সহীহ বুখারী কেন মিথ্যাচার (পর্ব ১)

সহী বুখারী হাদিসের সংকলনকারীর আসল নাম হচ্ছে Abū ‘Abd Allāh Muḥammad ibn Ismā‘īl ibn Ibrāhīm ibn al-Mughīrah ibn Bardizbah al-Ju‘fī al-Bukhārī (Arabic: أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن المغيرة بن بردزبه الجعفي البخاري‎‎; ১৯ July ৮১০ – 1 September ৮৭০) তার জন্ম হয়েছিল উজবেকিস্তাসনের বুখারাতে নবী মোহাম্মদের মৃত্যুর ২০০ বছর পরে। তিনি ছিলেন অতি সাধারন একজন ব্যক্তি। বর্তমান কালে যদিও তার সম্পর্কে অনেক কথা শোনা যায় যার কোন ভিত্তি নাই। তার জীবন কালে অতি সাধারণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কেউ কেউ তাকে খুব পছন্দ করেছে, কে কেউ কেউ তার সমর্থনে কথা বলেছে, আর কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে গিয়েছে। বলছে সে মিথ্যুক তাকে বিশ্বাস করা উচিত হবে না। তার সম্পর্কে এখন যেসব সুখ্যাতি জানতে পারা যায় তা তার মৃত্যুর অনেক পরে কিছু ব্যবহারিক কারণবশত অতিরঞ্জিত করা হয়েছে।

আল বুখারী ক্ষমতা এবং সুপার পাওয়ার:

তিনি নিজের ব্যাপারে অনেক কিছুই বড়াই করে বলতেন তার মধ্যে একটা কথা হচ্ছে তিনি শিশু বয়সে ৭০ হাজার হাদিস মুখস্ত করে ফেলেছিলেন। আপনি হত এত বড় নাম্বার উপলব্ধি করতে পারবেন না আর তাই আসুন আমরা নম্বরটি সামনে রাখি

তার সবচেয়ে বিখ্যাত বইটি সহী আল বুখারি হচ্ছে একটি ৬ খণ্ডের বই। প্রায় ২ হাজার পাতা ৭০০০ হাদিস (৭২৭৫) তার মানে শিশুকালে
সে তার ২০০০ পাতার বইয়ের চেয়ে ১০ গুন্ বেশী হাদিস মুখস্ত করেছিলেন। (৭০০০ x ১০ = ৭০০০০)
অর্থাৎ ৬০ ভলিউমের ২০০০০ পাতা।
গড়পরতায় যদি একটি পাতায় ৪৫০ টি করে শব্দ থাকে তাহলে তিনি মুখস্ত করেছিলেন ৯০০০০০০ শব্দ
শুধু তাই নয় তিনি দাবি করেছিলেন তিনি মুখস্ত করেছিলেন সমস্ত হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম।
তাদের জন্মের তারিখ এবং মৃত্যুর তারিখ কোথায় তারা বাস করতেন।

আপনি হয়তো বলবেন হতে পারে সে তার ব্যক্তিগত মেধার কারণে তিনি মুখস্ত করতে পেরেছিলেন। আমি এখন আপনাদের প্রমাণ করতে চেষ্টা করব কেন এই দাবিটি মিথ্যা। এখানে প্রশ্ন থেকে যায় মরুভূমির মতো জায়গায় কিভাবে এত হাদিস খুঁজে পেয়েছিলেন। আসুন তর্কের খাতিরে এই প্রসঙ্গ বাদ দিলাম। ধরে নিলাম উনি পেয়েছিলেন।

একটি শিশু বলতে আমরা বুঝি সমান কেউ ৫ বছর থেকে ১২ বছর বয়সের ভেতরে। প্রতিদিন যদি সে দশটি করে হাদিস শুনে এবং তার বিশ্রাম নেবার কোন ফ্রী সময় নাই. – তার অর্থ হচ্ছে তার ৭০ হাজার হাদিস শুনতে সময় লাগবে ১৯ বছর। এক্ষেত্রে ধারণা করে নেয়া হচ্ছে যে তিনি প্রথম বার শুনেই হাদীস টি মুখস্ত করতে পারতেন। আসুন তর্কের খাতিরে ধরে নিয়ে পাঁচ বছর বয়স থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করা শুরু করলেন। তাহলে তার হাদিস শোনে শেষ করতে তার বয়স হবে ২৪ বছর। তাহলে সে কিভাবে দাবি করে যে শিশু বয়সে ৭০ হাজার হাদীস মুখস্ত করেছে।

আসুন বিষয়টি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে ভেবে দেখি

কারো পক্ষে ৭০ হাজার হাদীস মুখস্ত করা আদৌ সম্ভব কিনা । মানুষের মন এত কিছু মুখস্ত রাখতে পারে না। বিশ হাজার পৃষ্ঠা এবং ৯ মিলিয়ন শব্দ এবং তারপর তিনি একজন শিশু। অবশ্যই তা অসম্ভব হবে যদি না তার অটিজম কিংবা acquired savant syndrome কিংবা অন্য কোন মানসিক রোগে আক্রান্ত যদি না হন যা কিনা মানুষকে কোন কিছু ভুলতে দেয় না। সে যা শুনে এবং যা দেখে। যা কিনা অন্যান্য ক্ষেত্রে তার মগজকে স্বাভাবিক ভাবে কাজ করতে দেবে না । সে ক্ষেত্রে সে হবে মানসিক ভাবে অসুস্থ।

মুখস্ত করার ক্ষেত্রে অন্যতম বিখ্যাত ব্যক্তি হচ্ছেন চাইনিজ রেকর্ডধারী চাই লু (Chao Lu) উনি প্রায় ৬৮০০০ পাই এর অংক মুখস্ত করেছিলেন। তর্কের খাতিরে যদি নাম্বার কে শব্দ হিসেবে বিবেচনা করি আমাদেরকে বলতে হবে আল বুখারী অন্তত চাই লু (Chao Lu) থেকে ১৩২ গুণ বেশি মুখস্ত করেছিলেন – শিশু বয়সে। বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে তা সত্য হতে পারেনা। মানুষের মন কোন নির্দিষ্ট জিনিস মুখস্ত করে মেনে নেওয়া সম্ভব, মানুষের মন কিছু জিনিস মুখস্থ করতে পারে তোর মনে কিছু দিনের মধ্যে আপনার মন ভর্তি হয়ে যাবে। কারণ আপনার ব্রেইনের সীমিত ক্ষমতা আছে। বিশেষ করে আপনি সব সময় যা শুনেন, দেখেন, পড়েন, গন্ধ নেন কিংবা আপনি যতবার যা কিছু করছেন যত বার নড়ছেন – আপনার মন সেটাকে স্মৃতিতে সংরক্ষণ করে রাখে।

 

বুখারীর গল্প

Al-bukhari বলেছেন উনার বয়স যখন ষোল উনি তার মা এবং ভাইয়ের সাথে মক্কায় চলে যান। যদিও তারা হজ শেষে দেশে ফিরে যান তিনি থেকে যান মক্কায় দুই বছর যাবত তারপর মদিনায় যান তারপর সম্পূর্ণ আরব উপদ্বীপ পরিভ্রমণ করেন। এবং তিনি আরো ভ্রমণ করেন বাগদাত বসরা কুফা দামাস্কাস আল কুদস এবং মিশর

তিনি ১৬ বছর যাবৎ পরিভ্রমণ করতে থাকেন এবং ছয় লক্ষ হাদিস সংগ্রহ করেন এবং তার পরে উনি বলেন ৫ লক্ষ ৯৩ হাজার হাদিস ছিল ভুয়া। উনি বেছে বেছে রাখেন ৭৫০০ হাদিস। তারপর তিনি তার বই লেখেন সহী আল বুখারি।  আপনি যদি এটা শুনেন তাহলেই আপনি বুঝতে পারবেন এখানে কতটা বানোয়াট কথা আছে।

 

৬ লক্ষ হাদিস থেকে মাত্র ৭৫০০ হাদিস সত্য। তার অর্থ হচ্ছে নবী মোহাম্মদের ৯৯ শতাংশ হাদিস ছিল মিথ্যা। এ থেকে বুঝতে পারবেন কতটা গাঁজাখুরি গুজবের সময় ছিল এটা। এর অর্থ হচ্ছে তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে যদি ১০০ জন মুসলমান থেকে থাকে তার মধ্যে ৯৯ জন মিথ্যে কথা বলেছে এবং ১ জন ই ছিল সত্য। এই বর্ণনা থেকেই আপনি সর্বশেষ ব্যক্তির সততার বিষয়ে সন্দেহ আরোপ করতে পারেন। এবং আল বুখারি র নিজের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আরোপ করতে পারেন।

আল বুখারী বলেন একটি হাদিস সত্য কিনা তা নিশ্চিত হবার জন্য তিনি কতিপয় ব্যক্তি কে জিজ্ঞেস করতেন শুধু একজন ব্যক্তিকে না এবং তদন্ত করে দেখতেন যে হাদিস বর্ণনাকারী ব্যক্তি কতটা সৎ তার প্রতিবেশী কে জিজ্ঞেস করে তা জেনে নিতেন। যাতে তিনি নিশ্চিত হতে পারেন হাদিস বর্ণনাকারী ব্যক্তি ব্যক্তি জীবনে সৎ।

আল বুখারীর সত্য হাদিস সংগ্রহের ব্যাপারে সতর্কতাঃ এবং যত্নশীলতা থেকে আপনি বুঝতে পারেন তিনি এই ব্যাপারে কতটা নিখুঁত ছিলেন এবং তার বর্ণনা অনুযায়ী শুধু একটি হাদিস সংগ্রহ করতে এক মাস সময় লাগার কথা। তারপরও আল বুখারীর প্রতি একটু সদয় হয়ে তর্কের খাতিরে ধরে নেই তিনি এক ঘন্টায় একটি হাদিস সংগ্রহ করতেন। এবং তার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তার সময় লাগতো এক সপ্তাহ বা এক মাস না মনে করি শুধু সেই এক ঘন্টাই । যদি ধরে নেই   তিনি বাকি সময়ে খাওয়া-দাওয়া ঘুম থেকে ওঠা এই জাতীয় দৈনন্দিন কার্যাবলী করতেন ১০ ঘন্টা ব্যাপী এবং তার অন্য কোন কাজ নেই শুধুমাত্র অন্য লোকেরা হাদীসের ব্যাপারে কি বলেন তা লিখে রাখা ছাড়া। সেক্ষেত্রে ধরে নিতে হবে তিনি দৈনিক শুনতেন ১৪ টি হাদিস এবং সাথে সাথে তাদের সত্যতা যাচাই করে ফেলতেন । ৬ লক্ষ হাদিসের থেকে প্রতিদিন ১৪টি হাদিস সংগ্রহ করা হলে -এই কাজ শেষ করতে তার সময় লাগার কথা অন্তত ১১০ বছর [ ১১৭ =(৬০০০০০/১৪)/৩৬৫]

তবে তিনি বলেছেন তিনি নাকি বইটি শেষ করেছেন ১৬ বছরের মধ্যে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি শুধু এই হাদিস বই লিখেননি, উনি লিখেছেন আরো ১৮ টি বই। যেগুলি প্রায় বুখারী শরীফের মতো প্রায় একই আকৃতির কিংবা বুখারী শরীফ এর চেয়েও বড়। তাছাড়া তিনি বলেছেন শিশু বয়সে তিনি ৭০ হাজার হাদিস মুখস্ত করেছেন। তিনি যখন বড় হয়েছেন তিন লক্ষ হাদিস তার মুখস্থ ছিল। তার মধ্যে এক লক্ষ কে তিনি সঠিক বলে চিহ্নিত করেছিলেন আর বাকি দুই লক্ষ ছিল মিথ্যা বা বানোয়াট।

 আমাদের আগের বলা নাম্বার গুলি কি আপনার মনে আছে ৯০০০০০০ শব্দের  ৭০ হাজার হাদিস।

এর অর্থ হলো পূর্ণ বয়সে তার মুখস্ত কৃত শব্দের সংখ্যা তিনশত আশি লক্ষ (৩৮০০০০০০) ।

২৪০ ভলিউমের চেয়ে বেশি এবং Chao Lu যা মুখস্ত করেছিলেন তার চেয়ে ৫৫৮ গুন্ বেশি। সততার সঙ্গে যদি এই সত্য মেনে নেই আমাকে বলতে হবে এই সত্য সত্য হতে পারে একমাত্র স্বপ্নের মধ্যে।

এখানে আরো একটি বিষয় আছে। তিনি বললেন না যে তিনি এক লক্ষ সত্য হাদীস মুখস্ত করেছেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কিভাবে তিনি এক লক্ষ হাদীস মুখস্ত করেছেন যখন তিনি নিজে বলেছেন যে তিনি সর্বত্র পরিভ্রমণের মধ্যে ব্যস্ত ছিলেন হাদিস সংগ্রহ করার জন্য। কিন্তু তিনি তো মাত্র ৭৫০০ হাদিস সত্য হিসেবে পেয়েছিলেন তাহলে বাদ বাকি ৯৩ হাজার হাদিস তিনি পাইলেন কোথায়। তিনি সেগুলো সহী আল বুখারি নামক বইতে কেন লিখলেন না।

আল বুখারীর মিথ্যা বলার প্রমান

আল বুখারী যে মিথ্যা তার প্রথম প্রমাণ কোরআন শরীফ নিজেই। কোরআন নিজেই আল বুখারী যে মিথ্যে কথা লিখেগেছেন তার সাক্ষী বহন করে। কোরআন শরীফ অনেকবার বলেছে নবী মুহাম্মদ ছিলেন অন্য সবার মতোই খুব সাধারন মানুষ । তিনি কোন অলৌকিক কাজ করে দেখান না, কোন মিরাকল প্রদর্শন করেন না। কোরআন শরীফ এমন অনেক আয়াত আছে (২:১১৮-৬:৩৭-১০:২০-১৩:৭-১৩:২৭) যেখানে নবী মুহাম্মদকে যারা বিশ্বাস করত না তারা প্রশ্ন করত একটি অলৌকিক কাজ করে দেখাতে। নবী মুহাম্মদ কোন অলৌকিক কাজ করে দেখাতে সমর্থ হননি। তাই তিনি বলতে থাকেন কোরআন শরীফ ই তার অলৌকিক কাজ। এই জাতীয় আয়াতের বার বার আগমন প্রমান করে যে নবী মোহাম্মদ আসলে কখনো কোনো মিরাকল ঘটাতেন না। যদিও আমরা দেখি বুখারী শরীফে উল্লেখ করা আছে বেশ কিছু অলৌকিক কাজের উদাহরণ। কোরআন বিশ্বাসকারীদের জন্য বুখারী শরীফ কে অবিশ্বাস করার জন্য এইটাই যথেষ্ট।

(Sherif Gaber এর ভিডিও র ভিত্তিতে ) 

(চলবে)

 

Facebook Comments

সরকার আশেক মাহমুদ

Sarker Ashek Mahmud is a Bangladeshi Ex-Muslim Atheist, Humanist, secular online activist.

Leave a Reply

%d bloggers like this: