ইতিহাস

ধর্মের সমালোচনা (Criticism of religion) বলতে বোঝানো হয় ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা, ধর্মীয় মতবাদ, ধর্মের যথার্থতা ও ধর্মচর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান, প্রথা, রীতি-নীতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ঈঙ্গিতসমূহের গঠনমূলক সমালোচনা।

ধর্মের সমালোচনার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সুদূর অতীতে প্রাচীন গ্রিসে, খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীতে দার্শনিক ‘মেলোসের নাস্তিক’ ‍দিয়াগোরাসের (Diagorus ‘the Atheist’ of Melos) মতবাদ থেকে শুরু করে, প্রাচীন রোমে, খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে রচিত দার্শনিক লুক্রেশিয়াসের রচনা De Rerum Natura (On the Nature of Things) প্রভৃতি ধর্মের সমালোচনার আদিমতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ধর্মের সমালোচনার বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষায় ধর্মের বিচিত্র সব সংজ্ঞা ও ধারণা পাওয়া যায় যেগুলো একটি আরেকটির থেকে নানাভাবে আলাদা। ধর্মীয় মতবাদসমূহের মধ্যে একেশ্বরবাদ, বহু-ঈশ্বরবাদ, সর্বেশ্বরবাদ, নিরীশ্বরবাদ প্রভৃতি শাখা-প্রশাখার এবং খ্রিষ্ট ধর্ম, ইহুদি ধর্ম, ইসলাম ধর্ম, তাওইজম, বৌদ্ধ ধর্ম এবং এরূপ অসংখ্য সুনির্দিষ্ট বিচিত্র মতবাদের অস্তিত্ব থাকায়, প্রায়শই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হয় না, যে ঠিক কোন ধর্মীয় মতবাদকে উদ্দেশ্য করে সমালোচনা করা হচ্ছে।

পৃথিবীর সব স্বতন্ত্র ধর্মই নিজেদের মতবাদের সত্যতা দাবি করে এবং অন্য সব স্বতন্ত্র ধর্মীয় মতবাদসমূহকে নাকচ করে। সমালোচনাকারীরা ধর্মের সমালোচনা করার সময় সাধারণত ধর্মগুলোকে সেকেলে, অনুসারী ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ, অনৈতিক আচরণ ও প্রথার উৎস এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।

ধর্মের সমালোচনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতাব্দীর বিখ্যাত রোমান কবি টাইটাস লুক্রেশিয়াস কেরাস তার রচনা দে রেরুম নাতুরা -তে বলেন:
(ইংরেজি)
« But ’tis that same religion oftener far / Hath bred the foul impieties of men. »
(বাংলা)
« কিন্তু এই একই ধর্ম প্রায়শই / মানুষের [মনে] নোংরা ধর্মদ্রোহিতার জন্ম দেয়। »
(লুক্রেতিউস)
এপিকুরিয় মতাদর্শের একজন দার্শনিক হিসেবে, লুক্রেশিয়াস বিশ্বাস করতেন যে, সমগ্র বিশ্বজগৎ পদার্থ ও শূণ্যস্থানের সমণ্বয়ে গঠিত এবং সকল জাগতিক ঘটনাকেই প্রাকৃতিক কারণের ফলাফল হিসেবে অনুধাবন করা সম্ভব। এপিকুরাসের ন্যায় লুক্রেশিয়াসও মনে করতেন যে ভয় ও অজ্ঞতা থেকেই ধর্ম জন্মলাভ করেছে এবং প্রকৃতিজগৎকে কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে অনুধাবনের মাধ্যমেই মানুষ ধর্মের শেকল থেকে মুক্তি পাবে; যদিও, তিনি ঈশ্বরদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনই ধর্ম কিংবা ধর্মসংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন না; কিন্তু তৎকালীন সমাজের প্রথাগত ধর্মসমূহকে তিনি অন্ধবিশ্বাস হিসেবে দেখতেন কারণ তার মতে সেগুলো এই শিক্ষা ‍দিতো যে, ঈশ্বরগণও প্রাকৃতিক জগতে হস্তক্ষেপ করে থাকেন।
ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি বলেন:
(ইংরেজি)
« We Italians are irreligious and corrupt above others… because the church and her representatives have set us the worst example. »
(বাংলা)
« আমরা ইতালীয়রাই সবার থেকে বেশি অধার্মিক ও দুর্নীতিবাজ… কারণ চার্চ এবং তার প্রতিনিধিত্বকারীরা আমাদের জন্য নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। »
(নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি)
মাকিয়াভেল্লির দৃষ্টিতে ধর্ম ছিল শুধুই একটি হাতিয়ার, যেটি জনমত নিয়ন্ত্রণে ইচ্ছুক শাসকদের খুব কাজে আসে।
আঠারো শতকের প্রখ্যাত দার্শনিক ভলতেয়ার ছিলেন একজন শ্বরবাদী এবং একইসাথে ছিলেন ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার কঠোর সমালোচক। তিনি ‘স্বর্ণনির্মিত গোবৎস’ উপাসনার দায়ে একদল ইহুদি কর্তৃক আরেকদল ইহুদিদের হত্যা ও অনুরূপ অন্যান্য ঘটনাবলি সম্পর্কে অভিযোগ ব্যক্ত করেন। সেই সাথে তিনি, খ্রিষ্টানদেরও ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে অন্য খ্রিষ্টানদের হত্যা এবং খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহন না করায় মার্কিন আদিবাসিদের হত্যা করার জন্য নিন্দা করেন। তিনি দাবি করেন যে, প্রকৃতপক্ষে নিহতদের সম্পদ লুঠ করার উদ্দেশ্যেই খ্রিষ্টানদের দ্বারা এই সকল হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। ভলতেয়ার মুসলিমদের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতারও সমালোচনা করেন।
এছাড়াও আঠারো শতকের অন্যতম প্রোথিতযশা দার্শনিক ও প্রাবন্ধিক ডেভিড হিউম ধর্মের সত্যতার সপক্ষে করা উদ্দেশ্যবাদী বা বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা যুক্তির সমালোচনা করেন। হিউমের মতে, মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলার কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত ব্যাখ্যাই অনেক বেশি যৌক্তিক। ধর্মের দার্শনিক ভিত্তির অযৌক্তিকতা তুলে ধরা ছিল হিউমের সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।
একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিককার সময়ে, নব্য নাস্তিক্যবাদের সমর্থক ও ধর্মের কঠোর সমালোচক হিসেবে স্যাম হ্যারিস, ড্যানিয়েল ডেনেট, রিচার্ড ডকিন্স, ক্রিস্টোফার হিচেন্স প্রমুখ প্রখ্যাত ব্যক্তির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ধর্মীয় ধারণাসমূহের সমালোচনা

ভার্নোনের রকভিলস সেন্ট্রাল পার্কে অবস্থিত স্থানীয় কানেক্টিকাট ভ্যালে নাস্তিক সংগঠন কর্তৃক নির্মিত একটি প্রতীকি ফলক যা ধর্মের সমালোচনা করছে এবং সেপ্টেম্বর ১১ এর ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। সংগঠনটি এর পরিপ্রেক্ষিতে এক সংবাদ বার্তায় জানায়: “নিঃসন্দেহে, ৯/১১ ধর্মান্ধদেরই অপকর্ম। তা সত্ত্বেও, আমরা মনে করি যে ধর্মীয় মধ্যপন্হীতাও মৌলবাদী সংগঠনগুলোর মাথাচারা দিয়ে উঠার ভিত্তি প্রদান করে।”
একেশ্বরবাদী ধর্মমতসমূহের প্রতি করা কিছু সমালোচনা:

বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন, কুরআনে 3:59, 4:1, 6:2, 18:86, 20:55, 37:10 প্রভৃতি আয়াতসমূহ ও বাইবেলের জেনেসিস অধ্যায়ে বর্ণিত সৃষ্টি উপকথা উল্লেখযোগ্য।
এমন আচরণের নির্দেশ দেয় যা বোধগম্য নয়। যেমন, বাইবেলের পুরাতন নিয়মে মিশ্র বুননের কাপড় পড়তে নিষেধ করা হয়েছে এবং দোষীসাব্যস্ত পিতামাতার সন্তানদেরও শাস্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় বিধানসমূহ আভ্যন্তরীণভাবে পরস্পরের সাথে সাংঘর্ষিক। যেমন, বাইবেলের ক্ষেত্রে ৪টি সুসমাচার ও নূতন নিয়মের মধ্যে আভ্যন্তরীণ অসামন্জস্যতা লক্ষ করা যায়।

‘প্রকৃত সত্য ধর্ম’ সম্পর্কে সাংঘর্ষিক দাবি
ঈশ্বরবাদী বিশ্বাস প্রসঙ্গে স্টিফেন রবার্টস বলেন, “আমি [তর্কের খাতিরে] দাবি করছি যে আমরা উভয়ই নাস্তিক, আমি শুধু আপনার চেয়ে একজন কম ঈশ্বরে বিশ্বাস করি মাত্র। আপনি যখন এটা বোঝেনই যে কেন আপনি অন্য সব সম্ভাব্য ঈশ্বরদের [অস্তিত্ব] প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলে এটাও [নিশ্চয়ই আপনি] বুঝবেন [যে] কেন আমি আপনার ঈশ্বরকে প্রত্যাখ্যান করি।”

চিরস্থায়ীত্বের অভাব
অপসোপজ ও হিচেন্স বিভিন্ন লুপ্ত ও প্রাচীন ধর্মমতকে উল্লেখ করেন যেগুলোর বর্তমানে আর কোন সক্রিয় অনুসারী নেই। তাদের মতে এসব ঘটনাই প্রমাণ করে যে ধর্মগুলোও চিরস্থায়ী নয়। লুপ্ত ও প্রাচীন ধর্মমতগুলোর মধ্যে গ্রিক পুরাণ, মিলারিজম, রোমান মিথোলজি, সাব্বাতায়ঈ যেভাই, নর্স মিথোলজি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ১৬৯–১৭৩

অনৈশ্বরিক উৎপত্তি হিসেবে ব্যাখ্যা

সমাজসৃষ্ট ধারণা

ক্রিস্টোফার হিচেন্স, যিনি একজন সাংবাদিক এবং God is not Great বইয়ের লেখক।
ডেনেট, হ্যারিস ও হিচেন্স দাবি করেছেন যে, ঈশ্বরবাদী ধর্মসমূহ ও তাদের ধর্মীয় পুস্তকসমূহ ঐশ্বরীয়ভাবে অনুপ্রাণিত (divinely inspired) নয়; বরং সামাজিক, জৈবিক ও রাজনৈতিক প্রয়োজনে সেগুলোকে মানুষই তৈরি করেছে।অপরদিকে, ডকিন্স ধর্মের ইতিবাচক উপযোগীতা (যেমনঃ মানসিক প্রশান্তি, সমাজগঠন, নৈতিক আচরণে উৎসাহদান ইত্যাদি) এবং ক্ষতিকর দিকগুলোর মধ্যে সমতাবিধানে (balance) সচেষ্ট হয়েছেন। এরূপ সমালোচনা ধর্মকে সমাজসৃষ্ট ধারণা, তথাপি আর দশটি মতাদর্শের মতই কেবলমাত্র একটি মানবসৃষ্ট মতবাদ হিসেবে গণ্য করে।
সান্ত্বনা দেওয়া ও তাৎপর্য প্রদানের আখ্যান
ডেনিয়েল ডেনেট যুক্তি দেখিয়েছেন যে, আধুনিককালে সৃষ্ট হওয়া ধর্ম- যেমন, রায়েলিজম (Raëlism), মর্মনিজম, সাইন্টোলজি, বাহাই ধর্ম প্রভৃতি ব্যতিত বাকি সকল ধর্মই মানব ইতিহাসের এমন এক পর্যায়ে উদ্ভূত হয়েছে যখন জীবনের উৎপত্তি, মানবদেহের কার্যকলাপ এবং নক্ষত্র ও গ্রহগুলোর প্রকৃতি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান ছিল অতি সীমিত।
মূলত সান্ত্বনা প্রদান এবং বৃহত্তর শক্তির সাথে সম্পর্কের অনুভূতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এসব উপাখ্যান বর্ণনা করা হতো। প্রাচীন সমাজে এসব উপাখ্যান বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতো। উদাহরণস্বরূপ, বিভিন্ন ধর্মে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ এবং ধূমকেতু বিষয়ে থাকা দৃষ্টিভঙ্গি এসবের অন্তর্ভূক্ত। বর্তমানে বস্তুজগৎ সম্পর্কে মানুষের অধিকতর সুস্পষ্ট জ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে, হিচেন্স, ডকিন্স এবং ফরাসি নাস্তিক দার্শনিক মিচেল অনফ্রে দাবি করেন যে, এখন আর অব্যাহতভাবে এসব বিশ্বাস ব্যবস্থা আকড়ে ধরে থাকা মোটেও যৌক্তিক বা উপযোগী নয়।

জনগনের আফিম

কার্ল মার্ক্স
(ইংরেজি)
« Religious suffering is, at the same time, the expression of real suffering and a protest against real suffering. Religion is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of soulless conditions. It is the opium of the people. »
(বাংলা)
« ধর্মীয় দুঃখ-দুর্দশা হলো একইসাথে, প্রকৃত দুঃখ-দুর্দশার বহিঃপ্রকাশ এবং [ঐ] প্রকৃত দুঃখ-দুর্দশার বিরুদ্ধে একধরণের প্রতিবাদস্বরূপ। ধর্ম হলো নিপীড়িত জীবের দীর্ঘঃশ্বাস, হৃদয়হীন পৃথিবীর হৃদয়, আত্মাহীন পরিস্থিতির আত্মা। এটা জনগনের আফিম। »
(কার্ল মার্ক্স)
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক কার্ল মার্ক্স-এর মতানুসারে, ধর্ম হলো শাসক শ্রেণি কর্তৃক ব্যবহৃত একটি হাতিয়ার, যা দ্বারা ধর্মীয় অনুভূতি অনুভবের মাধ্যমে জনগন সাময়িকভাবে নিজেদের দুঃখ প্রশমিত করতে পারে। শাসক শ্রেণি জনমনে এই ধর্মীয় বিশ্বাস প্রবেশ করায় যে, তাদের বর্তমান দুঃখ-দুর্দশাই ভবিষ্যতে তাদের ক্রমাণ্বয়ে সুখের পথে পরিচালিত করবে এবং এভাবে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করে। অতএব, যতদিন সাধারণ জনগন ধর্মে বিশ্বাস করবে, ততদিন তারা নিজেদের দুঃখ-দুর্দশা সমাধানকল্পে প্রকৃত কোন উদ্যোগ গ্রহন করবে না। মার্ক্স-এর মতে, যা জন্ম দেবে পুঁজিবাদী অথনৈতিক ব্যবস্থার। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে, মার্ক্স ধর্মকে দেখতেন একধরনের পলায়নবাদী প্রবৃত্তি হিসেবে।

এছাড়াও মার্ক্স খ্রিষ্ট ধর্মের ‘আদি পাপ’ মতবাদের বৈশিষ্ট্যকে গভীরভাবে সমাজবিরোধী হিসেবে দেখতেন। তিনি যুক্তি দেখান যে, আদি পাপের ধারণা মানুষকে আশ্বস্ত করে যে তার সকল দুঃখ-দুর্দশার কারণ সমাজের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের মাঝে দুর্বলতার রূপে নয় বরং তার সহজাত ও অপরিবর্তনযোগ্য মানবসত্ত্বার মাঝে ‘দুরাচার’ রূপে নিহিত আছে। অথচ মার্ক্স-এর মতে, সমষ্টিগত সামাজিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সামাজিক সংগঠনগুলোতে পরিবর্তর আনা সম্ভব, তথাপি মানুষের দুর্দশাও দুর করা সম্ভব।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

Facebook Comments
%d bloggers like this: