বেহেশতের হুরীদের বিবরণ।

এই সেদিনই কয়েকজন ইসলামী জঙ্গি গুলশানে আক্রমণ করতে ঢুকে গেল। তারা ভালভাবেই জানতো, তারা সেখান থেকে জীবিত ফেরত আসতে পারবে না। সেসব জেনে বুঝেই তারা একের পর এক মানুষকে হত্যা করতে শুরু করলো। নির্মমভাবে জবাই দিলো এতগুলো জলজ্যান্ত মানুষকে। কিন্তু, এরকম কাজ একজন কেন করবে? নিজের জীবনের থেকে দামী মানুষের কাছে আর কী থাকতে পারে? কী সেই লোভ, যার লোভে এতগুলো তরতাজা তরুণ নিজেদের জীবন দিয়ে এই ধরণের ভয়ঙ্কর খেলায় মেতে উঠলো? তারা কেন এমনটা করলো?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে খুব খোলামেলাভাবে মুহাম্মদের জীবন পড়ে দেখতে হবে। এ ছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। মুহাম্মদ মক্কা থেকে বিতাড়িত হয়ে একটা দস্যু দল গঠন করেছিল, যাদের কাজই ছিল বাণিজ্য কাফেলার ওপরে আক্রমণ করে মালামাল লুট করা। দিনে দিনে শক্তি সঞ্চয় করছিল মুহাম্মদের জিহাদি সৈন্যরা। কিন্তু একটা বড় জিহাদি বাহিনীকে অনুগত রাখতে শুধুমাত্র খেজুর আর কয়েকটা দুম্বা দিয়ে লাভ হয় না। সে সময়ে মুহাম্মদ যুদ্ধে প্রাপ্ত গণিমতের মাল হিসেবে নারীদেরকেও ভাগ করে দিতো জিহাদিদের মধ্যে। কিন্তু সেভাবে খুব বেশি নারীকে যে তারা ভাগে পেতো তাও নয়। অনেক জিহাদিই সে সময়ে অসন্তুষ্ট ছিল তাদের ভাগে যথেষ্ট নারী যুদ্ধবন্দী না পাওয়ার জন্য। এসময়ে মুহাম্মদের প্রয়োজন ছিল, এমন কিছুর লোভ দেখানো, যা তারা কল্পনা করতে পারে না। যেই লোভের কারণে তারা মুহাম্মদের জন্য জীবন দিতে এতটুকু দ্বিধা করবে না। তাই সে সময়ে মুহাম্মদ তাদের লোভ দেখাতে শুরু করলো স্বর্গীয় বেশ্যার। যাদের সাথে মুহাম্মদের অনুগত জিহাদিরা অনন্তকাল সেক্স করতে পারবে। মাসের পর মাস তারা সেক্স করবে, কিন্তু সেই সেক্স শেষ হবে না। তারা ক্লান্ত হবে না, সেই বেশ্যারাও ক্লান্ত হবে না। কেমন হবে সেই বেশ্যারা? কেমন আকর্ষণীয় বর্ণনা দিয়েছিল মুহাম্মদ সেই সব বেশ্যাদের? যার কারণে মুহাম্মদের অনুসারী অনুগত বাহিনী মন্ত্রমুগ্ধের মত ঝাঁপিয়ে পরছিল কাফেরদের ওপর? জোসের সাথে কতল করেছিল কাফেরদের?

স্বর্গবেশ্যাদের শারীরিক বর্ণনা যা পাওয়া যায়, তা হচ্ছে অনেকটা এরকম-
১) প্রশস্থ এবং বড় চোখ-
তাদের কাছে থাকবে নত, আয়তলোচনা তরুণীগণ।
২) মুক্তার মত
আবরণে রক্ষিত মোতির ন্যায়
৩) ভ্রু এবং মাথার চুলছাড়া যাদের শরীরে কোন পশম থাকবে না। [Sunan al-Tirmidhi, hadith: 5638] ৪) পরিপূর্ণ স্তন্যের অধিকারী, সমবয়স্কা। কিছু অনুবাদকের ভাষায়, যেই স্তনে কখনো মানুষের স্পর্শ পড়ে নি। সুরাটির তাফসির পড়ুন এখান থেকে। এর তফসিরে বলা হয়েছে,

[*] كواعب শব্দটি كاعب-এর বহুবচন। যার অর্থ হল পায়ের গাঁট। যেমন গাঁট উঁচু হয়ে থাকে, ঠিক তেমনি তাদের স্তনগুলিও অনুরূপ উঁচু উঁচু হবে; যা তাদের রূপ-সৌন্দর্যের একটি সুদৃশ্য। (অর্থাৎ তারা সদ্য উদ্ভিন্ন স্তনের ষোড়শী তরুণী হবে।) أتراب শব্দের অর্থ হল সমবয়স্ক।
[ গ্রন্থঃ তাফসীরে আহসানুল বায়ান। অনুবাদঃ শায়েখ আব্দুল হামিদ ফাইজী ]

৪) আরও বলা আছে, অপূর্ব সুন্দরী, ভার্জিন, যারা পেশাব পায়খানা পর্যন্ত করবে না, মাসিক হবে না, যতই যৌন কর্ম করুক তারা কোনদিন গর্ভবতী হবে না। যেসব নারীর হাইমেন চির অক্ষত থাকবে অসংখ্যবার সেক্সের পরেও। অর্থাৎ তারা সতী থাকবে, যতবার সেক্সই তারা করুক না কেন।

তিরমিজী, অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা-১৩৮:
প্রত্যেক বেহেশতবাসীকে দেওয়া হবে ৭২টি অনিন্দ্য সুন্দরী হুরী তাদের ভোগের জন্য। বেহেশতবাসীরা যেকোন বয়সেই মারা যাক না কেন, তারা যখন বেহেশতে প্রবেশ করবে তখন তাদের বয়স হবে ৩০ বৎসরের যুবকের ন্যায় এবং তাদের বয়সে আর কোন পরিবর্তন হবে না; আর প্রত্যেক বেহেশতবাসীকে ১০০টি শক্তিশালী পুরুষের সমান যৌনশক্তি দান করা হবে।

সহি হাদিস, অধ্যায় ৪, পৃষ্ঠা-১৭২, নং ৩৪
হযরত আলী (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, নবী (সঃ) বলেছেন যে বেহেশতে একটি মস্তবড় খোলা বাজার থাকবে, যেখানে কোন কেনাবেচা হবে না। সেখানে শুধুই থাকবে অতিসুন্দরী উন্নতবক্ষা হুরীগণ, যারা ফলের দোকানের ন্যায় সেজেগুজে বসে থাকবে বেহেশতবাসীদেরকে আকর্ষণ করার জন্য। বেহেশতবাসীদের পছন্দ হলেই তৎক্ষণাৎ তারা সে হুরীর সঙ্গে যৌন কাজ শুরু করে দেবে ঠিক সেখানেই।

মিসকাত অধ্যায় ৩, পৃষ্ঠা-৮৩-৯৭
হুরীগণ এত বেশি সুন্দরী ও রূপসী হবে যে, তারা যদি আকাশের জানালা দিয়ে পৃথিবীর দিকে তাঁকায়, তাহলে সমস্ত দুনিয়া আলোকিত হবে এবং সুগ্রানে ভরে যাবে আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানের সব জায়গা। একজন হুরীর মুখমণ্ডল হবে আয়নার চেয়েও মসৃন বা পরিস্কার, যাতে নিজ চেহারা দেখতে পাবে এবং হুরীর পায়ের মজ্জা দেখা যাবে খালি চোখে।

তিরমিজি,অধ্যায় ২, পৃষ্ঠা ৩৫-৪০
একজন হুরী অনিন্দ্য সুন্দরী যুবতী, যার শরীর হবে আয়নার মত স্বচ্ছ বা মসৃন। তার পায়ের হাড়ের ভেতরের মজ্জা দেখতে পাওয়া যাবে যেন মনি-মুক্তার ভেতরে রেখার ন্যায়। তাকে মনে হবে একটি সাদা গ্লাসে রাখা লাল মদের ন্যায়। সে হবে সাদা রং-এর দুধে আলতা মিশানো, এবং তার কখনো হায়েজ (মাসিক), পেশাব, পায়খানা, গর্ভবতি হওয়া ইত্যাদি কিছুই হবে না। হুরি হবে অল্প-বয়স্কা, যার বক্ষ-যুগল হবে বড় বড় ও গোলাকার, যা কখনোই ঝুলে পড়বে না; সব সময় তীরের ন্যায় চোকা থাকবে। এসব হুরীগণ থাকবেন এক অতি উজ্জ্বল এবং জৌলুসপূর্ণ জায়গায়।

হাদিস নং ৪৩৩৭ ইবনে মাজাহ, ভলিউম-৫, পৃষ্ঠা-৫৪৭:
আবু ওমামা (রাঃ) বলেছেন যে আল্লাহর রসুল (দঃ) বলেছেন, “আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বেহেশতে স্থান দিবেন এবং প্রতিটি বেহেশতবাসীকে বিবাহ দিবেন ৭২টি অনিন্দ্য সুন্দরী রমণীর সঙ্গে; যাদের মধ্যে দুইজন হবে চিরকুমারি (virgin) আয়োতলোচনা এবং বড়-বড় চোখওয়ালা হুরী, এবং বাকী ৭০জন হবে উত্তরাধিকার, যা সে লাভ করবে দোজখবাসীদের হিস্যা থেকে বা গনীমতের মাল থেকে। প্রত্যেকটি সুন্দরী রমণী বা কন্যার থাকবে খুব সুখদায়ক যৌনাঙ্গ (pleasant vagina) এবং বেহেশতি পুরুষের যৌনাঙ্গ (penis) সর্বদাই শক্ত ও খাড়া হয়ে থাকবে (Permanent erection), কখনো বাঁকা হবে না যৌনতার সময়। অর্থাৎ মূলত পুরুষাঙ্গটি সবসময়ই হুরীদের যোনির ভেতরে প্রবিষ্ট থাকবে পালাক্রমে একের পর এক প্রায় ৭০ বৎসর ধরে।

আবু উমামা কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, ‘আল্লাহ যাদের জান্নাতে প্রেরণ করবেন, তাদের প্রত্যেককে ৭২ খানা স্ত্রীর সহিত বিবাহ দেয়া হইবে; যার দুইখানা হুরি এবং বাকি সত্তরখানা হবে জাহান্নামবাসীদের সম্পত্তির। তাদের সকলের থাকবে কামুক যৌনাঙ্গ এবং তার লিঙ্গ থাকবে অনন্তকাল উত্থিত।
[সুনান ইবনে মাজা, যুহ্‌দ (Book of Abstinence) ৩৯]

দারাজ ইবনে আবি হাতিম কর্তৃক উল্লেখিত, আবু সাইদ আল-খুদরির নিকট হইতে প্রাপ্ত, আবু আল-হায়থাম’আবদুল্লাহ ইবনে ওহাব কর্তৃক বর্ণিত, যিনি শুনেছেন, নবী (সঃ) বলেছেন,’ জান্নাতের সবচে ছোট পুরস্কার হবে একটি প্রাকৃতিক ঘর, যেখানে আট হাজার ভৃত্য এবং ৭২ খানা হুরি থাকবে, যার গম্বুজ থাকবে মুক্তো, পান্না ও চুনী দ্বারা সজ্জিত, এবং যা প্রশ্বস্ত হবে আল-জাবিয়াহ থেকে সানার মধ্যকার দুরত্বের সমান।
[আল-তিরমিজি, ভল্যুম ৪, চ্যাপ্টার ২১, নাম্বার ২৬৮৭]

একজন হুরির সাথে প্রতিবার শয্যাগ্রহনকালে আমরা তাকে কুমারী হিসেবে পাব। তাছাড়া জান্নাতিদের লিঙ্গ কখনো নমনীয় হবে না। এই লিঙ্গোত্থান হবে অনন্তকালের জন্য; প্রতিবার তোমরা যে আনন্দ উপভোগ করবে, তা হবে পরম তৃপ্তিদায়ক যা এই দুনিয়ার কেউ পায় নি, এবং তোমরা যদি সেই পুলক দুনিয়াতে থেকে লাভ করতে তাহলে অজ্ঞান হয়ে যেতে। নির্বাচিত প্রতিটি মুসলিম বান্দা তাদের পৃথিবীর স্ত্রীদের ছাড়া আরও ৭০ খানা হুরির সহিত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইবে, এবং তাদের সকলের থাকবে অত্যন্ত কামুক যোনী।
[আল-ইতকান ফি উলুম আল-কুরান, পৃঃ ৩৫১]

মুহাম্মদ ভালভাবেই জানতেন, আরব বর্বর যোদ্ধাদের শুধুমাত্র মেয়েদের লোভ দেখিয়েই কাজ হবে না। কারণ সে সময়ে বালকদের সাথে সংগমও আরব যোদ্ধাদের মধ্যে জনপ্রিয় ছিল। তাই একই সাথে তিনি দেখিয়েছেন গেলমানের লোভও। কোরআনে পরিষ্কারভাবেই বলা আছে গেলমানের কথাও। এরকম লোভ দেখিয়ে, এই সমস্ত গল্প মাথায় ঢুকিয়ে নির্বোধ বর্বর যেকাউকে দিয়েই যে কোন কিছু করানো সম্ভব। বেহেশতের বেশ্যাদের লোভ এতটাই মারাত্মক হতে পারে যে, তা পাওয়ার লোভে অবলীলায় গলায় চাপাতি চালাতে পারে যে কোন কোরআন হাদিস বিশ্বাসী মুসলিম যুবকই। হয়তো আপাদমস্তক একজন সুস্থ সবল মানুষ, যাকে প্রথমবার দেখলে কখনোই জঙ্গি বলে মনে হবে না, সেও আপনার গলায় অবলীলায় চালাতে পারে ইসলামের ছুরি। যেই ভয়াবহ রগরগে এক্স রেটেড শারীরিক বিবরণ দেয়া রয়েছে কোরআন হাদিসে, পড়লে পর্ণগ্রাফি বলেই ভুল হতে পারে। যেই যৌন উত্তেজক গল্প বলা হয়েছে, সেগুলোতে অশিক্ষিত মূর্খ যৌন অবদমনের শিকার মানুষেরা বিশ্বাস কেনই বা করবে না?

একবার সুস্থ মাথায় ভেবে দেখুন তো, আপনার সন্তানকে আপনি ভাল কাজ করলে বেশ্যার লোভ দেখাবেন? এরকম অশ্লীল বেশ্যার লোভ কারা দেখায়? মাফিয়া লিডার তার অনুগত বাহিনীকেই তো, যারা বেশ্যার লোভে তার জন্য নির্দ্বিধায় খুনোখুনি করবে, তাই না?

Facebook Comments
%d bloggers like this: