বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর

আমাদের উদ্দেশ্য।

নাস্তিক্যবাদ অজ্ঞেয়বাদ সংশয়বাদ কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মসমূহে অবিশ্বাস বা অনাস্থা আমরা কেন জ্ঞাপন করি, এই নিয়ে বাঙলা অনলাইন জগতে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরণের বিতর্ক এবং আলোচনা হয়েছে। অসংখ্যবার এই আলোচনাতে আমরা ধার্মিক বা আস্তিক লেখকদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি, তাদের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়েছি, কুযুক্তি বা লজিক্যাল ফ্যালাসিগুলো নিয়েও বিস্তর আলোচনা করেছি। কিন্তু দিনশেষে দেখেছি, একটি কবুতরের সাথে দাবা খেলা আসলে যায় না। আপনি বিখ্যাত সব গ্র্যান্ডমাস্টারদের খেলা দেখে বা তাদের বই পড়ে বা নিজেই নতুন চাল উদ্ভাবন করে যতই চৌকশ চাল দিয়ে প্রতিপক্ষের একটি ভাল চালের জন্য অপেক্ষা করেন না কেন, প্রতিপক্ষ কবুতর দাবার বোর্ডে একটু হাঁটাহাঁটি করে খানিকটা হাগু করা ছাড়া তেমন কিছু করতে পারে না। বিষয়টি আমাদের জন্যেও লজ্জার। এই কারণে যে, আমরা যথাযথ প্রতিপক্ষের অভাবে আসলে বিতর্কের ময়দানে একই কথাগুলো বারবার বলে যাচ্ছি। পুনরাবৃত্তির চক্রেই আমাদের থেকে যেতে হচ্ছে।

সেইসব কারণে প্রতিপক্ষের এহেন দুরাবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে তাদের খানিকটা সুযোগ দেয়ার জন্যেই এই ওয়েবসাইটটি বানানো হয়েছে। এখানে আস্তিক বা ধার্মিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে, তাদের কুযুক্তিগুলো কেন কুযুক্তি তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ধর্মের সমালোচনা এবং আমাদের যৌক্তিক অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সেইসাথে, যেকোন আস্তিক বা ধার্মিক লেখক ব্লগার একটিভিস্টকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে, আমাদের লেখার ভুলগুলো ধরিয়ে দিতে। আমরা বিনয়ের সাথে আপনাদের সমালোচনা শুনবো এবং কোথাও ভুল লিখে থাকলে আপনাদের ধন্যবাদ দিয়ে তা সংশোধন করে নেবো।

সেই সাথে, যেসকল প্রশ্নের উত্তর একাধিকবার নানাভাবে দেয়া হয়েছে, সেই একই প্রশ্ন বারবার না করে, আপনারা যদি অনুগ্রহ করে পুরনো লেখাগুলো একটু পড়েন, এবং সেই অনুসারে প্রশ্ন করেন, সেটা আপনাদের জন্যেও লাভজনক। বিতর্কের খাতিরেই।

ধর্ম এবং নাস্তিকতা সম্পর্কিত অসংখ্য প্রশ্ন করা হয় প্রায় প্রতিদিনই। প্রশ্ন করাকে আমরা সম্মান জানাই, এবং প্রশ্ন করাকেই প্রগতির অংশ বলে মনে করি। তাই কোন প্রশ্নকেই আমরা অগুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। সকলের কাছে আমরা আরো বেশি প্রশ্ন প্রত্যাশা করি, সেই সাথে, সেগুলোর উত্তর লেখার জন্য সহযোগীতাও। আমাদের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জ্ঞান একসাথে করলে সেটা আমাদেরকেই সমৃদ্ধ করবে।
কিন্তু একই প্রশ্নের পূনরাবৃত্তি খানিকটা বিরক্তিকর বিধায়, সেগুলো পর্যায়ক্রমে লিখে রাখা হচ্ছে। পাঠককে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, এই সকল প্রশ্নের উত্তরের বিরুদ্ধেও আপনারা লিখুন। সেগুলোও এই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হবে, যদি গঠনমূলক এবং যৌক্তিক হয়। আসুন দেখা যাক, বিভিন্ন প্রশ্নগুলোর তালিকা।

পর্ব -১

কেন ইসলামে বিশ্বাস করেন না?

পর্ব -২

ধর্ম আসলে কি?

ধর্ম  শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে “ধারণ করা”। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম (ইংরেজি: Organized religion) হল লিপিবদ্ধ সু‌বিন্যস্ত প্রত্যাদেশসমূহ , যেগু‌লো সাধারণত ঈশ্বর-প্রত্যা‌দিষ্ট‌দের মাধ্য‌মে বা‌হিত ও প্রচা‌রিত , ঈশ্বরাজ্ঞা ও ধর্মানুষ্ঠান-‌নির্ভর আচার , আচরণ ও প্রথা সমূ‌হের প‌্র‌তি ‌বিশ্বাস-‌নির্ভর আনুগত্য। যা সাধারনত ” আধ্যাত্মিক ” ব্যাপারে ” দৃঢ় বিশ্বাস ” এর সাথে সম্পর্ক যুক্ত । এবং বিশেষ পূর্বপুরুষ হতে প্রাপ্ত ঐতিহ্য , জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা , রীতি-নী‌তি ও প্রথা কে মানা এবং সে অনুসা‌রে মানবজীবন প‌রিচালনাকে বোঝায় ।

চুম্বকের ধর্ম যেমন আকর্ষণ করা, মানুষের ধর্ম তেমনি বিশ্বমানবতা, সকল মানুষের প্রতি প্রেম এবং ভালবাসা। এরকম হলে কোন আপত্তি ছিল না। সব মানুষ ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে ভালবাসলে নাস্তিকতা অগুরুত্বপুর্ণ হয়ে উঠত। তবে ধর্ম এবং প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আলাদা বিষয়। প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, পরস্পরের মধ্যে শ্রেষ্টত্বের লড়াই আর কার ঈশ্বর সত্য, কার ধর্ম সত্য এই সব কোন্দল সৃষ্টি করে। এইসব লড়াইয়ে এই পর্যন্ত কোটি কোটি মানুষের জীবন চলে গেছে, অনেক রক্ত ঝরেছে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মগুলো মানব ধর্মের এবং মানবতার বিরুদ্ধে।

নাস্তিক মানে কী? নাস্তিক আসলে কে?

নাস্তিক্যবাদ (ইংরেজি ভাষায়: Atheism; অন্যান্য নাম: নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিকতাবাদ) একটি দর্শনের নাম যাতে ঈশ্বর বা স্রষ্টার অস্তিত্বকে স্বীকার করা হয়না এবং সম্পূর্ণ ভৌত এবং প্রাকৃতিক উপায়ে প্রকৃতির ব্যাখ্যা দেয়া হয়। আস্তিক্যবাদ এর বর্জনকেই নাস্তিক্যবাদ বলা যায়। নাস্তিক্যবাদ বিশ্বাস নয় বরং অবিশ্বাস এবং যুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বাসকে খণ্ডন নয় বরং বিশ্বাসের অনুপস্থিতিই এখানে মুখ্য।

নাস্তিক্যবাদ আসে যুক্তিবাদ থেকে। নাস্তিকতা কোন বিশ্বাস বা ধর্ম নয়, এটি যাবতীয় বিশ্বাস বা ধর্মতত্বকে যাচাই বাছাই এবং যুক্তিসঙ্গত উপায়ে বাতিলকরণ। নাস্তিক্যবাদ বলে না যে “ঈশ্বর নেই”; নাস্তিক্যবাদ বলে, “মানবসভ্যতার ইতিহাসে ঈশ্বর আছে বা কোন অলৌকিক শক্তি আছে তার কোন উপযুক্ত তথ্য প্রমাণ নেই”। এবং যেহেতু কোন প্রমাণ নেই, তাই ঈশ্বরের এই দাবীকে নাস্তিক্যবাদ বাতিল করে এবং ভ্রান্ত বলে মনে করে। তবে ঈশ্বরের কোন উপযুক্ত প্রমাণ ধার্মিকগণ দেখাতে সমর্থ হলে তা মেনে নিতে বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। যখনই পাওয়া যাবে, সেগুলো মেনে নেয়া হবে। তবে যুক্তিহীন বিশ্বাস যেহেতু যাচাই করবার কোন উপায় নেই, তাই একে খারাপ কাজে লাগাবার সম্ভাবনাই বেশি থাকে- যেহেতু এটা যুক্তিপ্রমাণহীন একটি বিশ্বাসমাত্র। এবং সত্যিকার অর্থে ঘটেছেও তাই। এছাড়া ধর্মগ্রন্থে যেই ঈশ্বরের কথা বলা আছে, সেই ঈশ্বর শুধু নোংরাই নয়, সাম্প্রদায়িক, হিংস্র, তোষামদপ্রিয় এবং লোভী। সে প্রাচীন কালের রাজাদের চরিত্রের অধিকারী, যে শুধু নিজের উপাসনা আর তোষামোদ চায়, তা না পেলেই ভয় দেখায়।

নাস্তিক মানেই কী শুধু আল্লাহর বিরোধীতা করা?

নাস্তিক আল্লা ভগবান ঈশ্বরে বিশ্বাসী নয়, তাই আল্লার বিরোধীতার প্রশ্ন অবান্তর। নাস্তিক বিরোধীতা করে আল্লা ভগবান ঈশ্বরের ধারণাকে, যেই ধারণা মানুষকে শেখায় যে, বিধর্মী মাত্রই আল্লা ভগবান ঈশ্বরের শত্রু। একজন নাস্তিক, যার সামাজিক দায় বোধ আছে, সে অবশ্যই ধর্মের এবং ধর্মগ্রন্থের এবং ঈশ্বরের সমালোচনা করবে। বিরোধী দল ছাড়া যেমন সরকারী দলের কর্মকান্ড খারাপের দিকে মোড় নেয়, ধর্ম-ধর্মগ্রন্থ-ধর্মবাজদের সমালোচনা ছাড়াও ধর্মান্ধরা পৃথিবীকে নরক বানিয়ে ফেলবে।

নাস্তিকতা প্রচার করে কি লাভ?

আপনি আপনার ধর্ম পালন করতে পারেন, আপনার ব্যক্তিগত ঈশ্বর হচ্ছে আপনার বার্বিডল বা খেলার পুতুলের মত। আপনি সেটা নিয়ে বাসায় খেলবেন, তাকে পুজা করবেন কি তার গায়ে তেল মাখাবেন, দিনে পাঁঁচবার তার সামনে উপুর হয়ে মাটিতে নাক ঘষবেন নাকি কপাল থাপড়াবেন, সেটা আপনার বিষয়। তা নিয়ে আমার কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমাকে আপনার বার্বিডল নিয়ে খেলতে বলবেন না, আপনার বার্বিডল আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ, আমাদের অর্থনীতির উপরে চাপাবেন না, আমাদের আইন ও বিচার ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক আপনার বার্বিডল হবে না। সেটা যখন করবেন, এবং বলবেন আপনার বার্বিডলই শ্রেষ্ট, তখন আমাদের তোপের মুখে পরতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখবো আপনার বার্বিডলটি আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের সমাজ, আমাদের অর্থনীতির উপরে কর্তৃত্ব করার উপযুক্ত কিনা। আর এই যাচাইয়ের সময় তার সমালোচনাটাও হবে কঠোর। তাই আপনি যদি আপনার ধর্মকে বা খেলার পুতুল আল্লা-ভগবান-ঈশ্বরকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে রাখেন, সেটাই সকলের জন্য ভাল।

আস্তিকের সাথে নাস্তিকের এত দ্বন্দ কেন?

কারণ ধর্মগ্রন্থ সমূহে নাস্তিকদের/ধর্ম ত্যাগকারীদের/সমালোচকদের  হত্যা করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং ঘৃণা ছড়ানো হয়েছে। আর আমারো অধিকার আছে তাদের ঘৃণার জবাব দেবার। কোন ধর্মান্ধ যখন জবাই করার হুমকি দেবে, নাস্তিক হবার কারনে-ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারনে বাপমা তুলে দিনের পর দিন গালাগালি করবে, তখন একজন নাস্তিকও লিখে বা কথা বলে তার প্রতিবাদ জানাবে, পালটা আঘাত করবে। নাস্তিক মানেই যে পরে পরে ধর্মান্ধদের মার হাসিমুখে খেয়ে যেতে হবে, এতটা গান্ধীবাদী ভাবাটা উচিত হচ্ছে না।

কিন্তু এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?

পরিপুর্ণ বাক-স্বাধীনতার চর্চা এবং বিরুদ্ধমতকে গ্রহণের মানসিকতা তৈরিই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে। যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি, মতের বিরুদ্ধে মত, প্রমাণের বিরুদ্ধে প্রমাণ, আলোচনা এবং সমালোচনার পরিবেশই এই যুদ্ধ শেষ করতে পারে। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছুদিন এই যুদ্ধ চলতেই থাকবে, কিন্তু এই প্রাকটিস চালাতে থাকলেই পরিস্থিতির উন্নতি করবে। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, প্রতিদিন ধর্মের পক্ষে কমপক্ষে ১০০টি স্ট্যাটাস আসে, বিপরীতে ধর্মের সমালোচনামূলক একটি পোস্ট/স্ট্যাটাস আসলেও সেটা সহ্য করা হয় না। ধর্মের পক্ষে ১০০টি পোস্ট/স্ট্যাটাস/হাদিস/কোরানের বিরুদ্ধে নাস্তিকরা কখনই রিপোর্ট করে না, কিন্তু একটি সমালোচনামূলক পোস্ট আসলেও ধর্মান্ধরা দলবেধে রিপোর্ট করে, নাস্তিকদের অশ্লীলভাবে আক্রমন করে, মৃত্যু হুমকি দেয়। এবং একজন নাস্তিকের বাক-স্বাধীনতার উপরে এই ধরনের হস্তক্ষেপ একজন নাস্তিককে আরো বেশি বিদ্বেষীতে পরিণত করে।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে সবথেকে বড় অপরাধগুলোর জন্য দায়ী হল নাস্তিকতা!

ধর্মান্ধগণ প্রায়শই হিটলার, স্ট্যালিন কিংবা মাও সে তুং এর হত্যাযজ্ঞের জন্য নাস্তিক্যবাদকে দায়ী করেন। অথচ, হিটলার তার আত্মজীবনী(মাইন কাম্পফ)তে বারবারই ঈশ্বরের কথা লিখেছেন।

  • Hence today I believe that I am acting in accordance with the will of the Almighty Creator: by defending myself against the Jew, I am fighting for the work of the Lord. (p. 65)
  • This human world of ours would be inconceivable without the practical existence of a religious belief. (p. 152)
  • May God Almighty give our work His blessing, strengthen our purpose, and endow us with wisdom and the trust of our people, for we are fighting not for ourselves but for Germany. Speech delivered at Berlin 1 February 1933; from Adolf Hitler (1941). My New Order. New York: Reynal & Hitchcock. p. 147.

এছাড়া, একজন কমিউনিস্ট হিসেবে স্ট্যালিন যা করেছেন, সবই ছিল তার নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দর্শন এবং এজেন্ডা। তাই স্ট্যালিনের মত নেতাদের দ্বারা হওয়া গণহত্যার দায় রাজনৈতিকভাবে কমিউনিজমের প্রতিষ্ঠা এবং প্রসারের। তারপরেও, একজন নাস্তিক হিসেবে স্ট্যালিনের মতও সকল নরঘাতকের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। নাস্তিক বলে স্ট্যালিনকে কোন ছাড় দিই না, কিংবা একে আমরা ইহুদীদের ষড়যন্ত্র বলে আখ্যা দিই না। এরকম অমানবিক নাস্তিকদের সমালোচনাও আমরা প্রায়শই করি

ধর্মের সমালোচনা করে নাস্তিকরা জনপ্রিয় হতে চায়?

ধর্মের সমালোচনা করে জনপ্রিয় হওয়াটা আসলে সম্ভব না। কারণ আমাদের দেশে এখনও বেশিরভাগ মানুষই কম বেশী ধর্মপ্রান, এবং একজন নাস্তিককে সমাজে গ্রহণ করার মত পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয় নি। একজন ধর্ষককে আমাদের সমাজ ততটা ঘৃণা করে না যতটা একজন নাস্তিককে করে। এবং এই ঘৃণার প্রকাশ প্রায়শই হত্যাকান্ড বা চাপাতি হামলায় রুপ নেয়, তার প্রমাণ আমাদের সামনেই অনেক আছে। তাই ধর্মের সমালোচনা কেউ জনপ্রিয় হওয়ার জন্য করে, এর মত আহাম্মকি কথা আর কিছুতে নেই।

নাস্তিকেরা জীবন অর্থহীন ও উদ্দেশ্যহীন মনে করে?

নাস্তিকগণ জীবনকে অর্থপুর্ণ এবং চমৎকার এক অভিজ্ঞতা মনে করেন। বরঞ্চ ধার্মিকগণই মনে করেন জীবন হল ভ্রম, মিথ্যা, মায়া কিংবা পরীক্ষা। আর পরকালটিই মুখ্য। আর নাস্তিকদের কাছে, এই জীবনটিই মুখ্য এবং সত্য। জীবনকে মুখ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ ভাবলেই তাকে অর্থপূর্ণ করা সম্ভব। জীবনকে অগুরুত্বপুর্ণ ভেবে আত্মঘাতী বোমা মেরে পরকালে হুর পাওয়ার আশা থাকলে, জীবনকে অর্থহীন পরীক্ষাই মনে হবে।

ধর্ম না থাকলে মানুষ নৈতিকতা শিখবে কোথা থেকে?

ধরুন, একজন আধুনিক সভ্য মানুষ হিসেবে আপনার কাছে অবশ্যই যুদ্ধবন্দী নারীকে গনিমতের মাল হিসেবে বিছানায় নেয়া খুবই নিন্দনীয় কাজ বলে গণ্য হবে। কিন্তু এই কাজটি আপনার নবীজী নিজ জীবনে কয়েকবারই করেছেন, এবং অন্যদেরও করতে বলেছেন। বা ধরুন আপনি এমন কারও সাথে আপনার বোন বা কন্যাকে বিয়ে দেবেন না, যার ইতিমধ্যে তিনজন স্ত্রী আছে। আপনার বিবেক, বুদ্ধি, আধুনিক মূল্যবোধ, আধুনিক ধ্যান ধারণা আপনাকে সেইসব মধ্যযুগীয় কাজ করতে বাধা দেবে। যদিও আপনি ভাবেন, নৈতিকতার একমাত্র মানদণ্ড আপনার ধর্মটিই, তারপরেও আপনি আপনার বিবেক বুদ্ধি খাঁঁটিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আপনি যখন বিবেক বুদ্ধি ব্যবহার করছেনই, তখন আপনার জন্য আসলে ধর্মের নৈতিকতার শিক্ষা অগুরুত্বপুর্ণ।

ধর্ম বলছে, শিশু বিবাহ সুন্নত, বহুবিবাহ সুন্নত, কাফের কতল সুন্নত, জিহাদ করা সুন্নত, গনিমতের মাল বা দাসী ভোগ সুন্নত। আপনি বিবেক ব্যবহার করে সেগুলো করেন না। তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রেও এই বিবেকটুকু ব্যবহার করতে দোষ কোথায়?

নৈতিকতা শিক্ষার জন্য ধর্মের প্রয়োজন নেই। ধর্ম আমাদের যেই নৈতিকতার শিক্ষা দেয়, তা আধুনিক নৈতিকতার মাপকাঠিতে পুরোমাত্রায় নোংরামী। ধর্ম আমাদের শেখায় গনিমতের মাল হিসেবে নারীকে ভোগ করা যাবে, নারীকে শষ্যক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, বিধর্মীরা সব নরকে অনন্তকাল পুড়বে শুধুমাত্র একটি বিশেষ ঈশ্বরে অবিশ্বাসের জন্য। ধর্ম আরো শেখায় ভাল কাজ করলে স্বর্গে অসংখ্য বেশ্যা এবং মদ পাওয়া যাবে, খারাপ কাজ করলে নরকে অনন্তকাল মারপিট হবে। এইসব নৈতিকতা নয়, বেশ্যার লোভে যেই নৈতিকতার উৎপত্তি হয় তা আদৌ নৈতিকতাই নয়, বরঞ্চ এগুলো ঘৃণা সৃষ্টিকারী-বিধর্মী বা নারীর প্রতি। অপরদিকে মানুষের ভেতরেই প্রথিত থাকে কল্যানবোধ, মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা, যা ধর্ম-জাতীয়তাবাদ-লিঙ্গের বড়াই ইত্যাদির কারণে চাপা পরে যেতে থাকে। নাস্তিক্যবাদ মানুষের ঐ মৌলিক মানবিক বোধের বিকাশের কথা বলে, মানুষের ভেতরের নৈতিকতার কথা বলে, বিবেকের কথা বলে। যা কোন লোভ বা ভয়ের কারণে ভাল কাজ করবে না বা খারাপ থেকে বিরত থাকবে না। আইনস্টাইন বলেছেনঃ A man’s ethical behavior should be based effectually on sympathy, education, and social ties and needs; no religious basis is necessary. Man would indeed be in a poor way if he had to be restrained by fear of punishment and hope of reward after death.

পর্ব-৩

■ ১) নাস্তিকতা কি একটি বিশ্বাস?

■ ২) নাস্তিক হয়ে মুসলমান নাম ধারণ করে আছেন কেন?

মুহাম্মদ ইসলাম ধর্মের নবুয়্যত পাওয়ার পরে তার নাম পালটায় নি। পুরনো পৌত্তলিক নামই রেখে দিয়েছিল। তার নামটি জন্মের সময় যারা রেখেছিল তাদের কেউই মুসলিম ছিল না। তার বাবার নাম আবদুল্লাহ, মায়ের আমিনা। তারা কেউই মুসলিম ছিলেন না। কিন্তু তাদের নাম এখন মুসলমানদের মধ্যে বহুল প্রচলিত। এমনকি, মুহাম্মদের অনুসারীদের মধ্যে সামান্য কয়েকজন ছাড়া কেউই নাম পালটায় নি। আর এই নামগুলো সবই আরবি নাম। নামের কোন ধর্ম হয় না। আরবি নাম, ইংরেজি নাম, বাঙলা নাম হয়। তাই নাম ইসলামের সম্পত্তি নয়।
মুহাম্মদের দাদার নাম ছিল আবদুল মুত্তালিব, একটি আরব পৌত্তলিক নাম। প্রথম বিবির নাম খাদিজা। প্রথম অনুসারীর নাম আলী। আলীর নাম মুহাম্মদ নিজেই রেখেছিলেন, নবুয়্যতের আগে। ইসলাম গ্রহণের পরে কেউই নাম পালটায় নি। ইরাকের সাবেক এক মন্ত্রীর নাম ছিল তারেক আজিজ। মুহাম্মদের পিতামাতা থেকে শুরু করে তারিক আজিজ এরা কেউই মুসলমান ছিল না। আরব ছিল বলে তাদের আরবি নাম ছিল। আরবের প্রাচীন খ্রিস্টান এবং ইহুদী, সেই সাথে পৌত্তলিকদের নামও এরকম। তাই নামের সাথে ধর্মের কোন সম্পর্কে নেই। সম্পর্ক ভাষা এবং সংস্কৃতির সাথে। মুহাম্মদ ভারতে জন্মালে তার নাম ভারতীয় হতো এবং এখন মুসলমানগণ ভারতীয় নামকে মুসলমান বা ইসলামী নাম বলে দাবী করতো। বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ভাষায় নাম বিভিন্ন রকম হয়। তাই ইসলাম ত্যাগ করায় কারো নাম পরিবর্তন বাধ্যতামূলক নয়। কারণ ইসলাম ঐসব নামের উদ্ভাবক নয়। ঐ নামগুলো ইসলামের আগে থেকেই আরবে প্রচলিত ছিল।
এই লেখাটিতে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।  ইসলামিক নাম বলে কিছু নেই, আছে এরাবিক নাম

■ ৩) মারা গেলে নাস্তিকের লাশ কী করা হবে?

একজন যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে, মারা যাওয়ার পরে যেহেতু আমার কোন চেতনা থাকবে না, তাই লাশ দিয়ে কেউ স্যান্ডেল বানাবে বা পুড়িয়ে দেবে, তাতে তেমন কিছু যায় আসে না। কারণ তখন আমি আর ব্যথা পাবো না। বা কেউ ছুরি দিয়ে কাটলে চিৎকার করবো না। সুতরাং কী করা হবে তা নিয়ে মাথাব্যথা নাই।
তবে যদি আমার শরীর, চোখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্য কারো কাজে লাগে, সেটা তাদের দিয়ে যেতে ইচ্ছুক। মাটিতে পোকামাকড়ের খাবার হওয়ার চাইতে আমার চোখ দিয়ে আরেকজন পৃথিবী দেখবে, সেটাই উত্তম।
এই লেখাটিতে আরও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছেঃ নাস্তিকের লাশ দিয়ে কি হবে?

■ ৪)  ধর্ম নিয়ে লেখেন কেন? আর বিষয় নাই?

যার যে বিষয় গুরুত্বপুর্ণ মনে হয় সে সেই বিষয়ে লেখে, লিখবে। এটা লেখকের স্বাধীনতা। আপনাকে যেহেতু কেউ পড়তে বাধ্য করছে না, সেহেতু আপনি না পড়লে সেটাও আপনার স্বাধীনতা। ভাল না লাগলে আপনাকে কেউ মাথার দিব্যি দেয় নি পড়তে। এরকম কোন আইনও নেই যে, আমার লেখা আপনার পড়তেই হবে। না পড়লে ফাঁসি দেয়া হবে আপনাকে! আপনার গলায় কেউ চাপাতি রেখে পড়তে বাধ্য করছে না।
যাদের গল্প উপন্যাস ভাল লাগে, তারা সেটা নিয়ে লিখবে। যাদের রাজনীতি নিয়ে লিখতে ইচ্ছা তারা তা নিয়ে লিখবে। কেউ ফুল পাখী নিয়ে লিখলে তো জিজ্ঞেস করা হয় না, সারাক্ষণ ফুল পাখী নিয়ে কেন লেখে? যারা রাজনীতি নিয়ে সবসময় লেখে, কথা বলে, তাদেরও এরকম জিজ্ঞেস করা হয় না। ধর্মের প্রশংসা করে যারা, তাদেরও কেউ কখনো জিজ্ঞেস করে না শুধু ধর্ম নিয়ে কেন লেখেন! শুধু ধর্মের সমালোচকদেরই ঘুরে ফিরে একই প্রশ্ন করা হয়। তাই এই প্রশ্নটা যে ধর্মের সমালোচনার হাত থেকে রেহাই পাওয়ার ব্যর্থ কৌশল, তা বোঝা যায়। কিন্তু এভাবে হয় না। কেন ধর্ম নিয়ে লেখে, তা নিয়ে অভিযোগ না করে কোন বিশেষ লেখার বিপক্ষে শক্তিশালী যুক্তি তুলে ধরুন।
আর অন্যান্য বিষয়ে আপনি নিজেই লিখুন। অন্যে কেন অমুক বিষয়ে লিখলো না, এই অভিযোগ হাস্যকর। অন্যকে উপদেশ দেয়ার চাইতে আপনার নিজের লিখে ফেলাই উত্তম।
কেন ধর্মের বিরোধিতা? 

■ ৫) নাস্তিকরা এত এত প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও ঈশ্বর বিশ্বাস করে না কেন?

প্রমাণ থাকলে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্নই আসে না। বিশ্বাসের প্রয়োজন হয় তখনই যখন প্রমাণের অপ্রতুলতা থাকে। আমরা বিশ্বাস করি না যে, বারাক ওবামা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। কারণ এখানে বিশ্বাসের কিছু নেই। আমরা বিশ্বাস করি না যে, সূর্য আছে। বা পৃথিবী গোলাকার। এগুলো বিশ্বাসের ব্যাপার নয়। পরীক্ষানিরীক্ষা করে প্রাপ্ত ফলাফল। বিশ্বাসের ওপর নির্ভরশীল নয়। কিন্তু কেউ বিশ্বাস করে ভুত আছে, কেউ তা বিশ্বাস করে না। কেউ বিশ্বাস করে জ্বীন আছে, কেউ তা করে না। কারও বিশ্বাস অবিশ্বাসে কোন কিছুর অস্তিত্ব থাকা না থাকা নির্ভরশীল নয়।
শেওড়া গাছের পেত্নী এবং আল্লা ভগবান ঈশ্বর যীশু কালই শিব জিউস এরকম হাজার হাজার দেবদেবী ঈশ্বরের সপক্ষে কোন প্রমাণ হাজির করা হয় নি। প্রমাণ হিসেবে দেখানো হয় এই মহাবিশ্বকে, বা কোন কথিত আসমানি কেতাবকে। যা সেগুলোর অস্তিত্ব প্রমাণ করে না। ঈশ্বরকে যেহেতু বিশ্বাস করতে হয়, তার অর্থ হচ্ছে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেসমস্ত যুক্তিপ্রমাণ উত্থাপন করা হয় তা অপ্রতুল।

পৃথিবীর সকলেই যদি শেওড়া গাছের পেত্নীতে বিশ্বাস করে, তাতে শেওড়া গাছের পেত্নী প্রমাণিত হয় না। বা পৃথিবীর ফুলফল লতাপাতা গাছপালাও শেওড়া গাছের অস্তিত্বের প্রমাণ হতে পারে না।

■ ৬) নাস্তিকরা কেন বলে ইসলাম নারীর জন্য দমনমূলক?

■ ৭) নাস্তিকরা কি প্রমান করতে পারবে ঈশ্বর নাই?

■ ৮) আপনার যে মগজ আছে তা কি আপনি প্রমাণ করতে পারবেন?

■ ৯) বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে খুন বা ধর্ষণের শাস্তি কী?

■ ১০) স্রষ্টা ছাড়া সৃষ্টি কীভাবে হলো?

■ ১১ ) নাস্তিকরা কীভাবে বিয়ে করে?

■ ১২) ধর্ম না মানলে মানুষ সৎ হবে কেন?

■ ১৩) নাস্তিকরা বিপদে কার কথা মনে করে?

■ ১৪) নাস্তিকরা কোরানের মত একটি সুরা বা আয়াত লিখে দেখাতে পারবে?

■ ১৫) ওটা তো একটা থিওরী মাত্র?

■ ১৬)  নাস্তিকরা শুধু ইসলামের সমালোচনা কেন করেন?

কথাটি ঠিক নয়। আমি সব ধর্মের সমালোচনাই কমবেশি করি। তবে ইসলামের সমালোচনাতে প্রতিক্রিয়া বেশি হয়, তাই প্রতিক্রিয়ার প্রতিক্রিয়াতে লিখতেও বেশি হয়। যেহেতু বাঙলায় লিখি, বাঙলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান, তাই এই আলোচনাও বেশি আসে। রিচার্ড ডকিন্সকেও প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, সে কেন শুধু খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা করেন! একই প্রশ্ন ক্রিস্টোফার হিচেন্সকেও করা হতো। উনারা খ্রিস্টান প্রধান দেশে খ্রিস্টান পরিবারে জন্মেছে বলেই খ্রিস্টান ধর্মের সমালোচনা বেশী করেছেন।

সব প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বিরুদ্ধে হলেও আমি বিশেষভাবে করি ইসলামের সমালোচনা। কারণ আমি একটি মুসলিম পরিবারে জন্মেছি, এবং মুসলিম পরিবার থেকে নাস্তিক হওয়ার সময় যেই প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা ভালভাবে জানি। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। হিন্দু এবং খ্রিস্ট ধর্ম সম্পর্কেও আমি অনেক পড়ালেখা করেছি, কিন্তু সেগুলো বর্তমান সময়ে মৃতপ্রায় ধর্ম। বিষহীন সাপের মত মাঝে মাঝে ফোঁস ফোঁস করে।

নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য আফ্রিকার ভুডু ধর্ম কিংবা প্রাচীন গ্রীসের ধর্ম, দেবতা জিউস থর হোরাস ইত্যাদির সমালোচনা করার কোন উপযোগ নেই। কারণ সেসব ধর্মের মানুষ এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল, পাওয়া গেলেও তারা আমার বাঙলা স্ট্যাটাস পড়বে না, আর পড়লেও তাদের কিছু যাবে আসবে না। কারণ তারা এই সময়ে ধর্ম রক্ষার জন্য চাপাতি নিয়ে কোপাকুপি করে বলে মনে হয় না। হুরের লোভে আত্মঘাতি বোমা হামলা করে না। নিরীহ মানুষ মেরে কাফের হত্যার আনন্দ পায় না।

ছোট্ট পরীক্ষা হয়ে যাক। আমি মা কালী নিয়ে একটা কার্টুন ছাপি, যীশু, মোসেস এবং জিউসকে নিয়ে, বুদ্ধ এরপরে মুহাম্মদকে নিয়ে একটি কার্টুন দিই। কোন কার্টুনের জন্য আমাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার ঘোষণা হতে পারে? ভেবে বলেন তো।
আপনার শরীরের কোন অংশে পচন ধরলে আপনি যেই অংশটাতে বেশি পচন ধরেছে সেই অংশটুকুই তো আগে অপারেশন করে কেটে ফেলেন। নাকি নিরপেক্ষ হওয়ার জন্য পুরো শরীর কেটে ফেলে দেন? বা অল্প পচন ধরা অংশও কেটে ফেলেন? বেশি নিরপেক্ষতা দেখাতে গিয়ে পচন না ধরা অংশও কেটে ফেলেন? কোনটা করেন?
বা ধরুন আপনার হাঁটুতে চুলকাচ্ছে। আপনি কী নিরপেক্ষতার স্বার্থে সারা শরীর সমানভাবে চুলকান? নাকি শুধু হাঁটুতেই চুলকান?

■ ১৭)  বাঙলাদেশ তো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে নাস্তিকতার কথা বলে কী লাভ?

■ ১৮)  আপনার বাবাই আপনার বাবা, তার কোন প্রমাণ আছে?

■ ১৯)  কারো বিশ্বাসকে আঘাত করা ঠিক নয়?

■ ২০)  নাস্তিকরা জারজ সন্তান?

■ ২০)  আল্লাহ না থাকলে মাঝে মাঝে মাংশের গায়ে, মেঘের মধ্যে আল্লাহু লেখা কীভাবে দেখা যায়?

■ ২১)  আপনি নাস্তিক নাকি ধর্মবিদ্বেষী?

পর্ব-৪

১. সমাজে কি ধর্মের কোন অবদান নাই?

– বহুকাল আগে বিভিন্ন ধর্মের কিছুটা প্রয়োজন ছিল। মানুষের জ্ঞানের অভাবের কারণে নানা প্রশ্নের উত্তর মানুষ জানতো না। সেগুলোকে ব্যাখ্যা করবার জন্য তারা এরকম অনেক কাল্পনিক চরিত্র সৃষ্টি করেছিল। সেই চরিত্রগুলো তাদের প্রশ্নের উত্তর দিতে কাজে লাগতো। সেই সাথে, সামাজিক শৃঙ্খলার জন্যেও দরকার ছিল। তবে বর্তমান সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম শুধু অর্থহীনই নয়, ক্ষতিকরও বটে।  

২. আইনস্টাইনের মত বড় বিজ্ঞানী যেখানে আস্তিক ছিলেন, সেখানে নাস্তিকরা কী তার চেয়েও জ্ঞানী?

কে আস্তিক ছিলেন আর কে নাস্তিক, তা আস্তিক বা নাস্তিকতার সত্য হওয়ার পক্ষের কোন যুক্তি হতে পারে না। পৃথিবীর সকল মানুষ আস্তিক হলেও আস্তিকতা ভুল হতে পারে, আবার পৃথিবীর সকল মানুষ নাস্তিক হলেও নাস্তিকতা ভুল হতে পারে। একসময়ে বড় বড় দার্শনিকগণও পৃথিবীকে সমতল মনে করতেন। তাতে পৃথিবী সমতল হয়ে যায় নি। তাই ব্যক্তিজীবনে কে আস্তিক কে নাস্তিক, তার চাইতে জরুরি বিষয় হচ্ছে, আস্তিকতা বা নাস্তিকতা সম্পর্কে তারা কী কী তথ্য প্রমাণ ব্যাখ্যা উপস্থাপন করেছেন। তাই স্টিফেন হকিং এর নাস্তিক হওয়া যেমন নাস্তিকতার পক্ষের কোন যুক্তি হতে পারে না, আইনস্টাইন আস্তিক হয়ে থাকলে সেটিও আস্তিকতার পক্ষের কোন যুক্তি নয়। কিন্তু আইনস্টাইন কী আসলেই আস্তিক বা ধার্মিক বা ধর্মপ্রাণ ছিলেন? প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মে বিশ্বাস করতেন?

উনার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠির অনুবাদ নিচে দেয়া হলো।

… “ঈশ্বর” শব্দটি মানুষের দুর্বলতা থেকে সৃষ্ট এবং ভাব প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত একটি শব্দ ছাড়া আর কিছুই না। বাইবেল হল কিছু গৌরবান্বিত পৌরাণিক কাহিনীর সমাহার যা অত্যন্ত শিশুতোষ। যে কোন নিগূঢ় অর্থই করা হোক না কেন তা আমার ভাবনায় কোন পরিবর্তন আনবে না। এই নিগূঢ় অর্থগুলি স্বভাব অনুযায়ীই নানা ধরণের হয়ে থাকে এবং প্রকৃত পাঠ্যাংশের সাথে কোন সামঞ্জস্য থাকে না। অন্যান্য সব ধর্মের মত ইহুদী ধর্মও প্রধানত: শিশুতোষ কুসংস্কারের অনুরূপ। আমি খুশি মনেই নিজেকে যাদের একজন বলে মনে করি এবং যাদের মানসের সাথে রয়েছে আমার গভীর সম্পৃক্ততা, সেই ইহুদী জনগোষ্ঠীরও অন্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় আলাদা কোন বিশেষ গুণাবলী আছে বলে মনে করি না। আমার অভিজ্ঞতা থেকে এতটুকু বলতে পারি অন্যান্য জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা খুব বেশী উন্নতও না। যদিও ক্ষমতার অভাবে তারা সবচেয়ে খারাপ ধরণের ক্যান্সার থেকে সুরক্ষিত আছে। এছাড়া আমি তাদের মধ্যে এমন কিছু দেখিনা যাতে তাদের নির্বাচিত (ঈশ্বর কর্তৃক) বলে মনে হবে।

….The word God is for me nothing more than the expression and product of human weaknesses, the Bible a collection of honorable, but still primitive legends which are nevertheless pretty childish. No interpretation no matter how subtle can (for me) change this. These subtilised interpretations are highly manifold according to their nature and have almost nothing to do with the original text. For me the Jewish religion like all other religions is an incarnation of the most childish superstitions. And the Jewish people to whom I gladly belong and with whose mentality I have a deep affinity have no different quality for me than all other people. As far as my experience goes, they are also no better than other human groups, although they are protected from the worst cancers by a lack of power. Otherwise I cannot see anything ‘chosen’ about them.

৩. নাস্তিকরা কাকে সৃষ্টিকর্তা মনে করে?

– কাউকে নয়। সৃষ্টি  কর্তা বলে কিছুর অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় নি। স্রষ্টা, শয়তান, ফেরেশতা, জ্বীন, পরই, ভুত, দেবদেবী, রাক্ষস খোক্কস, দৈত্য দানব সবই পুরনো দিনের অযৌক্তিক বিশ্বাস। আধুনিক যুক্তিবাদী চিন্তাশীল শিক্ষিত মানুষ যুক্তিবুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীকে পর্যবেক্ষণ করে। বিশ্বাস দিয়ে নয়। 

৪. নাস্তিকরা কি ভূত বিশ্বাস করে? করলে, কেন করে?

– না করে না। তবে ভয় পাওয়া মানুষের এক ধরণের স্বাভাবিক অনুভূতি। যেমন মানুষ অন্ধকারকে ভয় পায়। এই ভীতি তাদের মধ্যে ঢুকেছে বিবর্তনের পরিক্রমায়। মানুষ যখন গুহায় বসবাস করতো, সেসময়ে তারা দেখেছে অন্ধকার হলে বন্য প্রাণী আক্রমণ করতে পারে। সেই ভীতি এখনো মানুষ বহন করে। অন্ধকার, অজানা কিছু, অদ্ভুত কিছু দেখলে সেই কারণেই মানুষের মনে ভয়ের অনুভূতি হতে পারে। সেটা আস্তিকদের যেমন, নাস্তিকদেরও তেমনি।

৫. আস্তিকেরা হুর-গেলমান-শরাবান তহুরার লোভে ধর্মের পথে। নাস্তিকেরা কীসের লোভে হুর-গেলমান-শরাবান তহুরার লোভ ত্যাগ করছে?

– কোন কিছু পাওয়ার প্রতিশ্রুতি নাস্তিকতা দেয় না। নাস্তিকতা কোন ধর্ম ব্যবসা নয় যে এটা করলে ওটা দেয়া হবে। নিতান্তই যুক্তি এবং বুদ্ধি ব্যবহার করে সত্যকে, পৃথিবীকে জানার চেষ্টাই নাস্তিকতা। তাই কোন লাভের আশা থাকলে নাস্তিকতা আপনার জন্য নয়।

৬. নাস্তিকরা ইউরোপের ভিসার জন্য নাস্তিকতা করে কেন?

– গত এক যুগের বেশি সময় ধরে ইউরোপ আমেরিকা সবচাইতে বেশি যাদের ইউরোপে ঢুকতে এবং বসবাসের সুযোগ দিয়েছে, তারা হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। এই সেইদিনই জার্মানি এক মিলিয়ন সিরিয়ান রিফিউজি নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। যেই জার্মানির ৪৭% মানুষই ধর্মহীন, তারা কেন মুসলমানদের এত সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে? অন্যদিকে, নাস্তিকদের নাস্তিক হওয়ার কারণে কোথাও কোন দেশ এসাইলাম দেয়, এরকম কখনই শোনা যায় নি।

৭. নাস্তিকরা নিজেদের আসল পরিচয় প্রকাশ করে না কেন?

– ইউরোপ আমেরিকায় নাস্তিকরা প্রকাশ্যে আসল পরিচয় দিয়েই থাকতে পারে। তবে ইসলাম একটি অতিরিক্ত শান্তির ধর্ম হওয়ার কারণে কোন মুসলিম দেশে নাস্তিকরা আসল পরিচয় দিতে ভয় পায়। কারণটা সহজেই অনুমেয়।

৮.কিছু নাস্তিক গোপনে কিংবা প্রকাশ্যে অন্য ধর্ম পালন করে?

– সাধারণত নাস্তিকগণ ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে সামাজিক কারণে অংশ নেন, অনেকে নেন না। যা আসলে ব্যক্তির ইচ্ছাধীন এবং তার সামাজিক সম্পর্কের ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। আবার, কথা বলার সময়ও অনেকে আল্লাহ রাম যীশু ইত্যাদি শব্দও ব্যবহার করেন। যার মূল কারণ হচ্ছে, ভাষা এবং সাংস্কৃতিক আচরণ। আমরা ছোটবেলা থেকে কোন আশ্চর্যজনক ঘটনা দেখলে হায়! আল্লাহ! ওহ রাম! ভগবান! হায় দুর্গা! ওহ জেসাস! ওহ মাই গড! ইত্যাদি বলে চিৎকার করি। সেগুলো আমাদের ভেতরে অবচেতনভাবে ঢুকে যায় এবং কোন অবাক করা কিছু দেখলে অনেক নাস্তিকই তাৎক্ষণিকভাবে নানা ধরণের ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করতে পারেন। তবে সেগুলো শুধুমাত্র স্বভাবজনিক বা সাংস্কৃতিক কারণে উচ্চারিত শব্দাবলী। তার মানে এই নয় যে, তারা আল্লাহ ভগবান যীশু জিউস হোরাস থর কালী ইত্যাদিদের আসলেই ডাকছে। 

৯.নাস্তিকতা নিয়ে আলাপ করে কী লাভ?

-সত্যানুসন্ধান এবং যুক্তি ও মেধার বিকাশ। মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটলে সমাজে ধর্মের অনাচার কমতে থাকবে বলেই নাস্তিকগণ মনে করেন। প্রমাণহীন যেকোন বিশ্বাসই ক্ষতিকর হতে পারে, যেহেতু তা যুক্তি বা প্রমাণের মুখাপেক্ষী নয়। তাই এই ক্ষতিকর সামাজিক উপাদানকে নাস্তিকগণ প্রশ্ন করেন, আঘাত করেন। এতে যা লাভ হয়, তা হচ্ছে, সততার সাথে যুক্তি প্রমাণ ও সত্যের প্রতি অবিচল একনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পায়।

১০. নাস্তিকরা কুরানে পেসাব পায়খানা করতে কিংবা পুড়াইতে চায় কেন?

১১. হাশরের ময়দানে নাস্তিকরা কি জবাব দিবো?

-হাশরের ময়দান হচ্ছে শিশুদের রূপকথার গল্পের মতই বয়সে বড় কিন্তু মননে ছোট মানুষদের রূপকথার গল্প। তাই হাশরের ময়দানে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।

১২. ভাই, আপনে নাস্তিক হইলেন কি বুইঝ্ঝা?

১৩. আপনে কি কখনও বড় ধরনের কোন মানসিক আঘাত পাইছিলেন?

১৪. ধর্মকর্ম করা তো তেমন কঠিন কিছু না, বেশি সময়ও ব্যয় করতে হয় না- তারপরেও কেন করতেছেন না?

১৫. আপনার কি মরনের ভয় নাই?

১৬.  আপনের সন্তানরেও কি আপনের মতো নাস্তিক বানাইবেন?

১৭.  নবী মোহাম্মদের বৈবাহিক জীবন নিয়ে নাস্তিকদের এতো প্রশ্ন কেন?

-কারণ নবী মুহাম্মদকে বলা হয় মুসলিমদের জন্য অনুকরণীয় অনুসরণীয় আদর্শ। কিন্তু এই যুগে কেউ যদি সেই আদর্শ অনুসরণ করতে গিয়ে বহুবিবাহ, শিশুকাম, যুদ্ধবন্দীদের সাথে যৌন সম্পর্ক, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্কের মত বর্বর অসভ্য ঘৃণিত এবং গর্হিত কাজ করে, সেটি হবে মস্তবড় বিপদের কথা।

১৮. নাস্তিকরা কি প্রয়াত অাত্বীয়দের জন্যে প্রার্থনা করেনা?

১৯. ইসলাম সত্য না হইলে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ভবিষ্য পুরাণে মুহাম্মদের নাম কীভাবে আছে?

পর্ব -৫

বিতর্কে আহবানের পূর্বে নিচের লেখাগুলো অবশ্যই পড়ে আসতে হবে।
Facebook Comments