অত্রি সংহিতা ও জাতিভেদ

ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে অত্রি সংহিতা অন্যতম। ঋষি অত্রি এর রচয়িতা। এতে তিনি ‘চতুর্বর্ণের সনাতন ধর্ম’ ব্যক্ত করেছেন। তার শাস্ত্রে দেখা যায় স্ত্রী ও শূদ্র কুকুর ও কাকের সমার্থক, শূদ্রকে হত্যা করলে গাধা হত্যার প্রায়শ্চিত্ত, শ্বপাক জাতির ছায়া মারালেও প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়।

Read more

রাম নিরপরাধ শূদ্র শম্বুককে হত্যা করেছেন, এতে আপনি অবাক কেন হচ্ছেন?

বাল্মীকি রামায়ণের উত্তরকাণ্ডে দেখা যায়, বিষ্ণুর অবতার রামচন্দ্র তপস্যা করার অপরাধে শম্বুক নামক এক শূদ্র তপস্বীকে হত্যা করেন। রামায়ণে এই ঘটনাটি বর্ণিত হওয়া সত্ত্বেও রামের পক্ষ অবলম্বন করে অনেকে বলে থাকেন, রামের মত একটি চরিত্রের দ্বারা কখনোই শম্বুক বধ সম্ভব নয় অথবা রাম শম্বুক বধ করেননি। এর স্বপক্ষে তারা বেশ কিছু যুক্তি দিয়ে থাকেন। কলকাতা 24*7 নামক একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে এই ধরণের যুক্তি সমন্বিত একটি লেখা চোখে পড়ল তা নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই।

Read more

আপস্তম্ভ সংহিতা ও জাতিভেদ

আপস্তম্ভ সংহিতা ধর্মশাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা এবং শূদ্র ও অস্পৃশ্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের বিধি-বিধান লক্ষ্য করা যায়। ব্রাহ্মণের

Read more

মহাভারতে জাতিভেদ: ব্রাহ্মণ

কথিত আছে, যাহা নাই ভারতে তাহা নাই ভারতে। অর্থাৎ, মহাভারতে যা নেই পুরো ভারতবর্ষেও তা নেই। তৎকালীন ভারতের বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায়ের আচার-অনুষ্ঠানের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে মহাভারতে। ভারতের হৃদয়ে যে জাতিভেদের শেল বিদ্ধ হয়েছে, যা আজও ভারতকে পীড়ন করে চলেছে, তার সম্বন্ধে কি সুদীর্ঘকালের ইতিহাসধারণকারী মহাভারতে কিছুই নেই? না, আছে। মহাভারতে স্থানে স্থানে জাতপাতের সাক্ষ্য মেলে। মহাভারতের বিভিন্ন চরিত্রের আচরণে বারংবার যেমন জাতিবাদী মানসিকতা ফুটে উঠেছে, তেমনি অনেক চরিত্র বিষম জাতিভেদের শিকার হয়েছেন। এতে ব্রাহ্মণের মহিমা স্থানে স্থানে কীর্তিত হয়েছে। কখনো বা ক্ষত্রিয়রা ব্রাহ্মণদের শ্রেষ্ঠত্বকে অস্বীকার করেছেন।কখনোবা ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়েরা পরস্পর সন্ধিতে আবদ্ধ হয়েছেন। মহাভারতে কঠোর জাতিভেদের পক্ষে বিপক্ষে অনেক কথা রয়েছে। মহাভারতে অধিকাংশেরা যখন জাত পাত নিয়ে গোঁড়া মানসিকতা পোষণ করেছেন তখন অনেক উদারপন্থীরা জাতিভেদকে অস্বীকার করেছেন বা জাতপাত সম্বন্ধে অতটা কঠোর মানসিকতা পোষণ করেননি। বর্ণপ্রথার প্রতি যারা উদার মনোভাব পোষণ করেছেন, তাদের মনোভাব আখেরে সমাজে তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। তবুও তাদের সেই উদারতা তুচ্ছ নয়। তাই মহাভারতের জাতিভেদ বিষয়টির সামগ্রিক আলোচনা হওয়া উচিত বলে মনে করি। সঙ্গত কারণেই অনেকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, এর প্রয়োজন কি? এ তো অতীত! অতীতের গর্ত খুড়ে বিষধর সর্পকে বের করে আনা কেন? উত্তরে বলা যায়, ধর্মগ্রন্থ হিসাবে হিন্দুদের মাঝে গীতা এতটাই জনপ্রিয় যে একে বর্তমানে হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ বলা যায়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ সংঘটনের পূর্বে কৃষ্ণের অর্জুনকে ধর্ম, দর্শন সম্বন্ধে দেয়া উপদেশই গীতা নামে পরিচিত। অনেক পণ্ডিতেরা গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত অর্থাৎ পরবর্তীকালে সংযোজিত অংশ বলে থাকেন। তারা তাদের মতের স্বপক্ষে নানা তথ্য ও যুক্তি পেশ করে থাকেন। অধিকাংশ ধর্মপরায়ণ হিন্দুই খুবসম্ভবত গীতাকে মহাভারতে প্রক্ষিপ্ত বলে মানবেন না। তারা একে মহাভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী ভাবতেই ভালোবাসবেন। তাই গীতাকে বুঝতে গেলে, এর আলোচনা-সমালোচনা করতে গেলে একে মহাভারতের আঙ্গিকে দেখতে হবে। এছাড়াও ইতিহাস প্রিয় মানুষের কাছে অতীতের ঘটনাবলি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।বিবিধ কারণে ‘মহাভারতে জাতিভেদ’ গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে ওঠে।

Read more

আপনি কি জানেন ব্রাহ্মণই প্রকৃত দেবতা? – মনুসংহিতা ও ব্রাহ্মণ্যবাদ

১. “ব্রহ্মার পবিত্রতম মুখ থেকে উৎপন্ন বলে, সকল বর্ণের আগে ব্রাহ্মণের উৎপত্তি হওয়ায়, এবং বেদসমূহ ব্রাহ্মণকর্তৃক রক্ষিত হওয়ার জন্য (বা বেদসমূহ ব্রাহ্মণেরাই পঠন-পাঠন করেন বলে)– ব্রাহ্মণই ধর্মের অনুশাসন অনুসারে এই সৃষ্ট জগতের একমাত্র প্রভু।” (১/৯৩)

২.”স্থাবর জঙ্গমে পূর্ণ এই চরাচর জগতের মধ্যে যত সৃষ্ট পদার্থ আছে তার মধ্যে যাদের প্রাণ আছে তারাই শ্রেষ্ঠ। প্রাণীদের মধ্যে যাদের বুদ্ধি আছে তারা শ্রেষ্ঠ।বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণীদের মধ্যে আবার মানুষ শ্রেষ্ঠ এবং মানুষদের মধ্যে ব্রাহ্মণ শ্রেষ্ঠ।” ১/৯৬

৩.”যখন ব্রাহ্মণ জন্মগ্রহণ করেন তখন তিনি পৃথিবীতে সকলের শ্রেষ্ঠ হয়েই জন্মগ্রহণ করেন। কারণ পৃথিবীতে প্রচলিত সর্ব ধর্ম রক্ষার জন্যই ব্রাহ্মণের উৎপত্তি।” ১/৯৯

Read more

মনুর চোখে শূদ্ররা মানুষ নয়-হিন্দু ধর্মে শূদ্রের অবস্থান

মারাঠায় পেশোয়াদের শাসনকালে বিকাল ৩ টে থেকে সকাল ৯ টা পর্যন্ত অস্পৃশ্যদের পুনা শহরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি ছিল না কেননা সূর্যের প্রভাবে তাদের দীর্ঘ ছায়া কোনো ব্রাহ্মণের ওপর গিয়ে পড়লে তারা অপবিত্র হয়ে যেত। প্রাচীর ঘেরা শহরের মধ্যে অচ্ছুৎদের থাকার অধিকার ছিল না। কুকুর-গবাদি পশুরা শহরের মধ্যে ঘুরে বেড়াতে পারতো কিন্তু একজন অচ্ছুতেরো তার অধিকার ছিল না।

মারাঠা পেশোয়াদের শাসন আমলে কোনো অচ্ছুৎ মাটিতে থুতু ফেলতে পারতো না, পাছে কোনো হিন্দুর পায়ে তার স্পর্শ হয়! তাই থুতু ফেলার জন্য তার গলায় একটা মটকা ঝুলিয়ে দেয়া হত। অচ্ছুৎ এর কোমরে একটা ঝাড়ু বেধে রাখতে হত, যাতে সে তার অপবিত্র পায়ের ছাপ ভূমি থেকে মেটাতে মেটাতে চলে। কোনো ব্রাহ্মণ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মাটিতে তাকে শুয়ে পড়তে হত যাতে তার ছায়া সেই ব্রাহ্মণের ওপর না পড়ে।

Read more

তপস্যা করার কারণে রামচন্দ্র কর্তৃক নিরপরাধ শূদ্র শম্বুকের হত্যা

জাতিভেদ হিন্দু সমাজ ও ভারতবর্ষের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। সহস্র বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ জাতিভেদের বিষবাষ্পে দগ্ধ হয়েছে, আজও হয়ে চলেছে নিম্নবর্ণের মানুষদের ওপরে অকথ্য অত্যাচার। কখনো বা গোফ রাখার অপরাধে, কখনো বা ঘোড়ায় চড়ার অপরাধে, কখনো বা মন্দিরে প্রবেশের অপরাধে আজো চলছে নিম্নবর্ণের হিন্দুদের উপর অত্যাচার। এই জাতিভেদের বিভীষিকা এল কোথা থেকে! এর উৎস কি? অনেক হিন্দুই বলে থাকেন, এগুলো মানুষ তৈরি করেছে, ঈশ্বর তৈরি করেনি অথবা এই জাতিভেদ, এসব ধর্মে কোথাও নেই। হিন্দুদের মধ্যে ‘জাতি/ বর্ণ হয় কর্ম গুণে’ এমনও দাবী করতে দেখা যায় আজকাল। এইসব দাবীকারীরা এই বিষয়ে অজ্ঞাত যে, হিন্দুশাস্ত্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জাতিভেদ মিশে আছে। রামায়ণে জাতিপ্রথার জঘন্য প্রকাশ দেখা যায়, যখন রামচন্দ্র নিরীহ শম্বুককে হত্যা করেন। শম্বুক হত্যা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তিবিশেষের হত্যা নয়, শম্বুক ভারতের আপামর দরিদ্র শোষিত শ্রমজীবী মানুষদের প্রতিনিধি। শম্বুকের নৃশংস হত্যা, শূদ্রদের প্রতি চলে আসা অত্যাচারের ইতিহাস; সেই ইতিহাস মুছবার নয়,ভুলবার নয়।

Read more