কোরান মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ -মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

কোরান বিশ্লেষণের সময় ‘ নসখ ’ নামের একটি আরবি শব্দ ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবহার করা হয়। এর অর্থ হলো, যা রহিত করে। ‘নসখ’ এর বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে ‘মানসুখ’ শব্দটি। মানসুখ অর্থ – যা রহিত করা হয়েছে। কোরানের কিছু আয়াতকে ‘মানসুখ’ আয়াত এবং আরো কিছু আয়াতকে ‘নসখ’ আয়াত বলা হয়। নসখ আয়াতের বিধান দ্বারা মানসুখ আয়াতের বিধান রহিত ও প্রতিস্থাপিত হয়। কোরান যে মানুষের রচিত একটি গ্রন্থ, নসখ-মানসুখের বিষয়টি হচ্ছে এর শ্রেষ্ঠ প্রমাণ।

নবী মুহাম্মদের কাছে অহী হিশেবে কিছু কিছু করে আয়াত এসেছে। বেশীরভাগ আয়াত এসেছে তাৎক্ষনিক কোন সমস্যা সমাধানের জন্য। যেমন ধরুন, একজন এসে বললো, যুদ্ধে বন্দী হওয়া সধবা নারীদের সাথে সেক্স করা যাবে কিনা। কিছু সময়ের মধ্যে এই বিষয়ে নবী মুহাম্মদের কাছে অহী পাঠানো হলো। তিনি বললেন, আল্লাহ বলেছেন, “নারীদের মধ্যে তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসী ব্যতিত সকল সধবা তোমাদের জন্য নিষিদ্ধ………”

এই আয়াতের মানে হলো, যুদ্ধবন্দী নারীগণ যেহেতু দাসী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত, সেহেতু তারা সেক্স করার জন্য বৈধ! এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না। এখানে আমি রেফারেন্স দিচ্ছি এবং কমেন্টে এর স্ক্রিনশটও দিয়ে দেবো।

রেফারেন্সঃ এক
০১) সুরা নিসা ২৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ২য় খণ্ড ৩৪৩ পৃষ্ঠা।
০২) সুনানে নাসায়ি ৩৩৩৪ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২১৫২ নং হাদিস।

এভাবে আল্লাহপাক নবী মুহাম্মদের মাধ্যমে মানুষের দৈনন্দীন সমস্যা সমাধান করেছেন। ভালো কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, একটি বিষয়ে তিনি আয়াত পাঠানোর কিছুদিন পরে অন্য আয়াত পাঠিয়ে আগের আয়াতকে বাতিল করে দিয়েছেন। ব্যপারটা সহজ করে বলতে পারছি না। একটি উদাহরণ দিই।

সদ্যবিধবা নারীদের সম্পর্কে নবী মুহাম্মদের কাছে একবার আয়াত পাঠানো হলো যে, তারা পূর্ণ একবছর স্বামীগৃহে অবস্থান করে ইদ্দত পালন করবে। ইদ্দতের সময়ে তাদের জন্য বিবাহ করা নিষিদ্ধ। এই একবছর ভরণপোষনের জন্য যথেষ্ঠ পরিমাণ সম্পদ যেন স্বামী তাদেরকে অসিয়ত করে যায়।

পরবর্তীতে এই আয়াত বাদ দিয়ে নতুন আয়াত পাঠানো হলো, হাদিস বর্ণনা করা হলো। সেখানে বলা হলো, এক বছর ইদ্দত পালনের দরকার নেই, চার মাস দশ দিন করলেই হবে। আগে শুধু স্বামীগৃহে থেকে ইদ্দত পুরো করতে হতো। নতুন বিধান অনুসারে, যেখানে খুশি থাকতে পারবে, স্বামীগৃহে কিংবা স্বামীগৃহের বাইরে। এক্ষেত্রে আগের আয়াতকে আমরা মানসুখ ও নতুন আয়াতকে নসখ আয়াত হিশেবে চিহ্নিত করতে পারি।

রেফারেন্সঃ দুই
০১) সুরা বাকারা ২৪০ ও ২৩৪ নম্বর আয়াত এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ১ম খণ্ড ৬৮০-৮১ পৃষ্ঠা।
০২) সহিহ বোখারি ৪১৭৪, ৪১৮০ ও ৪২২৩ নং হাদিস; সুনানে নাসায়ি ৩৫৩২ ও ৩৫৪৪-৪৫ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২২৯২ নং হাদিস।

স্বয়ং কোরানের মধ্যে এভাবে নসখ-মানসুখের ব্যপারটিকে স্পষ্ট ভাষায় স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, “আমি কোন আয়াতকে রহিত করলে কিংবা বিস্মৃত করলে পরিবর্তে এর চেয়ে ভালো বা এর অনুরূপ আয়াত অবতীর্ণ করি, তুমি কী জান না যে, আল্লাহ সব বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান?” কী চমৎকার একটি কথা! এখন আপনিই বলুন, এরকম নসখ-মানসুখ আয়াত দ্বারা পরিপূর্ণ কোরানকে কোন যুক্তিতে ঐশ্বরিক গ্রন্থ হিশেবে আখ্যায়িত করা যায়? আমাদের কি সেই সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন আছে, যিনি বারবার ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলেন! ভুল সংশোধন করে আবার নতুন বিধান পাঠান, যেটি নিজেও এখন অগ্রহণযোগ্য!

রেফারেন্সঃ তিন
০১) সুরা বাকারা ১০৬ নম্বর আয়াত; সুরা নাহল ১০১ নম্বর আয়াত এবং সুরা হজ্জ ৫২-৫৩ নম্বর আয়াত।

রহিত হওয়া আয়াতের সংখ্যা মোটেও কম নয়। নবী মুহাম্মদের সাহাবি ও সাহাবিদের সংস্পর্শে আসা তাবেয়িগণের মতে, অন্তত পাঁচশ আয়াত রহিত হয়ে গেছে। এসব আয়াতের বিধান এখন আর কার্যকর নয়, যদিও এর প্রায় সবই এখনো কোরানে রয়ে গেছে। নসখ-মানসুখের দিক দিয়ে তারা সমস্ত সুরাকে চারটি ভাগে ভাগ করেছেন –
ক. ৩০টি সুরায় নসখ-মানসুখ উভয় ধরনের আয়াত রয়েছে। অর্থাৎ, এসব সুরায় বিধান রহিতকারী আয়াতও রয়েছে, পাশাপাশি পুরাতন বিধান সমৃদ্ধ আয়াতও রয়েছে।
খ. ৩৬টি সুরায় শুধু মানসুখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এদেরকে যে আয়াতগুলো রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় স্থান পেয়েছে কিংবা এদের পরিবর্তে অন্য কোন আয়াত পাঠানো হয়নি।
গ. ০৬টি সুরায় শুধু নসখ আয়াতসমূহ রয়েছে। এই আয়াতগুলো যাদেরকে রহিত করেছে, সেগুলো অন্য সুরায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘ. ৪২টি সুরায় নসখ বা মানসুখ জাতীয় কোন আয়াত নেই। এগুলো ঝামেলামুক্ত।

রেফারেন্সঃ চার
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৩-০৪ পৃষ্ঠা।
০২) Abrogation in the Quran ০৬-০৯ এবং ৭৪-৭৭ পৃষ্ঠা।
০৩) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।

সাহাবি ও তাবেয়িগণ পাঁচ শতাধিক রহিত হয়ে যাওয়া আয়াতের কথা বলেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে আলেমগণ এদের মধ্যে অনেকগুলো আয়াতকে রহিতের তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে, এখনো প্রচুর মতানৈক্য রয়েছে।

যেমন, ধারনা করা হয়, সুরা বাকারায় অন্তত তেইশটি আয়াত বা আয়াতের অংশবিশেষ অন্য আয়াত দ্বারা রহিত করা হয়েছে। কিন্তু ইবনুল আরাবি, জালালুদ্দিন সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ শুধু ছয়টি আয়াতকে রহিত হিশেবে গণ্য করেছেন। সাহাবিদের অগ্রাহ্য করে এখন তাদের মতামতই অনুসরণ করা হয়।

রেফারেন্সঃ পাঁচ
০১) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৬-০৯ পৃষ্ঠা।
০২) আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির ৪৬ পৃষ্ঠা।

অথচ তারা এমন কিছু আয়াতকে বাদ দিয়েছেন, যা পড়লে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, এসব আয়াতের বিধান অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা বাকারার ৬২ নম্বর আয়াতটি পরীক্ষা করে দেখতে পারি। এখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “নিশ্চয়ই ইয়াহুদি, ক্রিশ্চিয়ান এবং সাবেঈন সম্প্রদায়, এদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও কেয়ামতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপণ করে এবং ভালো কাজ করে, তাদের জন্য তাদের প্রভুর নিকট পুরস্কার রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।”

এই আয়াত পড়ে মনে হতে পারে, ভালো ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ান-সাবেঈনগণ বেহেশতে চলে যাবেন। উল্লেখ্য যে, আরবের ইহুদি-ক্রিশ্চিয়ানগণ সৃষ্টিকর্তাকে ‘আল্লাহ’ বলেই ডাকতো এবং পরকালেও বিশ্বাস করতো। সুতরাং তারা তাদের ভালো কাজের প্রতিদান পাবে। বড়োই ধর্মনিরপেক্ষ আয়াত! কিন্তু এই আয়াতকে রহিত করেছে সুরা ইমরানের ৮৫ নম্বর আয়াত। যে আয়াতটি ঘোষণা দিয়েছে –
“আর যে কেউ ইসলাম ব্যতীত অন্য জীবনব্যবস্থা অন্বেষণ করে, তা কখনোই তাঁর নিকট হতে পরিগৃহীত হবে না, অতএবপরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

এর মানে হলো, নেলসন ম্যান্ডেলা ও মাদার তেরেসার ভালো কাজের কোন মূল্য নেই। যেহেতু তারা ক্রিশ্চিয়ান, সেহেতু তারা ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। উপরের আয়াত দুটি স্পষ্ট দ্বিমুখী, তবু একে মানসুখ হিশেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এরকম অসংখ্য আয়াতকে রহিত হিশেবে মনে না করলেও ইবনে আরাবি, সুয়ুতি প্রমুখ আলেমগণ বেশকিছু আয়াতকে রহিত বলে স্বীকার করে নিয়েছেন। এসবের মধ্যে পাঁচটি সুরার পাঁচটি আয়াতকে নিয়ে সংক্ষিপ্ত একটি বিবরণ দিচ্ছি।

সুরা বাকারার ১৮০ নং আয়াতে পিতামাতা ও আত্নীয়দের জন্য অসিয়ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। শুরুতে নিয়ম ছিল, অসিয়ত হবে পিতামাতা-আত্নীয়-স্বজনের জন্য এবং উত্তরাধিকার হিশেবে রেখে যাওয়া সম্পদ হবে সন্তানাদির জন্য। অসিয়ত না করলে পিতামাতার জন্য কিছু থাকবে না। পরবর্তীতে সবার জন্য নির্দিষ্ট হারে সম্পদ ভাগাভাগি করে নিতে সুরা নিসার ১১ নং আয়াত দ্বারা একে রহিত করা হয়।

সুরা ইমরানের ১০২ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহকে যতোটুকু ভয় করা উচিত, ততোটুকুই ভয় করো”। পরবর্তীতে একে রহিত করে দিয়ে সুরা তাগাবুনের ১৬ নং আয়াতে বলা হয়েছে আল্লাহকে সাধ্যমতো ভয় করার কথা।

সুরা আনফালের ৬৫ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বিশ জন ধৈর্যশীল জিহাদি থাকলে তারা দুইশ জনের সাথে জয়ী হবে”। এই আয়াতের বিধান হলো, প্রতি দশজনের বিপরীতে একজন জিহাদিও যদি থাকে, সে যেন পালিয়ে না আসে। এই বিধান রহিত করে পরবর্তী আয়াতে নতুন বিধান দেয়া হলো, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন জয়ী হবে। অর্থাৎ, দুইশ জনের বিপরীতে একশ জন থাকলে তারা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে অটল থাকে। তবে সংখ্যাটি একশ জনের কম হলে পালিয়ে আসা যাবে।

সুরা আহযাবের ৫২ নং আয়াতে নবীমুহাম্মদকে আরো অতিরিক্ত বিবাহ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু একই সুরার ৫০ নং আয়াত দ্বারা বিবাহ নিষিদ্ধ করার এই আদেশ রহিত করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তিনি চাইলে ইচ্ছেমতো আরো বিবাহ করতে পারেন।

সুরা মুজাদালার ১২ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, নবী মুহাম্মদের সাথে চুপে চুপে কথা বলতে হলে সামর্থবানদের আগে সাদাকা প্রদান করতে হবে। এই বিধান রহিত করে দেয়া হয় পরবর্তী আয়াতে।

রেফারেন্সঃ ছয়
০১) সহিহ বোখারি ৪২২৩ ও ৬২৮৩ নং হাদিস এবং সুনানে আবু দাউদ ২৮৫৯ নং হাদিস।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৭ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ২০ পৃষ্ঠা।
০৩) সহিহ বোখারি ৪২৯৬-৯৭ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ২৬৩৮ নং হাদিস এবং তাফসিরে ইবনে কাসির ৩য় খণ্ড ৬১৫ পৃষ্ঠা।
০৪) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা।
০৫) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৮ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ৬৮ পৃষ্ঠা।

নসখ-মানসুখ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, কোরান মানবসৃষ্ট একটি গ্রন্থ। এখানে মাঝে মধ্যে ভুল বিধান অনুসরণ করতে বলা হয়। যখন দেখা যায়, এই বিধান কাজ করছে না, বরং সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, তখন সেই ভুল শুধরে নিয়ে নতুন বিধান প্রতিস্থাপণ করা হয়। হাস্যকর ব্যপার। নসখ-মানসুখের ব্যপারটি এখানেই শেষ নয়। মূলত তিন ধরনের নসখ-মানসুখ দেখা যায়।
ক. আয়াত কোরানে আছে, কিন্তু বিধান রহিত করে দেয়া হয়েছে। উপরে আমরা যা আলোচনা করেছি, সেটা এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।
খ. আয়াত কোরান থেকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বিধান বহাল রাখা হয়েছে। রজম বা পাথর নিক্ষেপে হত্যা করা সংক্রান্ত বিধানটি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। খলিফা উমর বলেছেন, রজমের আয়াত কোরানে ছিল, তারা এই আয়াতের বিধান নবী মুহাম্মদের আমলে অনুশীলনও করেছেন। কিন্তু বর্তমান কোরানে এটি রাখা হয়নি। উমর এটাও বলেছেন যে, সমালোচনার ভয় না থাকলে তিনি এটি কোরানের অন্তর্ভূক্ত করতেন।
গ. আয়াত ও বিধান, উভয়ই বাতিল করে দেয়া হয়েছে। মানে হলো, রহিত হওয়া আয়াত কোরানে রাখা হয়নি। সেই আয়াতের বিধানও এখন আর অনুশীলন করা হয় না। নবী মুহাম্মদের খাদেম আনাস বিন মালিক সুরা তাওবার ক্ষেত্রে এ ধরনের একটি আয়াতের কথা উল্লেখ করেছেন। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদও এমন একটি আয়াতের বর্ণনা দিয়েছেন। নবীপত্নী আয়েশা বর্ণিত দুধপান সংক্রান্ত আয়াতটিও এই বিভাগের মধ্যে পড়ে।

‘খ’ ও ‘গ’ নম্বর নিয়ে অনেক মতানৈক্য রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এগুলো রহিত হয়নি, বরং হারিয়ে গেছে বা কোরান সংকলনের সময় বিভিন্ন কারনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রেফারেন্সঃ সাত
০১) সহিহ মুসলিম ৪২৭১ নং হাদিস; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৬৫ নং হাদিস; সুনানে ইবনে মাজাহ ২৫৫৩ নং হাদিস; আল ইতকান ২য় খণ্ড ১৬ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫পৃষ্ঠা।
০২) আল ইতকান ২য় খণ্ড ০৪ পৃষ্ঠা এবং Abrogation in the Qoran ০৫ পৃষ্ঠা।

সবশেষে আরেকটি কথা। অসংখ্য হাদিস রয়েছে, যেখানে একটি বিশেষ ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। সুরা নিসার ৯৫ নম্বর আয়াত নবী মুহাম্মদের উপর অবতীর্ণ করা হলো। এখানে বলা হলো –
“মুমিনদের মধ্যে যারা ঘরে বসে থাকে এবং যারা জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে, তারা সমান নয়”।

সাহাবিগণ আয়াতটি লিখে রাখলেন। এসময় অন্ধ সাহাবি উম্মে মাকতুম বললেন, ‘হে রাসুলুল্লাহ! আমি দৃষ্টিহীন। সামর্থ থাকলে তো আমিও জিহাদে যেতাম’। তখন নবী মুহাম্মদ এই আয়াতের মধ্যে ‘গাইরু উলিদ দারার’ বা ‘অপারগ ব্যক্তিগণ ব্যতিরেকে’ শব্দগুলো অন্তর্ভূক্ত করলেন। এটা কী প্রমাণ করে?

রেফারেন্সঃ আট
০১) সহিহ বোখারি ৪২৩৮-৩৯ নং হাদিস এবং সুনানে নাসায়ি ৩১০২ নং হাদিস।

রেফারেন্সগুলো যেসব বই থেকে নেয়া হয়েছে, সেগুলো ডাউনলোডের লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি, যেন আপনারা নিজেরাই এটা মিলিয়ে নিতে পারেন।

এক। অধ্যাপক ডঃ মুজিবুর রহমান অনূদিত “কোর’আনুল কারিম”; দারুস সালাম প্রকাশনী।

দুই। ইবনে কাসির রচিত “তাফসিরে ইবনে কাসির”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

তিন। জালালুদ্দিন সুয়ুতি রচিত “আল ইতকান ফি উলুম আল কুর’আন”(ইংলিশ); অনুবাদ মুনির ফরিদ।

চার। ইমাম বোখারি কর্তৃক সংকলিত “সহিহ বোখারি”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

পাঁচ। ইমাম মুসলিম কর্তৃক সংকলিত “সহিহ মুসলিম”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ছয়। ইমাম আবু দাউদ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে আবু দাউদ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

সাত। ইমাম ইবনে মাজাহ কর্তৃক সংকলিত “সুনানে ইবনে মাজাহ”; অনুবাদ ও প্রকাশনায় তাওহিদ প্রকাশনী।

আট। আনওয়ারুল হক রচিত “Abrogation in the Qoran”

নয়। শাহ্‌ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রচিত “আল ফাউযুল কবির ফি উসুলিত তাফসির”; অনুবাদ অধ্যাপক আখতার ফারুক।

আর কমেন্টে প্রতিটি রেফারেন্সের স্ক্রিনশটও দিচ্ছি। কোরান দিয়ে নবী মুহাম্মদ যে আমাদের পূর্বপুরুষদের অসংখ্যবার বোকা বানিয়েছেন, সেটা আমাদের সকলের জানা প্রয়োজন।

(২২/০৭/১৬ তারিখের স্ট্যাটাসের পুনঃপ্রকাশ)

লেখকঃ শাহিনুর রহমান শাহিন

রেফারেন্সের স্ক্রিনশট

একঃ

 

দুইঃ

 

তিনঃ

 

চারঃ

 

পাঁচঃ

ছয়ঃ

সাতঃ

 

আটঃ

Facebook Comments

Leave a Reply

%d bloggers like this: