সহীহ বুখারী কেন মিথ্যাচার (পর্ব ২)

সহীহ বুখারী শরীফের অনেক কিছু যে মিথ্যা তার প্রথম প্রমাণ কোরআন শরীফ নিজেই। কোরআন শরীফে অনেকবার বলা হয়েছে নবী মুহাম্মদ ছিলেন অন্য সবার মতোই সাধারন মানুষ । তিনি কোন অলৌকিক কাজ করে দেখান না, কোন মিরাকল প্রদর্শন করেন না। কোরআন শরীফে এমন অনেক আয়াত আছে (২:১১৮-৬:৩৭-১০:২০-১৩:৭-১৩:২৭) যেখানে প্রমান রয়ে গেছে নবী মুহাম্মদকে যারা বিশ্বাস করত না তারা প্রশ্ন করত একটি অলৌকিক কাজ করে দেখাতে। নবী মুহাম্মদ কোন অলৌকিক কাজ করে দেখাতে পারেননি।  তাই তিনি বলতে থাকেন কোরআন শরীফ ই তার অলৌকিক কাজ। এই জাতীয় আয়াতের বারবার আগমন প্রমান করে যে নবী মোহাম্মদ আসলে কখনো কোনো মিরাকল ঘটাতেন না। যদিও আমরা দেখি বুখারী শরীফে নবী মোহাম্মদকে উপস্থাপন করা হয়েছে একজন অতি মানব হিসেবে যে নিয়মিত অলৌকিক কিছু না কিছু ঘটাতেন। কোরআন বিশ্বাসকারীদের জন্য বুখারী শরীফ কে অবিশ্বাস করতে এতটুকুই যথেষ্ট।

একবার নবী মুহাম্মদের সৈন্যদলের একজন সৈন্য তাকে খাবার জন্য একটি ছোট্ট ছাগল দিলেন । (১) কিন্তু নবী মুহাম্মদ তাকে অবাক করে দিয়ে পুরো সৈন্যদলের সবাইকে তার সাথে খাবার জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। যতবারই  তারা খেলো খাবারের পরিমাণ কমলো না বরং বাড়তে থাকল। এ ব্যাপারে একটু চিন্তা করে দেখুন। এখানে অদ্ভুত ব্যাপার ঘটেছে – এইজন্য  না যে এই গল্পটা কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক, এই জন্য যে এই গল্পটি বাইবেলেও আছে। যীশুখ্রীষ্ট তার লোকদেরকে রুটি বিলি করছিলেন এবং রুটির পরিমাণ অনেক কম ছিল তারপরও দেখা গেল, যতই লোকজন খেতে থাকলো রুটির পরিমাণ বাড়তে লাগলো।  গল্পটা পুরোপুরি বাইবেল থেকে কপি করা হয়েছে শুধু যিশুখ্রিস্টের জায়গায় নবী মোহাম্মদের নাম বসিয়ে দেয়া হয়েছে।

অন্য এক হাদিসে নবী মোহাম্মদের একজন সাহাবীর একটি চোখ মারাত্মক রকমের  আঘাতপ্রাপ্ত হয় – বর্ণনা অনুযায়ী তার চোখ কোটর থেকে বের হয়ে এসে বাইরে ঝুলছিল। (২) নবীজি নিজের হাতে তা আবার কোটরে বসিয়ে দিলেন। তারপর ঐ সাহাবী দেখলেন যে তার চোখটি আগের চেয়ে ভালো কাজ করতে শুরু করলো ।

অথবা তিনি যখন নিজের ইচ্ছায় বৃষ্টি (৩) নামাতেন অথবা নবীজি যখন গাছের (৪) সঙ্গে কথা বলতেন বা পশুদের (৫) সাথে কথা বলতেন।

এই সমস্ত গল্প যদি সত্য হত তাহলে কোরআন শরীফে অবশ্যই নবী মোহাম্মদকে কোন প্রকার অলৌকিকতার ক্ষমতাহীন সাধারণ মানুষ হিসাবে বর্ণনা করা হতো না। মানুষেরা বারবার তার কাছে অলৌকিক কাজের প্রমাণ দাবি করত না। কোরআন শরিফের মধ্যেই এসব অলৌকিক কাজের বর্ণনা লেখা থাকতো।

আসুন একটু চিন্তা করে দেখি, কুরআন শরীফ আবু লাহাব এবং তার স্ত্রীকে অভিশাপ দেয় তিরস্কার করে কিন্তু তারপরও কোন মিরাকল দেখায় না।  আসলে কোনটা বেশি জরুরি ছিল আবু লাহাব কে অভিশাপ দেয়া নাকি কোরআন শরীফে নবীজির কিছু অলৌকিক কাজের বর্ণনা দেয়া। যাতে ভবিষ্যত প্রজন্ম কোরআনের উপর আস্থা আনতে পারে, নবী মুহাম্মদকে নবী হিসেবে গ্রহণ করতে পারে।

এখন চলুন ভেবে দেখি আসলে কি  আল বুখারী এই সব কিছু নিজে বানিয়ে ছিলেন? তা হতেই হবে এমন কিন্তু নয়।  দেখুন নবী মুহাম্মদ এমন একজন ব্যক্তি ছিলেন যিনি নবী হওয়া সত্ত্বেও কোন অলৌকিক কাজ দেখাতে পারেননি। এইটাই অবিশ্বাসী মানুষদের অন্যতম অভিযোগ ছিল। আমি বলতে চাচ্ছি যখন নবীজি নিজে জীবিত ছিলেন এবং যুদ্ধে নিয়োজিত থাকতেন সেই সময়েই অনেকে রক্ত মাংসে নিজ ব্যক্তিত্ব নিয়ে উপস্থিত মানুষটাকে অনুসরণ করত না কিংবা বিশ্বাস করত না এমনকি বিরোধিতা করতো । এখন কল্পনা করে দেখুন তিনি যখন মারা গেলেন – তার মৃত্যুর পর তাকে কেউ অনুসরণ না করার যথেষ্ট কারণ ছিল। আর তাই বুখারীর জন্মের আগে যারা নবী মোহাম্মদকে অনুসরণ করতো, তারা তাকে নিয়ে এসব গল্প  বানিয়েছিল যাতে নবী মোহাম্মদ যতটা না বাস্তবে ছিলেন তাদের কল্পনায় যাতে সে আরো বেশি বিশাল কিছু হতে পারে।

আমি বলতে চাচ্ছি এমন কি বর্তমান বিজ্ঞানের যুগেও যখন  একদিকে কোয়ান্টাম ফিজিক্স, বায়ো কেমিস্ট্রি চর্চা চলে অন্যদিকে পাদ্রী, পীর কিংবা বুজুর্গ ব্যক্তিদের নামে গুজব রটানো হয়ে থাকে যে তারা নাকি রোগ মুক্ত করতে পারে, অন্ধত্ব দূর করতে পারে,

জিনে ধরা মানুষের কাছ থেকে জিন দূর করতে পারে। এই জাতীয় অনেক গুজব রটানো হয় থাকে। (সাঈদীকে চাঁদে দেখা যায়, সায়দাবাদী আল্লাহর সাথে মিটিং করে, নীল আমস্ট্রং  কিংবা সুনিতা উইলিয়াম ইসলাম গ্রহণ করে কিংবা ইসলাম ধর্মকে পৃথিবীর সবচেয়ে শান্তির ধর্ম হিসেবে জাতিসংঘের একটি সংস্থা থেকে স্বীকৃতির ভুয়া সার্টিফিকেট ছড়ানো হয়) । বর্তমান ইন্টারনেটের যুগেও যদি এসব কিছুই সম্ভব হয় এত শত বছর আগে যারা মরুভূমির তাঁবুর মধ্যে রাত কাটাতো তারা কি তাদের চোখে সবচেয়ে কিংবদন্তির ব্যক্তি সম্পর্কে কি এই ধরনের কথা বলতে পারে না যে সেও অলৌকিক কাজ করে দেখাতো?

বুখারীর সাথে ঐতিহাসিকদের মতবিরোধঃ

সহীহ আল বুখারী বই কিংবা যে কোন হাদিস বই তে আমরা যখন ইসলাম বা তার নবী সম্পর্কে জানতে পারি তখন বারবার মক্কা নগরীর কথা উঠে আসে। যা কিনা খুবই বিখ্যাত ব্যবসা-বাণিজ্যের এবং প্রার্থনার কেন্দ্রবিন্দু  ছিল। তা পড়লে মনে হয় যেন পৃথিবীর সবার কাছে হয়তো এই শহরটা পরিচিত ছিল। অথচ অন্য কোনো ইতিহাস বইতে এই নগরীর কোথাও কোন নাম গন্ধ খুঁজে পাওয়া যায় না। (Patricia crone, Meccan Trade, 134) কোথাও কোন কুরাইশ নামক গোত্রের নাম উল্লেখ করা নাই। আপনারা জানলে আবারো ধাক্কা খাবেন যে আজ পর্যন্ত পাওয়া নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক রেকর্ডে কিংবা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় এমন কোন যুদ্ধের বর্ণনা নাই যাদের নাম বদর, খয়বার, তাবুক কিংবা খন্দক। (An inquiry into Islam’s Obscure Origins, Robert Spenser 181) কিংবা অন্য কোন যুদ্ধ যা নবী মুহাম্মদের বর্ণনায় পাওয়া যায়।  যেখানে বলা হয়েছে যে হাজার হাজার লোক মারা গেছে। আমি যদি ইসলামিক কিতাব সমূহে যা লেখা থাকে তার সঙ্গে ঐতিহাসিক বইসমূহে যা পাওয়া যায় তার মধ্যে অসঙ্গতির কথা খুঁজতে শুরু করলে আমার লেখা আর শেষ হবে না।

একই সঙ্গে ইসলামিক কিতাব সমূহে লেখা থাকে যে ইসলামিক সম্রাজ্যবাদী শাসকরা বিভিন্ন দেশ দখল করে নিয়েছিল  সেই সব দেশের লোকজনের ভালোবাসার কারণে। যদিও ঐতিহাসিকরা পুরোপুরি উল্টো কথা বলেন। মুসলমানরা প্যালেস্টাইন দখল করার ৩০০ বছর পরে আল তাবারি (৬) নামক একজন ব্যক্তি বর্ণনা করে  যে মুসলমানরা যখন প্যালেস্টাইনে প্রবেশ করলো তখন সেখানকার অধিবাসীরা তাদের কে জড়িয়ে ধরে চুমু খেয়েছে। (লাইনটা লিখতে গিয়ে সফুদা র সাথে ঐশ্বরিয়া রায়ের চুমু খাওয়ার সংক্রান্ত ডায়ালগ মনে পড়ে গেল)।

যদিও যখন মুসলমানরা প্যালেস্টাইন দখল করেছিল সেই সময়কার প্যালেস্টাইনের আভ্যন্তরীণ ঐতিহাসিক দের বর্ণনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। আসলে এখানে বলার অপেক্ষা রাখে না যে ও উমারিয়ান আইন সমূহ রেসিজমে পরিপূর্ণ ছিল।  যেমন খ্রিস্টানদের নতুন গির্জা স্থাপনের অনুমতি ছিল না। কিংবা যেসব গির্জা মুসলমানদের আক্রমণের কারণে বিধ্বস্ত হয়েছিল তা সংস্কার করতে দিত না। কোন মুসলিম যদি (যেকোনো কারণেই হোক না কেন) কোন গির্জা  ঢুকতে চাইতো তখন খ্রিস্টানদের দরজা খুলে দিতে হতো, তাকে খাবার পানি দিয়ে আপ্যায়ণ করতে হতো বা যদি সে বসতে চাইতো খ্রীষ্টানরা নিজেরা দাঁড়িয়ে তাকে বসার জায়গা দিতে হতো।

আর একটি ঐতিহাসিক মিথ্যে বা অতিরঞ্জিত গল্প হচ্ছে Abrha Al Habashi হস্তী বাহিনী দিয়ে কাবা শরীফ আক্রমণের ঘটনা যা নাকি আল্লাহতালা পাখি পাঠিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে প্রতিহত করেছে।  যে কোন যৌক্তিক ব্যক্তি যে নিজের বুদ্ধি ব্যবহার করেন যৌক্তিক সত্য উদঘাটনের আগ্রহী হবেন সে সহজেই বুঝতে পারবে যে ঘটনাটি বানোয়াট। এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যে আল্লাহ তাআলা পাখি পাঠিয়েছেন কিছু মানুষকে নিক্ষেপ করার জন্য এই কারণে যে তারা কোন একটি বিল্ডিং ধ্বংস করতে যাচ্ছে।  বিষয়টা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

কিন্তু আপনি কোনটা সত্য এবং কোনটা মিথ তা যদি বুঝতে না পারেন সেক্ষেত্রে আপনাকে বলব নিজেকে এই প্রশ্নটা করুন- নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ৫০ বছর পরে যখন কাবা শরীফ ধ্বংস করা হলো তখন কেন আল্লাহতালা পাখি পাঠালেন না তা রক্ষার জন্য কিংবা যখন সেটা আবার ধ্বংস করা হলো Al Hajjaj ibn Yousseff Elthaqafy  দ্বারা নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ৬০ বছর পরে তখন কেন পাখি পাঠালেন না। কিংবা নবী মুহাম্মদের মৃত্যুর ৩০০ বছর পরে যখন Qarametta কাবা শরীফের ভিতরে প্রবেশ করলেন ভিতরে অবস্থানরত সব মানুষকে হত্যা করে তাদের মৃতদেহ জমজম কুপের ভেতর ফেলে দিল। ২০ বছরের জন্য কালো পাথর চুরি করে নিয়ে গেল। তারপর সেটা আবার প্রতিস্থাপন করা হলো তবে কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না বর্তমানে যে কালো পাথর আছে সেটা কি অরিজিনাল কালো পাথর নাকি তার ফেইক  প্রতিরূপ। কিংবা সাম্প্রতিকতম সময় ১৯৭৯ সালে যখন অস্ত্রধারীরা কাবা শরীফের প্রবেশ করলো এবং ৩৮২ জন মানুষকে হত্যা করল হাজারের বেশি লোকজনকে আহত করলো। কিংবা ১৯৯৬ সালে যখন কাবা শরীফ কে পুরোপুরি  ভেঙে ফেলে আবার নতুন করে সম্পূর্ণ বানানো হলো শুধুমাত্র কালো পাথর টি ছাড়া। যদিও কালো পাথর টি আগেই বলেছি কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারে না অরিজিনাল কালো পাথর নাকি ফেইক কিছু।

আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন কেন আল্লাহতালা এমন সময় পাখি পাঠিয়েছিলেন যখন কোন ঐতিহাসিক রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছেনা কিন্তু এমন সময় পাখি পাঠাচ্ছেন না যখন অগণিত ঐতিহাসিকরা অনন্তকালের জন্য রেকর্ড করার মত প্রস্তুত হয়ে আছে। কাবা শরীফ অন্তত ১২ বার ধ্বংস করা হয়েছে।  বর্তমান কাবাটি আপনাদের জন্য রাখা হয়েছে যাতে আপনারা সারা জীবনের জমানো টাকা খরচ করে মক্কা শহরে গিয়ে এ কালো পাথরের সামনে কান্নাকাটি করতে পারেন – কারণ আপনারা মনে করেন আদি পিতা আদম (আ:) এটা বানিয়েছেন। যেখানে কিনা এটা সম্পূর্ণ সুস্পষ্ট মাত্র ২০ বছর আগে কাবাকে বানানো হয়েছে।  আপনি কি যে বিল্ডিংটায় বাস করেন তা হয়তো এই কাবা শরীফ এর চেয়েও পুরাতন।

পরস্পর বিরোধী হাদিসঃ

এমন কি কোন হাদীস আছে যে একটা আরেকটার সাথে বিরোধী?

যদি আমরা বুখারী শরীফের পরস্পরবিরোধী হাদিসের আলোচনা শুরু করি তাহলে আমাকে মানতে হচ্ছে  যে এই একটা বিষয় বুখারী শরীফ কে আসলেই একটি ইন্টারেস্টিং একটা বই হিসেবে পরিনিত করেছে ।

এমন অনেক হাদিস আছে যেগুলো বিভিন্ন রকমের ধর্মীয় কার্যাবলীর বর্ণনা দিয়েছে যা কিনা অন্যত্র আরেকটি হাদীসের বিরুদ্ধে গিয়েছে।  যেমন নবী মোহাম্মদের মৃত্যু কালের বয়সের ব্যাপারেও বিভিন্ন হাদীসে বিভিন্ন রকমের তথ্য দেয়া আছে আপনি সম্ভবত মনে করেন নবী মুহাম্মদ মারা গিয়েছিল ৬৩ বছর বয়সে, তাই না?

আসলে কেউই তা জানে না?

আল বুখারী একটা হাদিসে বলেছেন তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর

অন্য একটি হাদীসে “Muslim ibn el Hajjaj”  বলেছেন ৬৫ বছর যদিও সে অন্য একটি হাদিসে বলেছেন ৬০। (৭) কিংবা মক্কায় অবস্থান কালীন সময়ের ব্যাপারে  বুখারী একটি হাদীসে বলা আছে ১০ বছর অন্যটাতে বলা আছে ১৩ বছর অন্য একটা মুসলিম হাদিসে বলা আছে ১৫ বছর। (৮) আমাদের কি বিশ্বাস করতে হবে এই সবগুলো হাদীস সত্য এবং সহীহ, সব বর্ণনাকারীরা  ছিল সত্যবাদী, সৎ এবং কখনো ভুল করেন নি।

বুখারী শরীফের অসঙ্গতি আলোচনা করতে গেলে অন্য একটি গল্প চলে আসে নবী মোহাম্মদ  একবার একজন ক্রীতদাসীর সাথে সহবাস করতে চেয়েছিলেন তার স্ত্রী Oumaima ibn Sharahel ঘরে নবী মুহাম্মদ ক্রীতদাসী কে বললেন  “তোমাকে আমার কাছে সপে দাও ( আমার কাছে আসো) ।”

জবাবে সে বলল “একজন রানী কি কখনো  সস্তা মানুষের কাছে যেতে পারে?” (৯) আর তাই নবী মুহাম্মদ তাকে আঘাত করতে চাইলেন।
তখন সে বলল “আমি আল্লাহর কাছে  আপনার আঘাত থেকে রেহাই চাই।”

এখন আপনাদের মধ্যে কেউ একটু বলবেন কেন সে আল্লাহর কাছে রেহাই চাইবে যেখানে নবী মোহাম্মদ নিজেই ছিলেন আল্লাহর রাসূল। এর কারণ হলো আল্লাহ শব্দটা আসলে কোন ইসলামিক শব্দ না। আল্লাহ হচ্ছেন একজন ঈশ্বরের নাম  যাকে প্রাচীন আরবের বাসিন্দারা নবী মুহাম্মদের জন্মের আগে থেকেই পূজা করত।
নবী মুহাম্মদ তাকে আঘাত না করে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন এবং একজন কে বললেন তাকে যাতে কাপড় পড়ে- ঘর থেকে বের হয়ে যেতে বলে। এখানে ঝামেলা হলো যে এই গল্পটা বুখারী শরীফে আরো একবার আছে। তবে এক্ষেত্রে মেয়েটি নবী মোহাম্মদের দাসী নয় একজন স্ত্রী। (১০)

যেহেতু একই গল্প দুইবার বর্ণিত হয়েছে এবং দুই ক্ষেত্রে দুজন ভিন্ন ব্যক্তি জড়িত ছিল লজিক্যালি চিন্তা করলে বোঝা যায় এর একটা গল্প অবশ্যই মিথ্যা হবে- যদি না দুইটাই মিথ্যা হয়। আর আপনি যদি একজন চিন্তাশীল মুসলিম হয়ে থাকেন আপনার এই বিষয়টা নিয়ে ভাবা উচিত একজন নবীর দাসীর সাথে ঘুমানোর কথা না। তবে এক্ষেত্রে আমরা তার আগে কল্পনা করে নিচ্ছি যে বাস্তবে নবী/রাসূল  বলতে আদৌ একটা কিছু ছিল ।

আরো কিছু হাদিস আছে যেখানে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছে  “মানুষের জন্য সবচেয়ে উত্তম কাজ কোনটি?”

এর উত্তরে একবার বলেছেন  “আল্লায় বিশ্বাস করা, তারপর জিহাদ যাওয়া এবং অবশেষে হজ করা।” (১১) অন্য একবার বলেছেন “নামাজের সময় নামাজ পড়া এবং পিতা-মাতার কথা শোনা। “ (১২) অন্য এক সময় বলেছেন “শুধু জিহাদে যাওয়া।” (১৩)

বানোয়াট হাদিসঃ

এখন আপনারা যদি জানতে চান অধিকাংশ হাদিসগুলো শুধু অসঙ্গতিপূর্ণ  নয় বানোয়াট ও বটে। চলুন আপনাদের আরেকটা গল্প বলি

গল্পটা এমন যে অনেক বছর আগে আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম নামক একজন লোক ছিলেন। যে কিনা লোক মুখে (মোহাম্মদ নামক) নবীর অনেক নাম ডাক শুনেছিল। যদিও তিনি নবী দাবিকারী অনেক লোকজনের কথা শুনতে শুনতে অত্যন্ত বিরক্ত ছিলেন – তাই সে নিশ্চিত হতে চেয়েছিল  আদৌ নবী মোহাম্মদ সত্যিকারের নবী কি না। (১৪)

তাই সে নবী মোহাম্মদের কাছে গিয়ে বললেন যে আমি আপনাকে তিনটি প্রশ্ন করব।
– “কেউ যদি নবী না হয় তার পক্ষে এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। “

– “ঠিক আছে প্রশ্ন করুন?”

– “১. কেয়ামতের প্রথম আলামত কি হবে? – ২. বেহেস্তবাসীদের প্রথম খাবার কি হবে – ৩. কি কারনে একটি শিশু বাবার মত বা মায়ের মত হয়?”

নবীজি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বললেন  জিব্রাইল এইমাত্র এসে আমাকে জানিয়ে দিলো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর – এবং অবশ্যই আপনারা জানেন তারপর কি হয়েছিল।

নবী মোহাম্মদের উত্তর শোনার পর ঐ লোক সঙ্গে সঙ্গে মেনে নিলেন যে  ইনিই আল্লাহ রাসুল, এবং তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন।

গল্পটা যে বানোয়াট এটা বোঝার জন্য আপনাদের ৫ সেকেন্ডও লাগার কথা না।

আমাকে জিজ্ঞেস করুন “কেন?”

আব্দুল্লাহ কিভাবে বুঝতে পারলেন এই প্রশ্ন গুলোর উত্তরগুলো সঠিক হয়েছে ? তিনি কিভাবে জানবে। যদি না তিনি নিজেই নবী হয়ে থাকেন। কারণ সে শুরুতে বলে নিয়েছে  একমাত্র সত্যিকারের  নবী ছাড়া এই প্রশ্নের উত্তর কারো পক্ষে জানা সম্ভব না। তাহলে ধরে নেই যে সে হয়তো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতো না। তাহলে সে কেন উত্তর গুলো সঠিক হিসেবে মেনে নিল।  শুধু কি এই জন্য যে নবী মোহাম্মদ প্রশ্ন গুলোর উত্তর দিয়েছেন। সে কি এতই বোকা ছিল।  উত্তর পেলেই মেনে নিবেন কেন? কারণ নবী মোহাম্মদের দেয়া উত্তর গুলো ভুলও হতে পারতো।

তাছাড়া প্রথম  প্রশ্নটির উত্তর যে সঠিক তার কোন প্রমাণ নেই, দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর সম্পূর্ণ কাল্পনিক বিষয় আর তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তরে নবী মোহাম্মদ বলেছেন,  “And if a man’s discharge proceeded that of the woman, then the child resembles the father, and if the woman’s discharge proceeded that of the man, then the child resembles the mother.”
কথাগুলো সম্পূর্ণ ভুল, অযৌক্তিক এবং  বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

বানোয়াট হাদিসগুলো রটানোর পেছনে কারণ নবী মোহাম্মদ সম্পর্কে কাংখিত অতিরঞ্জিত ধারণা প্রচার করা, নবী মুহাম্মদের নবী হওয়ার পক্ষে গল্প দাঁড় করানো- যাতে অন্যরাও তার প্রতি বিশ্বাস  আনে।

তবে আমরা যদি অযৌক্তিক ও বৈজ্ঞানিক অসত্য বিষয়বস্তু ব্যাখ্যাকারী হাদীসগুলো আলোচনা করতে শুরু করি তাহলে আমাদের সারা দিন পার হয়ে যাবে। আপনি হাদিস পাবেন যে ঘুম থেকে উঠে আপনাকে তিনবার নাক ঝাড়তে হবে। (১৫) কারণ শয়তান রাতের বেলা নাকের মাঝখানে ঝুলে থাকে। কিংবা আল্লাহতালা হাই দেয়া থেকে হাঁচি দেয়া বেশি পছন্দ করেন (১৬) অথবা কেউ অসুস্থ হলে কালিজিরা কিংবা সাতটা খেজুর কিংবা মধু খাওয়া উচিত (১৭) কিন্তু আপনার পানীয় পাত্রে যদি মাছি বসে তাহলে  মাছিটিকে ডুবিয়ে দিয়ে তারপর সেই পানি খেয়ে নিতে হবে

অনেক সাংস্কৃতিক কুসংস্কার একটা সাধারণ সমাজে বহুকাল ধরে থাকতে পারে।  তবে প্রথম দিকের মুসলমানেরা চাইতো সবকিছুর নবী মোহাম্মদ সকল শিক্ষার উৎস হোক। তারা তাকে মহিমান্বিত করতে বলতো নবী মুহাম্মদ প্রতি রাতে ৬ জন নারীর সাথে পালাক্রমে শুইতেন (১৮) কিংবা তার যৌন শক্তি ৪০০০ পুরুষের সমতুল্য এবং সে কারণে কাপড়ে বীর্য লেগে থাকত (১৯)

আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে এই সব হাদিস গুলোর কি প্রয়োজন। আমি ইলন মাস্ক, হকিং কিংবা বিল গেটস এর যুগের একজন ব্যক্তি হিসেবে এই সকল শুনে আমি আদৌ কি পাবো। এসব হাদীস এর উদ্দেশ্য নবী মুহাম্মদ কে মহিমান্বিত করা ছাড়া আর কিছু নয়।   যেমন এই নিয়ম যে নবী মোহাম্মদের নাম নিয়ে প্রতিবার দুরুদ পড়তে হবে যদিও আল্লার নাম নিয়ে কিছুই বলা লাগে না।

(মিশরীয় ব্লগার Sherif Gaber এর ভিডিওর ভিত্তিতে)

(চলবে)

রেফারেন্স :

(১)

(২)

(৩)

(৪)

(৫)

(৬)

(৭)

(৮)

(৯)

(১০)

(১১)

(১২)

(১৩)

(১৪)

(১৫)

(১৬)

(১৭)

(১৮)

(১৯)

Facebook Comments

সরকার আশেক মাহমুদ

Sarker Ashek Mahmud is a Bangladeshi Ex-Muslim Atheist, Humanist, secular online activist.

One thought on “সহীহ বুখারী কেন মিথ্যাচার (পর্ব ২)

  • October 28, 2018 at 3:44 pm
    Permalink

    To see, everyman and every-woman have own characteristic that relies on love that is called religion. In this regard none can deny the real love. Love is truth and truth is beauty is one creator where believe, practice, action and feeling make religion so that all may depend on scansion of ALLAH. From Md. Kohinoor Hossain, Bangladesh

    Reply

Leave a Reply

%d bloggers like this: