হযরতের কুকুর ভীতি এবং নির্মম নিধনযজ্ঞ

সেই সুপ্রাচীন কাল ধরে প্রাণিজগতের মধ্যে কুকুর ছিল মানুষের সবচাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু, সাথী, এবং সহচর। ঠিক কবে থেকে মানুষ প্রথম কুকুর পোষ মানিয়েছিল তা নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও, আজ থেকে পনেরো হাজার বছর [১] আগে যে কুকুর মানুষের সঙ্গী ছিল সেটা পরিষ্কারভাবে জানা যায়। তার মানে, এর চাইতে বহুকাল আগে থেকেই কুকুর ছিল মানুষের সহচর। সেই সাথে, সাইবেরিয়া থেকে প্রাপ্ত কুকুরের ফসিল থেকে বোঝা যায়, প্রায় ৩৩ হাজার বছর আগেও [২] পোষা কুকুর মানুষের সাথে বসবাস করতো। প্রাচীনকালের যেসব ফসিল পাওয়া যায়, তা থেকে মোটামুটি স্পষ্ট যে, একদল হিংস্র নেকড়ের মধ্যে কিছু নেকড়েকে মানুষ পোষ মানিয়েছিল, তার পর থেকে নানা ঘাত প্রতিঘাত এবং বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক কুকুরের উৎপত্তি।

আমাদের, মানে আধুনিক মানুষের আদি পূর্বপুরুষ ছিল শিকারী। মানুষ সেই বহুকাল ধরে বন-বাদাড়ে ঘুরে ঘুরে খাবার সংগ্রহ করে বেড়িয়েছে, এক স্থান থেকে আরেক স্থানে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়িয়েছে। মানুষ কুকুরের সাহায্যে শিকারে অসাধারণ সাফল্য পেয়েছিল। শুধু শিকারই নয়, কুকুর প্রভুভক্ত পুলিশের মত পাহারা দিতো গুহাবাসী মানুষের গুহাগুলোকে। হিংস্র বন্য প্রাণী থেকে রক্ষা করতো শিশুদের। অন্য গোত্র আক্রমণের আগে কুকুর তার আগাম সংকেত দিতো, কুকুর টানা গাড়ি থেকে শুরু করে এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রে পর্যন্ত কুকুর মানুষের পরম বন্ধুর মত পাশে থেকেছে। মানুষকে রক্ষা করেছে।

কুকুর

প্রাচীন গ্রীসে পশু শিকার

আজকে আমরা যেসকল কুকুর দেখছি, আদিম সমাজের কুকুরগুলো এরকম ছিল না। কুকুর একটি মনুষ্য সমাজ দ্বারা বিবর্তিত প্রাণী। গৃহপালিত হওয়ার পরে কুকুরের বহু বৈচিত্র্যময় জাত (breed) তৈরি হয়েছে। কুকুরের বিবর্তনে মানুষের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। সেই কুকুরগুলো মানুষের সাথে চলাফেরা করতো, তাদের সাথে শিকার করতো, খাবারের ভাগ পেতো, সেসব কুকুরের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেয়েছিল। যেসব কুকুর মানুষের সাথে দলবদ্ধভাবে শিকারে অংশ নিতো, মানুষের নির্দেশ মোতাবেক ঝাঁপিয়ে পড়তো, সেসব কুকুরের বংশ পরম্পরায় টিকে থাকা সহজতর হয়ে উঠেছিল। ধীরে ধীরে কুকুর হয়ে উঠেছে মানুষের সবচাইতে প্রিয় বন্ধুতে। মানব সমাজ এরকম লক্ষ লক্ষ ঘটনার সাক্ষী যে, প্রভুর জীবন রক্ষা করতে রীতিমত জীবন দিয়ে দিয়েছে আমাদের এই বন্ধু কুকুর। জীবন বাজি রেখে লড়াই করে গেছে, নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়েও মনিবের গায়ে এতটুকু আঁচড় লাগতে দেয় নি। কুকুরের কাছে মানুষের অনেক ঋণ। অনেক দেনা। যুগে যুগে এই কুকুরেরাই মানুষকে রক্ষা করেছে, পাহারা দিয়েছে, মাটি কামড়ে প্রভুভক্তির প্রমাণ দিয়েছে। কিন্তু বিনিময়ে আমরা তাদের কতটুকু ভালবাসা দিয়েছি? সামান্য একটু ভালবাসার কাঙ্গাল কুকুরদের আমরা কি ভালবাসতে পেরেছি?

হযরতের কুকুর ভীতি

খুব স্বাভাবিকভাবেই, মানব সমাজের কিছু মানুষ কুকুরকে ভালবাসবে, আবার কিছু মানুষ ভালবাসবে না। সবাইকে যে কুকুরকে ভালবাসতেই হবে, এমন কোন কথা নেই। কথাটি উলটো দিক থেকেও সত্য। সব কুকুর যে মানুষকে ভালবাসবে, তার নিশ্চয়তা নেই। তবে সাধারণভাবে সব কুকুরই প্রভুভক্তির অসাধারণ প্রমাণ আমাদের দিয়েছে যুগ যুগ ধরে। আমরা মোটেও এরকম দাবী করতে পারি না যে, আরবের নেতা হযরত মুহাম্মদকে কুকুর ভালবাসতেই হবে। এরকম দাবী যৌক্তিকও নয়। এটি যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের বিষয়। কিন্তু মানব সমাজের একটি বড় অংশ, যারা নিজেদেরকে মুসলিম বলেন, তাদের কাছে হযরত মুহাম্মদের করে যাওয়া প্রতিটি কাজ হচ্ছে নীতি নৈতিকতার অন্যতম ভিত্তি। ইনসাফ এবং আইনের অন্যতম ভিত্তি। এমনকি, নবী মুহাম্মদ কীভাবে পেশাব করতেন, কীভাবে স্ত্রী বা দাসী গমন করতেন, সেটিও মুসলিমদের কাছে অনুসরণীয় আদর্শ। তার প্রতিটি কথা, প্রতিটি কাজকে নিয়ে তাই একটু বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন, এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, বহু সংখ্যক মুসলিমের কাছে সেগুলো অবশ্য পালনীয় সুন্নাহ। হযরত মুহাম্মদ তার জীবনে কুকুর সম্পর্কে খুবই অমানবিক এবং বর্বর কিছু বক্তব্য রেখে গেছেন, যা আজও বিভিন্ন মুসলিম সমাজে বহুল প্রচলিত। এই আলোচনাটিতে আমরা হযরতের কুকুর ভীতি নিয়ে তাই আলোচনা করবো। এখানে নবী মুহাম্মদ যত না গুরুত্বপূর্ণ, তার চাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নবী মুহাম্মদের রেখে যাওয়া সুন্নাহ। যা এখনো মুসলিমগণ অবশ্য পালনীয় বলে মনে করেন। ব্যক্তিগতভাবে নবী মুহাম্মদ কুকুর অপছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু তা যখন একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে অনুসরনীয় অনুকরণীয় হয়ে ওঠে, তখন তা বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। কুকুর নামক একটি প্রাণীর জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক হতে পারে। সেই সাথে, যারা কুকুর ভালবাসেন, তাদের জন্যেও বিষয়টি মর্মান্তিক হতে পারে।

হযরত মুহাম্মদ কুকুর নামক প্রাণীদের ভয় পেতেন। কেন উনি এত ভয় পেতেন, তার কারণ সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করা ১৪০০ বছর পরে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। একেবারে আধুনিক মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নবী মুহাম্মদের চরিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়ঃ

১। নবী মুহাম্মদ হ্যালুসিনেশন করতেন। মানে, ফেরেশতা, জ্বীন, শয়তান, এরকম অলৌকিক সত্ত্বা দেখতেন, বাস্তবে যেসবের কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমনকি, উনি নাকি সাত আসমান পাড়ি দিয়ে আল্লাহ নামক আরেকটি অলৌকিক সত্ত্বার সাথেও সাক্ষাত করে এসেছেন। মুসলিমগণ এসব বিশ্বাস করতেই পারেন, তবে বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এসবই হ্যালুসিনেশন।

২। মুহাম্মদ মাঝে মাঝেই বিনা কারণে অজ্ঞান হয়ে যেতেন।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [3829]
অধ্যায়ঃ ৬৩/ আনসারগণ [রাযিয়াল্লাহু ‘আনহুম]-এর মর্যাদা (كتاب مناقب الأنصار)
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৬৩/২৫. কা‘বা নির্মাণ।
৩৮২৯. জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন কা’বা গৃহ পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছিল তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও ‘আববাস (রাঃ) পাথর বয়ে আনছিলেন। ‘আববাস (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললেন, তোমার লুঙ্গিটি কাঁধের উপর রাখ, পাথরের ঘর্ষণ হতে তোমাকে রক্ষা করবে। (লুঙ্গি খুলতেই) তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন। তাঁর চোখ দু’টি আকাশের দিকে নিবিষ্ট ছিল। তাঁর চেতনা ফিরে এল, তখন তিনি বলতে লাগলেন, আমার লুঙ্গি, আমার লুঙ্গি। তৎক্ষণাৎ তাঁর লুঙ্গি পরিয়ে দেয়া হল। (৩৬৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৫৪৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩৫৪৯)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী খণ্ড ৬ ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন পৃষ্ঠা ৩৭১

সহিহ বুখারী

সহিহ বুখারী খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা ৩৭১

৩। হ্যালুসিনেশনের সময় তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতো। মাঝে মাঝে খিচুনি উঠতো। মাঝে মাঝে বিড়বিড় করতে করতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যেতেন। বিবি খাদিজা সেই সময়ে উনাকে বোঝাতেন, উনি পাগল হয়ে যান নি। বরঞ্চ মানব জাতির ত্রাণ করার দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়েছে।

৪। তিনি বেশ কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। অর্থাৎ তার সুইসাইডাল টেন্ডেন্সি ছিল।

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [6982]
অধ্যায়ঃ ৯১/ স্বপ্নের ব্যাখ্যা করা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
…এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওয়াহীও বন্ধ থাকে। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার কারণে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমরা এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পর্বতের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাবার জন্য একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখনই নিজেকে ফেলে দেয়ার জন্য পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন, হে মুহাম্মাদ! নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল। এতে তাঁর অস্থিরতা দূর হত এবং নিজ মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওয়াহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘ হত তখনই তিনি ঐরূপ উদ্দেশে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পর্বতের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আঃ) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে আগের মত বলতেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী- তাওহীদ পাবলিকেশন্স খণ্ড ৬ ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন পৃষ্ঠা ২৮৭

সহিহ বুখারী

সহিহ বুখারী- তাওহীদ পাবলিকেশন্স খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা ২৮৭

৫। বহু মানুষ তাকে পাগল বলতো। কিন্তু তার মস্তিষ্কপ্রসূত সৃষ্টিকর্তা, যাকে উনি আল্লাহ বলতেন, তিনি বারবার তাকে প্রবোধ দিয়ে বলতেন, দুষ্টু লোকের কথা কান না দিতে। মুহাম্মদ পাগল নন। মানে, নিজেই নিজেকে বোঝাতেন যে, তিনি পাগল নন।

না তারা বলে যে, তিনি পাগল ? বরং তিনি তাদের কাছে সত্য নিয়ে আগমন করেছেন এবং তাদের অধিকাংশ সত্যকে অপছন্দ করে। [সুরা ২৩ঃ৭০]

এবং বলত, আমরা কি এক উম্মাদ কবির কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করব। [ সুরা ৩৭ঃ৩৬]

৬। তিনি আল্লাহর ভয়ে, আতঙ্কে, কাঁদতে কাঁদতে গড়াগড়ি খেতেন।

উপরের যেই লক্ষণগুলো উনার মধ্যে দেখা যেতো, যা কোরআন, হাদিস এবং সিরাত দ্বারা বহুবার সত্যায়িত, এগুলো পড়লে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের ধারণা হওয়া স্বাভাবিক যে, উনি কোন প্রকার স্কিটসোফ্রিনিয়া/স্কিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন। এবং স্কিজোফ্রেনিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে আরেকটি লক্ষণ হচ্ছে, কুকুরের প্রতি অমূলক ভীতি। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায় যাকে একটি নামও দেয়া হয়, যা হচ্ছে Cynophobia। Cynophobia হচ্ছে, কুকুরের প্রতি অমূলক ভীতি, আতঙ্ক, এবং ঘৃণা বিদ্বেষ। ছোটবেলার কোন ভয়ঙ্কর স্মৃতি এই ধরনের ভীতির কারণ হতে পারে বলে মনোবিজ্ঞানীগণ মনে করেন।

Cynophobia (from the Greek: κύων kýōn “dog” and φόβος phóbos “fear”) is the fear of dogs. Cynophobia is classified as a specific phobia, under the subtype “animal phobias”

Cynophobia

হযরতের যে কুকুর-ভীতি ছিল তা বিভিন্ন হাদিস এবং সিরাত দ্বারা প্রমাণিত বিষয়। রাতের বেলা অন্যের বাড়িতে প্রবেশ করতে গেলে কুকুর ঘেউ ঘেউ করে, তাড়া করে, এগুলো আমরা সকলেই জানি। বহু স্ত্রী এবং দাসীর অধিকারী রঙ্গিন জীবনের অধিকারী হযরত মুহাম্মদ মাঝে মাঝে অন্য কারো বাসায় গোপন অভিসারে যেতেন কিনা, তা পরিষ্কার ভাবে বলা যায় না। কিন্তু তিনি যে কুকুরের প্রতি খুবই বিরক্ত ছিলেন, তা পরিষ্কারভাবেই বোঝা যায়। এরকম ভীতি উনার ব্যক্তিগতভাবে থাকতেই পারে। কিন্তু তিনি যখন কুকুরদের মধ্যে থেকে একটি বিরাট অংশ মেরে ফেলতে হুকুম দেবেন, সেই সাথে তার অনুসারীগণ যুগযুগ ধরে সেই রীতি পালন করে যাবে, গণ-নিধন চালাবে, এরকম ঘটনা ঘটলে তা অত্যন্ত বর্বর এবং অমানবিক বলেই একজন সভ্য মানুষের কাছে মনে হবে। কুকুরগুলো কী দোষ করেছিল? জলাতঙ্ক রোগী পাগলা কুকুরদের মেরে ফেলার তাও কিছুটা জাস্টিফিকেশন থাকতে পারে, কারণ পাগলা কুকুর মানুষকে কামড় দেয়। কিন্তু সব কালো রঙের কুকুর কি জলাতঙ্ক রোগী ছিল? হাদিস-গ্রন্থগুলোতে পাগলা কুকুর হত্যার কথা বলা আছে বটে, কিন্তু একই সাথে স্বাভাবিক কুকুরদের মেরে ফেলার কথাও বর্ণনা করা আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুহাম্মদ কুকুর নিধনে কিছুটা ছাড় দিলেও বেশিরভাগ সময়ই কুকুর সম্পর্কে তিনি অত্যন্ত মর্মান্তিক সব নির্দেশ দিয়েছেন।কালো রঙের কুকুরদের হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং মদিনার চারপাশে লোক প্রেরণ করে সমস্ত কুকুর হত্যা করিয়েছেন। এগুলো কী কোন অবস্থাতেই কোন মানবিক মানুষের কাজ হতে পারে? একজন শুভবোধ সম্পন্ন মানুষের কাছে এগুলো আজকের দিনে চরম বর্বর এবং অমানবিক কাজ বলেই গণ্য হবে।

মুসলমানদের মধ্যে যারা শিক্ষিত, বোধবুদ্ধি সম্পন্ন, তারা অনেকেই কুকুরের প্রতি ভালবাসা এবং একই সাথে ধর্মবিশ্বাস শুদ্ধ রাখার জন্য কিছু কৌশল বা বুদ্ধি বের করেন। উনারা মাঝে মাঝেই বলেন, হাদিসের কথাগুলো ঐ সময়ের প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছিল। অথবা উনারা বলেন, হাদিসগুলো ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। অথবা বলেন, এগুলো ভিন্নভাবে বুঝতে হবে। আবার অনেকে দাবী করেন, হাদিসগুলো মিথ্যা বা জাল হাদিস। এসব যুক্তি ব্যবহার করে অনেক মুসলমানই কুকুর ভালবাসেন, লালন পালন করেন, নিজ সন্তানের মত স্নেহ করেন। সেটা খুব ভাল এবং মানবিক কাজ। সেইসব মুসলিমদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু তারপরেও, সত্য স্বীকার করার সৎ সাহস সকলের থাকা উচিত। 

কুকুর কী আসলেই ঘৃণিত প্রাণী?

কুকুর একটি অবলা জীব মাত্রই। মানুষের উপকার করা ছাড়া কুকুর সচেতনভাবে মানুষের ক্ষতি করেছে, এরকম উদাহরণ তেমন পাওয়া যায় না। রোগ হলে কুকুর পাগল হয়ে যায়, কিন্তু রোগ হলে তো মানুষও অনেক কিছু করে। অসুস্থ প্রাণীকে অসুস্থতা জনিত সমস্যায় আমরা দোষ দিতে পারি না। বর্তমান সময়ে জলাতঙ্কের সুচিকিৎসা রয়েছে, এবং নানা ধরণের ভ্যাক্সিনের সাহায্যেও কুকুরদের সুস্থ রাখা সম্ভব। কিন্তু সব কুকুর কি রোগাক্রান্ত? পৃথিবীর কিছু কিছু মুসলিম প্রধান অঞ্চলে আজও কুকুর লালন পালন দণ্ডনীয় অপরাধ। সব কুকুর যে রোগাক্রান্ত নয়, এই তথ্যগুলো বোঝানো কঠিন। তাদের মধ্যে একটি বড় অংশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সেই ১৪০০ বছর আগে মুহাম্মদ যা বলে গেছেন, বর্তমান সময়েও সেগুলো করতে হবে। কিন্তু কুকুরের দ্বারা মানুষের উপকারের লিস্ট তৈরি করে কি শেষ করা সম্ভব?

শুধু তাই নয়। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে এটি মোটামুটি প্রমাণিত যে, কুকুর মানুষের জীবনকে আরো বেশি আনন্দময় করে তোলে [৭]। আমাদের মধ্যে খুব স্বাভাবিক একটি ধারণা রয়েছে যে, কুকুর রোগ জীবাণু বহন করে। রোগ জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অনেকে কুকুর অপছন্দ করেন। কিন্তু গবেষকগণ বলেন, রোগ জীবাণুকে সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চাওয়ার চেষ্টা মানুষের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। আমরা প্রায়শই দেখি, আমাদের ঘরবাড়ি জীবাণু মুক্ত করতে আমরা অনেক রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করি। যার ফলে আমাদের শরীর সেই সব রোগ জীবাণু থেকে দূরে থাকে, এবং আমাদের শরীরের যেই ন্যাচারাল রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা, তা ধ্বংস হতে থাকে। শরীরে জীবাণু ঢুকবে, শরীর জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করবে, এটাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। শরীর যত জীবাণুর সাথে যুদ্ধ করবে, তত তার ইমিউন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এলার্জি থেকে মুক্তি পাবে। কুকুরের শরীরের বিভিন্ন জীবাণু মানুষের শরীরে ঠিক এই কাজগুলোই করে। বেশিরভাগ গবেষণাতেই দেখা গেছে, কুকুরের সংস্পর্শে থাকা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্য মানুষের চেয়ে বেশি। আরো বিস্তারিত জানার জন্য ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ রেফারেন্সে বর্ণিত লেখাগুলো পড়ে দেখতে পারেন।

সিয়াটলের সুইডিশ মেডিকেল সেন্টার আমেরিকার মতে (The Swedish Medical Center in America, Seattle, Washington) কুকুর লালন পালনের ভাল দিকগুলো হচ্ছে,

• সার্বক্ষণিক একজন সঙ্গি থাকার আনন্দবোধ
• শারীরিক শ্রম, খেলাধুলা এবং হাস্যময় পরিবেশ
• নিরাপত্তাবোধ
• স্পর্শ করার মাধ্যমে মমতার প্রকাশ
• মানবিক ভালবাসা, প্রেম, আদর ইত্যাদি বোধের উন্নতি

সেইসব বৈজ্ঞানিক কারণ না হয় বাদই দিচ্ছি। কিন্তু মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে? শত শত হাজার হাজার কুকুরকে ধরে মেরে ফেলা কেমন বিচার? আল্লাহ পাক তাহলে কুকুর সৃষ্টি করলেন কেন? মুহাম্মদের ব্যক্তিগত কুকুরভীতি কেন তিনি ছড়িয়ে দিলেন বিলিয়ন মুসলমানের মধ্যে?

আসুন, কিছু হাদিস পর্যালোচনা করে দেখি, হযরত মুহাম্মদের কুকুর ভীতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল।

কালো কুকুর ভীতি এবং হত্যা

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [1020]
অধ্যায়ঃ ৪/ কিতাবুস স্বলাত
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৫০. মুসল্লীর সুতরার পরিমাণ
১০২০। আবূ বাকর ইবনু আবূ শায়বা ও যুহায়র ইবনু হারব (রহঃ) … আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ-সালাত (নামায/নামাজ)-এ দাঁড়াবে, তখন তার সম্মুখে হাওদার পিছনের কাষ্ঠ পরিমাণ কোনও বস্তু রেখে দিবে। যদি এরূপ কোনও বস্তু না থাকে, তবে তার সম্মুখ দিয়ে গাধা স্ত্রীলোক ও কালো কুকুর গমন করলে তার সালাত (নামায/নামাজ) ভঙ্গ হয়ে যাবে
রাবী ইবনু সামিত বলেন, আমি বললাম, হে আবূ যার! লাল কুকুর ও হলুদ কুকুর থেকে কালো কুকুরকে পৃথক করার কারণ কি? তিনি জওয়াব দিলেন, হে ভাতিজা, আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তোমার মত এই বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছিলাম। তিনি বলেছেন, কালো কুকুর একটি শয়তান
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ মুসলিম খণ্ড ২ ইসলামিক সেন্টার পাবলিকেশন্স ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন 

 সহিহ মুসলিম

সহিহ মুসলিম খণ্ড ২ ইসলামিক সেন্টার পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা ২৭৬

সহিহ মুসলিম

সহিহ মুসলিম খণ্ড ২ ইসলামিক সেন্টার পাবলিকেশন্স পৃষ্ঠা ২৭৭

গ্রন্থের নামঃ সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [2836]
অধ্যায়ঃ ১১/ শিকার প্রসঙ্গে
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯৯. শিকারে উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে কুকুর পোষা।
২৮৩৬. মুসাদ্দআদ (রহঃ) ……….. ‘আবদুল্লাহ্ ইবন মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি কুকুর আল্লাহ্ তা‘আলার বহুজাতিক সৃষ্টজীবের মাঝে এক জাতীয় সৃষ্টি না হত, তবে আমি তাদের হত্যা করার নির্দেশ দিতাম। এখন তোমরা তাদের থেকে কেবল কালবর্ণের কুকুরকেই হত্যা করবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গণনিধন

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3089]
অধ্যায়ঃ ৪৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‏পরিচ্ছদঃ ১৯৯৯. তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে । কেননা তার এক ডানায় রোগ জীবানু থাকে, আর অপরটিতে থাকে আরোগ্যে
৩০৮৯। আবদুল্লাহ ইবনু ইউসুফ (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন।’
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ডাউনলোড লিঙ্ক দেখুন পৃষ্ঠা ৪১৯

সহিহ বুখারী

সহিহ বুখারী খণ্ড ৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন পৃষ্ঠা ৪১৯

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [3323]
অধ্যায়ঃ ৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৫৯/১৭. পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে। কারণ তার এক ডানায় থাকে রোগ, অন্যটিতে থাকে আরোগ্যের উপায়।
৩৩২৩. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। ‘রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর মেরে ফেলতে আদেশ করেছেন।’ (মুসলিম ২২/১০ হাঃ ১৫৭০, আহমাদ ৫৯৩২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৭৭, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮৬)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
হাদিস নম্বরঃ [3322]
অধ্যায়ঃ ৫৯/ সৃষ্টির সূচনা
পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
পরিচ্ছদঃ ৫৯/১৭. পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে ডুবিয়ে দেবে। কারণ তার এক ডানায় থাকে রোগ, অন্যটিতে থাকে আরোগ্যের উপায়।
৩৩২২. আবূ ত্বলহা (রাঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘যে বাড়িতে কুকুর এবং প্রাণীর ছবি থাকে তাতে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না।’ (২৩২৫) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩০৭৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৩০৮৫)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [1495]
অধ্যায়ঃ ২১/ বিবিধ বিধান ও তার উপকারিতা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ কুকুর রাখলে কি পরিমান ছাওয়াব হ্রাস পাবে।
১৪৯৫। উবায়দ ইবনু আসবাত ইবনু মুহাম্মদ কুরাশী (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন খুতবা প্রদানের সময় তাঁর চেহারা থেকে খেজুর গাছের ডাল যারা সরাচ্ছিলেন আমি তাদের একজন ছিলাম। তিনি বলেছিলেন, কুকুর যদিও আল্লাহর সৃষ্ট জাত-গুলোর একটি জাতি না হত তবে আমি তা হত্যা করার হুকুম দিয়ে দিতাম। সুতরাং তোমরা যেগুলা ঘোর কালো বর্ণের সেগুলোকে হত্যা করবে। শিকারের বা শস্যক্ষেত্রের বা চারণের কুকুর ছাড়া অন্য কোন কুকুর যদি কেউ বেঁধে রাখে তবে অবশ্যই তার নেক আমল থেকে প্রতিদিন এক কিরাত করে হ্রাস পাবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২০৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৪৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [3909] অধ্যায়ঃ ২৩। মুসাকাহ (পানি সেচের বিনিময়ে ফসলের একটি অংশ প্রদান)
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি‏
পরিচ্ছদঃ ১০. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা বা এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশে ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৯০৯-(৪৪/…) আবূ বকর ইবনু আবূ শাইবাহ্ (রহঃ) ….. ইবনু উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিয়ে মাদীনার চারপাশে লোক পাঠালেন যাতে কুকুর হত্যা করা হয়। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ৩৮৭২, ইসলামিক সেন্টার ৩৮৭১)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3872] অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭২। আবূ বকর ইবনু আবূ শায়বা (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি মদিনার চারপাশে লোক প্রেরণ করলেন যে, কুকুর হত্যা করা হোক।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3873] অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭৩। হুমায়দ ইবনু মাসআদা (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করার জন্য হুকুম দিতেন। অতঃপর আমি মদিনার অভ্যন্তরে ও তার চারপাশের কুকুর ধাওয়া করাতাম। আর কোন কুকুরই আমরা না মেরে ছেড়ে দিতাম না। এমন কি বেদুইনদের দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর সাথে যে কুকুর থাকত তাও আমরা হত্যা করতাম।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)
হাদিস নম্বরঃ [3911] অধ্যায়ঃ ২৩। মুসাকাহ (পানি সেচের বিনিময়ে ফসলের একটি অংশ প্রদান)
পাবলিশারঃ হাদিস একাডেমি
পরিচ্ছদঃ ১০. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা বা এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশে ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৯১১-(৪৬/১৫৭১) ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) ….. ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত যে, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে হুকুম দিয়েছেন। তবে শিকারী কুকুর, বকরী পাহারা দানের কুকুর অথবা অন্য জীবজন্তু পাহারা দেয়া কুকুর ব্যতীত। অতঃপর ইবনু উমারের নিকট বলা হলো যে, আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) তো ক্ষেত পাহারার কুকুরের কথাও বলে থাকেন। ইবনু উমর (রাযিঃ) বললেনঃ আবূ হুরাইরার ক্ষেত আছে। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৮৭৪, ইসলামিক সেন্টার ৩৮৭৩)
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [3874] অধ্যায়ঃ ২৩/ মুসাকাত ও মুযারাত (বর্গাচাষ)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ৯. কুকুর হত্যার আদেশ ও তা রহিত হওয়ার বর্ণনা এবং শিকার করা অথবা ক্ষেত পাহারা বা জীবজন্তু পাহারা ও এ জাতীয় কোন কাজের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পালন করা হারাম হওয়ার বর্ণনা
৩৮৭৪। ইয়াহইয়া ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে শিকারী কুকুর, বকরী (পাহারা দানের কুকুর) অথবা অন্য জীবজন্তু পাহারা দেওয়া কুকুর ব্যতীত। এখন ইবনু উমর (রাঃ) কে বলা হল যে, আবূ হুরায়রা (রাঃ) তো ক্ষেত পাহারার কুকুরের কথাও বলে থাকেন। ইবনু উমর (রাঃ) বললেন, আবূ হুরায়রার ক্ষেত আছে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [5632] অধ্যায়ঃ ৪১/ সাপ ইত্যাদি নিধন
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ পরিচ্ছেদ নাই
৫৬৩২। হাজিব ইবনু ওয়ালীদ (রহঃ) … ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে আমি কুকুর নিধনের হুকুম জারী করতে শুনেছি, তিনি বলতেন, সাপগুলি আর কুকুরগুলি মেরে ফেল। আর (বিশেষত) পিঠে দু’সাদা রেখাবিশিষ্ট ও লেজবিহীন সাপ মেরে ফেল। কেননা এ দুটি মানুষের দূষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেয় এবং গর্ভবতীদের গর্ভপাত ঘটায়। (সনদের মধ্যবর্তী) রাবী যুহরী (রহঃ) বলেন, আমাদের ধারণায় তা এদের বিষের কারণে; তবে আল্লাহ তাআলাই সমধিক অবগত। রাবী সালিম (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) বলেছেন, এরপরে আমার অবস্থা দাঁড়াল এই যে, কোন সাপ দেখতে পেলে তাকে আমি না মেরে ছেড়ে দিতাম না।
একদিনের ঘটনা, আমি বাড়ি-ঘরে অবস্থানকারী ধরনের একটি সাপ তাড়া করছিলাম। সে সময় যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বা আবূ লূবাবা (রাঃ) আমার কাছ দিয়ে যাচ্ছিলেন, আর আমি তাড়া করে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন, থামো! হে আবদুল্লাহ! তখন আমি বললাম, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এদের মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছেন। তিনি বললেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘর-দুয়ারে বসবাসকারী সাপ নিধন করতে নিষেধও করেছেন।
হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া, আবদ ইবনু হুমায়দ ও হাসান হুলওয়ানী (রহঃ) … যুহরী (রহঃ) থেকে উল্লেখিত সনদে হাদীস রিওয়ায়াত করেছেন। তবে (শেষ সনদের) রাবী সালিহ (রহঃ) বলেছেন, অবশেষে আবূ লূবাবা ইবনু আবদুল মুনযির (রাঃ) এবং যায়দ ইবনু খাত্তাব (রাঃ) আমাকে দেখলেন …… এবং তাঁরা দুাজন বললেন যে, ঘর-দুয়ারে বসবাসকারী সাপ নিধন করতে নিষেধ করেছেন। আর (প্রথম সনদের) রাবী ইউনূস (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে রয়েছে- ‘সব সাপ মেরে ফেল’।তিনি (বিশেষ করে) ‘পিঠে দু’সাদারেখা বিশিষ্ট ও লেজবিহীন সাপ’ কথাটি বলেন নি।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [546] অধ্যায়ঃ ২/ তাহারাত (পবিত্রতা)
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২৭. কুকুরের উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে বিধান
৫৪৬। উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয (রহঃ) … ইবনুল মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে বললেন, তাদের কী হয়েছে যে, তারা কুকুরের পিছনে পড়লো? তারপর শিকারী কুকুর এবং বকরীর (পাহারা দেয়ার) কুকুর রাখার অনুমতি দেন এবং বলেন, কুকুর যখন পাত্রে মুখ লাগিয়ে পান করবে তখন তা সাতবার ধুইয়ে ফেলবে এবং অষ্টমবার মাটি দিয়ে ঘষে ফেলবে।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

গ্রন্থের নামঃ সহীহ মুসলিম (ইফাঃ)
হাদিস নম্বরঃ [5335] অধ্যায়ঃ ৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা
পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
পরিচ্ছদঃ ২১. জীব-জন্তুর ছবি অংকন করা নিষিদ্ধ হওয়া এবং চাদর ইত্যাদিতে সুস্পষ্ট ও অবজ্ঞাপূর্ণ নয় এমন ছবি থাকলে তা ব্যবহার করা হারাম হওয়া এবং যে ঘরে কুকুর ও ছবি থাকে সে ঘরে ফেরেশতাগণ প্রবেশ করেন না
৫৩৩৫। হারামালা ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মায়মুনা (রাঃ) আমাকে (হাদীস) অবহিত করেছেন যে, একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে বিষণ্ণ অবস্থায় উঠলেন। তখন মায়মুনা (রাঃ) বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আজ আপনার চেহারা বিমর্ষ দেখছি! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জিবরীল (আলাইহিস সালাম) আজ রাতে আমার সঙ্গে মুলাকাত করার ওয়াদা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে মুলাকাত করেননি। জেনে রাখ, আল্লাহর কসম! তিনি (কখনো) আমার সঙ্গে ওয়াদা খেলাফ করেননি। পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সে দিনটি এভাবেই কাটালেন।
এরপর আমাদের পর্দা (ঘেরা খাট) এর নিচে একটি কুকুর ছানার কথা তাঁর মনে পড়ল। তিনি হুকুম দিলে সেটিকে বের করে দেয়া হল। তারপর তিনি তাঁর হাতে সামান্য পানি নিয়ে তা ঐ (কুকুর ছানার বসার) স্থানে ছিঁটিয়ে দিলেন। পরে সন্ধ্যা হলে জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সঙ্গে মুলাকাত করলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন, আপনি তো গতরাতে আমার সাথে মুলাকাতের ওয়াদা করেছিলেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ। তবে আমরা (ফিরিশতারা) এমন কোন ঘরে প্রবেশ করিনা, যে ঘরে কোন কুকুর থাকে কিংবা কোন (প্রানীর) ছবি থাকে।
পরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেদিন ভোরবেলায় কুকুর নিধনের আদেশ দিলেন, এমনকি তিনি ছোট বাগানের পাহারাদার কুকুরও মেরে ফেলার হুকুম দিয়েছিলেন এবং বড় বড় বাগানের কুকুরগুলোকে রেহাই দিয়েছিলেন।
হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)

রেফারেন্সসমূহঃ
[১] Origin of dogs traced
[২]  Ancient Dog Skull Shows Early Pet Domestication
[৩] Cynophobia 
[৪]  More Evidence That Owning a Dog Is Really Good for You
[৫] Why ‘dog-speak’ is important for bonding with your pet
[৬] How therapy dogs ease the tension for patients, families at Overlake and other Seattle-area hospitals
[৭] Dog-owners ‘lead healthier lives’
[৮] Association between pet ownership and coronary artery disease in a Chinese population

Facebook Comments
  1. আসিফ তুই মূর্খ ও পাগল ! তুই কুত্তা নিয়েই পড়ে থাক। Mohamed sm সর্ব যুগের সেরা মানব। তাকে বিচার করা তোদের মতো নাস্তিক কাফেরের কর্ম না।

  2. ছোট বেলায় কুকুর পুষতে চেয়েছিলাম। মা পুষতে দেয়নি , বলেছিলো কুকুর পুষলে ঘরে ফেরেস্তা আসবে না

  3. আল্লাহ মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) এর হাতে তুলে দিতে পারত কম্পিউটার বা এন্ডরয়েড স্মার্ট ফোন জিহাদে কাজে লাগতো |
    কোরান ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল করতে পারতো তাহলে আমরা অন্তত অমুস্লিমদের বা নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পারতাম দ্যাখ ব্যাটা পৃথিবীর প্রাথম কোন ধর্ম গ্রন্থ ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল হয়েছে

    সবখেত্রে অমুস্লিমদের সাহায্য ছাড়া চলেনা | তারা এগুলো কোন ধর্ম গ্রন্থ পড়ে তৈরী করেনি বরং মুক্ত জ্ঞান থেকে করেছে |

  4. saat up !
    যদি আল্লাহ বলে কিছু থাকতো বা মহম্মদের কিছু ক্ষমাতা থাকতো তাহলে মহম্মদকে তিনি কাফের অমুস্লিমদের হত্যা করতে তিনি মিগ-30,এফ-১৬ বা জগুয়ার যুদ্ধবিমান বা একে ৪৭ বন্দুক বা অটোম্যাটিক আস্যাল্ট রাইফেল কিম্বা অ্যাটম বা হাইড্রোজেন বোমা তুলে দিতেন | কিন্তু এগুলা অমুস্লিমদের আবিষ্কার | লড়তে হয়েছে তরোয়াল আর প্রাচীন অস্ত্রে |
    মুমিনরা যুদ্ধ করতে গিয়ে বা দুর্ঘটনাতে রক্তের অভাবে মারা যাই | তখন দরকার রক্তের | কিন্তু রক্তের ABO সিস্টেম ও রক্ত সঞ্চাল পদ্ধতি অমুস্লিমদের আবিষ্কার
    অর্থাৎ আল্লাহ বা মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) মুমেনদের জিহাদে তাদের কোনকিছু দিয়ে বা মৃত্যু হতে রক্ষা করতে নুন্যতমও সাহায়্য করেনি | দরকার পড়ে অমুস্লিমদের

    আল্লাহ মহম্মদ(মহাঊন্মাদ) এর হাতে তুলে দিতে পারত কম্পিউটার বা এন্ডরয়েড স্মার্ট ফোন জিহাদে কাজে লাগতো |
    কোরান ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল করতে পারতো তাহলে আমরা অন্তত অমুস্লিমদের বা নাস্তিকদের দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে পারতাম দ্যাখ ব্যাটা পৃথিবীর প্রাথম কোন ধর্ম গ্রন্থ ডিজিট্যাল ফরমেটে নাজিল হয়েছে

    সবখেত্রে অমুস্লিমদের সাহায্য ছাড়া চলেনা | তারা এগুলো কোন ধর্ম গ্রন্থ পড়ে তৈরী করেনি বরং মুক্ত জ্ঞান থেকে করেছে |

    তাহলে বুঝাই গেল কুরান হদীস এসব হল বানোয়াট মহাঊন্মাদ ‘The Fraud’ এর কল্পিত গালগল্প ছাড়া কিছুই না |

    মিথ্যা ধাপ্পাবাজির খপ্পরে কুপমুন্ডুক হয়ে চিরকাল মহাঊন্মাদ এর কল্পিত আল্লাহর গোলামী না করে মধ্যযুগিয় বর্বর বদ্ধ পশ্চাৎপদী চিন্তাধারায় পড়ে না থেকে মনকে প্রসারিত করা দরকার যাতে অন্তত সত্য উপলব্ধি করতে পারি |
    mukto hok Gayan