেকে। সুতরাং এটি কোনোভাবেই বাচ্চা নির্দেশ করতে পারে না।

“জননকোষ যা পরে শুক্রাণু তে পরিণত হয় তা মেরুদন্ডের কাছাকাছি গঠিত হয়।”

দাবিটি একেবারেই ভ্রান্ত দাবি। কারণ, একটি spermatogonium থেকে একটি শুক্রাণু পর্যন্ত পুরো spermatogenesis প্রোসেস ঘটে অন্ডকোষে [7]।

উপসংহার

বাস্তব এবং তেতো সত্য যদি মেনে নেওয়ার সামর্থ্য থাকে তাহলে আপনাকে মেনে নিতেই হবে যে কোরআনের আয়াত ৮৬:৬-৭ ভুল তথ্য দেয়। কারণ বীর্য মেরুদন্ড ও পাঁজর বা কোমর ও পাঁজর যাই বলা হোক না কেন, এসব কোনো অবস্থান দিয়েই নির্গত হয় না।

1. sulb – Lane’s Lexicon Book I page 1712

2. thahr – Lane’s Lexicon Book I page 197

3. Taihung Duong, Ph.D., “Urogenital system embryology”, Indiana University School of Medicine, accessed February 9, 2014 (archived).

4. genetics basics

5. tara’ib – Lane’s Lexicon Book 1 page 301

6. For a visual reference, see this medical diagram. Taken from: “Reproductive Health Module (SECTION I: Reproductive Anatomy and Physiology)”, Columbia University: Mailman School of Public Health, accessed March 22, 2014 (archived).

7. Spermatogenesis

Facebook Comments

Marufur Rahman Khan

Atheist, Feminist

2 thoughts on “কোরআন এবং বীর্যের অবস্থান

  • October 1, 2018 at 3:58 pm
    Permalink

    The term islam is no more applicable for the muslims. Mohammad first picked up this word meaning “Shelter” for the followers of Moses, Jesus and Mohammad. Later he dissociated the first two. Mohammad declared whatever he found suitable for his rising to power, all however, in the name of allah. His extreme shortage of knowledge is reflected in the above suras of quran.

    Reply
  • October 3, 2018 at 5:52 am
    Permalink

    Dear Asif Bhai,
    লেখালেখির কারনে আমার ফেইসবুক ডিসেবেল করে দিয়েছে। কিভাবে আমি আমার আইডি ফিরে পাবো যদি জানান তাহলে খুব উপকার হবে। আপনি একদিন লাইভে বলেছিলেন মাতুব্বর ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করতে কিন্তু তার ইমেইল আইডি আমার কাছে নেই। আপনি কাইন্ডলি আমার সমস্যাটা তার কাছে একটু জানাবেন। আমার ফেইসবুকে অনেক লেখালেখি আছে যেগুলো আমার ফিরে পাওয়া দরকার। তাছাড়া বন্ধু তালিকায় অনেক মুক্তমনা মানুষ ছিল।

    ধন্যবাদ আপনাকে।
    জুয়েল রানা (ডেভিড)।

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: